স্টাফ রিপোর্টার জসিম উদ্দীনঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার, কামারখালী ইউনিয়ন একত্রিত করেছে একটি সড়ক । কামারখালী-বকশিপুর সড়ক, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক গ্রাম ফুলবাড়িয়া, গন্ধ খালি, কোমরপুর, হেচলা, বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ এর জন্মস্থান সালামতপুর,নতুন নামকরণ রূপনগর গ্রাম সহ নাওড়াপাড়া, দয়ারামপুর, গয়েশপুর, চর গয়েশপুর বকশিপুর।
বর্তমানে সড়কটিতে এখনো আংশিক কাঁচা রাস্তা এবং আংশিক ইটের সলিং যা নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এবং নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি বেড়ে যায় আরও দ্বিগুণ। ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের পর, প্রায় ২০ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।নযেখানে কিনা সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ এর জন্ম। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ নির্মূলে, একাধিকবার ইটের রাস্তা থেকে পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) রাস্তায় উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিগত সময় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জুন অথবা জুলাইয়ে বাজেট এলেই সড়কটি ইটের সলিং (এইচবিবি) থেকে পিচ ঢালাইয়ের রাস্তা নির্মাণ করা হবে, অথচ এভাবেই রয়ে গেছে ২০ বছর। জানা গেছে, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের কামারখালী বাজার থেকে রুপনগর বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর পর্যন্তইটের সলিং বাকি অংশ কাঁচা রাস্তা রয়েছে। কামারখালী থেকে বকশিপুর আনুমানিক ১০ কিলোমিটার একত্রিত করেছে এই সড়কটি। প্রায় ২০ বছর আগে কামারখালি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের চলাচলে সুবিধার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক নির্মাণ করা হয় ১৬ ফুট প্রশস্তের ইটের সলিং সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেই সড়ক দিয়েই চলাচল করছে শত শত ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই ভ্যান, নসিমন ও বিভিন্ন যানবাহন। অতিরিক্ত সময় লাগছে যাতায়াতে, যেকোনো মুহূর্তে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয় সেই সাথে নদীর কোলে যাওয়ার ভয়। যেহেতু নদীর বুকে বয়ে গেছে রাস্তাটি! এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ গর্ভবতী নারী ও রোগীদের। এছাড়া এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনা, নেওয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার কৃষকদের। সড়কের কারণে পরিবহন খরচ বেশিসহ ঠিক সময় মতো বাজার ধরতে পারছেন না কৃষকেরা। তাই দ্রুতই সড়কটি কাঁচা রাস্তা ও ইটের সলিং থেকে পিচ ঢালাই সড়কে উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এক ভ্যানচালক বলেন, এই সড়কের বিভিন্নস্থানেবৃষ্টি হলে দাদা হয়ে এবং অনেকাংশ জায়গায় ইট ইঠে গিয়ে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সড়কের অধিকাংশ জায়গাই কাদা ও ভাঙা। বিগত অনেক বছরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা চাই এই সড়কটি মেরামত করা হোক।
এক অটো যাত্রী বলেন, এটি পিচের সড়ক করা উচিত। একটু উঁচু করে নির্মাণ করলে আরও ভালো হয়। তা না হলে বৃষ্টি বর্ষায় কাদা জমে যায়। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সড়ক দিয়ে মোটামুটি দশটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পাড়ায় পণ্য আনা নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয় এক কৃষক বলেন, সড়কটিতে ইটের সলিং দিয়েছিল প্রায় দুইযুগ আগে। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে আমাদের। নিজেদের খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। না হলে ভ্যান চালকেরা যেতে চায় না। দ্রুতই সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের দাবি আমাদের। কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বলেন, এলাকাবাসীর দাবির সঙ্গে আমিও একমত। সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই সবার সুবিধার কথা মাথায় রেখে দ্রুতই সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করার দাবি জানাই।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত