স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্প, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে নানা অভিযোগ ঘুরপাক খেলেও কার্যকর তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে সাইদুর রহমানের নাম বারবার সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে প্রশাসনিক হয়রানি, বদলির চাপ, পদোন্নতি বঞ্চনা কিংবা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি বহিরাগত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। জানা যায়, এক সময় সাধারণ জীবনযাপনকারী সাইদুর রহমান বর্তমানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক। তার সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং পারিবারিক সম্পদের বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সম্পদের উৎস নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে বহু অজানা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। শুধু সম্পদের প্রশ্নই নয়, তার চাকরি জীবন নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী চাকরি জীবনের কিছু তথ্য গোপন করে তিনি বিআইডব্লিউটিএতে যোগদান করেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদপত্র নিয়েও সন্দেহ করেছে একাধিক সূত্র। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএ অফিসার্স ক্লাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত ক্লাবের অর্থের উৎস ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। ক্লাব পরিচালনায় সরকারি জনবল ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজস্ব খাতের কর্মচারীদের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হলে তা সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল। অন্যদিকে প্রকল্পভিত্তিক যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর অভ্যন্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে, যার কারণে অনেকেই অনিয়ম দেখেও মুখ খুলতে সাহস পান না। তারা মনে করেন, সাইদুর রহমানকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ, সম্পদের উৎস, প্রশাসনিক প্রভাব এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আর্থিক কর্মকাণ্ড স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। এবিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাইদুর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত