নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে, ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘুষ ব্যাতীত কোন ফাইল, তাঁর টেবিলে উঠে না, ফলে সাধারণ মানুষ তথা সেবাপ্রার্থীদের, নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়, দেখার কি কেউ নাই?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার হল: govt is of the people, by the people, for the people. অর্থ্যাৎ সরকার হল জনগণের, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য। সেই কথা মণ-মননে ধারণ করে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করছেন বলে, তিনি ইতিমধ্যে সরকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দেশের জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, তাঁরা সরকারী কোন দপ্তরে গেলে, সরকারী সেবা পেয়ে যাতে উপলব্ধি করতে পারে। সেখানে! দাগনভূঁইয়ার ইউএনও উপজেলার প্রধান কার্যনির্বাহী হলেও, দায়িত্ব পালনে, ঘুষ, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্যর নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাই নিদিষ্ট সময়ে অফিসে আসতে পারেন না, তাঁর বাসায় ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও শাহীদুল ইসলাম খাল কাঁটা মাটি বিক্রি থেকে শুরু করে, টিআর কাবিখা ও সরকারী নানান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১২% (বার পারসেন্ট) করে কমিশন বাণিজ্য করেন। যা তাঁর নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন বলে জনশ্রুতি আছে।
এক ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে প্রতিবেদককে জানান, উপজেলা পরিষদের সামনের খালে, ড্রেজিং করে তোলা অনেকগুলো মাটি ছিল। যা আমি আমার পৌরসভা কেন্দ্রিক ক্রয়কৃত একটি জায়গা ভরাটের জন্য চেয়েছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, উওোলনকৃত মাটিগুলো ইউএনও স্যার, তাঁর জৈনিক ক্যাশিয়ার (অফিস সহকারী)-এর মাধ্যমে গাড়িভেদে এক-হাজার, দুই-হাজার, তিন হাজার করে বিক্রি করতেছেন। তা শুনে আমি-ও এক লোকের মাধ্যমে কিনতে চাইলাম। আমার ঐ লোক খবর নিয়ে জানলেন: এটা খুব গোপনে বিক্রি হচ্ছে। তাহলে কথা হল: মাটি বিক্রিকৃত টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়েছে? মনে হয় না! কারণ হল: আমি যতটুকু জানি, সরকারি কোষাগারে তখন জমা হবে, যখন তাঁর নিলাম হবে। নিলামে বিক্রিকৃত টাকা, সরকারী কোষাগারে জমা হয়। নাম না প্রকাশের শর্তে, জৈনিক ব্যাক্তি বলেন, ইউএনও শাহীদুল, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু করে, টিআর কাবিখাসহ সব প্রকল্পে ১২%(বার পারসেন্ট) করে ওনাকে দিতে হয়। এখন কথা হল, তিনি কি ইউএনও? না! কমিশন এজেন্ট?
রহিমা বেগম নামে জৈনিক ভূক্তভোগী বলেন, আমাদের পরিবারের লোক বাদী হয়ে, উপজেলার স্যারের (ইউএনও) কাছে একটা অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর কোন খোঁজ-খবর নাই। তাই খবর নিয়ে জানতে পারলাম। ইউএনও'র ক্যাশিয়ারের কাছে, টাকা না দিলে কাজ হবে না। পরে টাকা-ও দিলাম। তা-ও খবর নাই। আবার গিয়ে খবর নিয়ে জানতে পারলাম, ওনাদের মন ভরেনি। সেজন্য দেরি হইতেছে। পরে অবশ্য অনেকবার তাগিদ দেয়ার পরে শুনানি করেছে। দাগনভূঁইয়ার অসংখ্য সাংবাদিকদের সুত্রে জানাযায়, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তিনি সেসব অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ও তদন্ত চলছে মর্মে সাংবাদিকদের জানান। তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। পরে লোকমুখে শুনা যায়, টাকা দিয়ে ওনাকে ম্যানেজ করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম নামে এক ভূক্তভোগীর ভাষ্য, ইউএনও শাহীদুলের মত এতবড় দুর্নীতিবাজের কথা, জীবনে আর শুনিনি। তিনি টিআর কাবিখা প্রকল্পের লোকদের বুদ্ধি দেন, এভাবে এভাবে করেন আপনার লাভ হবে। চেক তো আমি ইস্যু করব, অসুবিধা নাই। টেনশান কইরেন না।
উপজেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বাহাদুর চেয়ারম্যান বলেন, দাগনভূঁইয়া উপজেলায় আমাদের হাতের উপর দিয়ে অনেক ইউএনও আসছে গেছে। তবে এই লোকের মত অযোগ্য, অথর্ব, দুর্নীতিবাজ লোক। আর কখনও আসে নাই। প্রতিদিন কারো না কারো অভিযোগ, আমাদের কাছে আসে। আমরা তা শুনতে শুনতে ত্যাক্ত, বিরক্ত, বিব্রত। কি করব? আমরা তো জনগণের জন্য রাজনীতি করি। তাই জনগণের সুখে-দু:খের সব কথা শুনতে হয়। উক্ত অভিযোগ বিষয়ে জানতে, ইউএনও মো. শাহীদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে, তাঁর ফোনে সংযোগে ব্যার্থ হন প্রতিবেদক। এদিকে! স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ইউএনও'র সার্বিক কার্যক্রম, সঠিকভাবে তদারকি হচ্ছে কি না? অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে, সিভিল প্রশাসনের প্রতি, জনগণের আস্থা আর-ও বৃদ্ধি পাবে। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র, জনসম্মুখে তুলে আনা উচিত। জনসেবামূলক কার্যক্রম: ঘুষ, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্যর কারণে, কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত