ফারজানা আক্তার শ্রাবণীঃ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর জোন-৫/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম, দায়সারা অভিযান এবং আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক মোঃ মেহরাব হোসেন। একই সঙ্গে এই অনিয়মে অথোরাইজড সাইদা ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধে রাজউকের নির্ধারিত আইনগত কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং মোবাইল কোর্টের নামে পরিচালিত হচ্ছে লোক দেখানো অভিযান। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা, ভবন ভাঙার নির্দেশ বা মামলা করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বা অন্যান্য মিটার খুলে নেওয়া এবং অস্থায়ী সরঞ্জাম অপসারণের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। এসব অভিযান মূলত আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণ বন্ধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট ভবন মালিকের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে।
একজন অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু ভবন মালিকের সঙ্গে মেহরাব হোসেনের অস্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে। ওইসব স্থানে অভিযান হয় শুধুই আনুষ্ঠানিকতার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নরম অবস্থান নেওয়া হয়। অভিযোগ করলে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।“
মোহাম্মদপুরের সিমেক্স প্রপার্টিজের চানমিয়া হাউজিং এর এক ভবন মালিক লিখিত ও মৌখিকভাবে সরাসরি ইমারত পরিদর্শক মেহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্নভাবে আর্থিক লেনদেনে বাধ্য করা হয় এবং অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে ভবন মালিক তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বাসার বিদ্যুৎ মিটার খুলে নেওয়া হলে এ বিষয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করতে , অথোরাইজড সাইদা ইসলামের দিকে ইঙ্গিত করেন মেহরাব হোসেন, বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গণমাধ্যম কর্মীরা এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,এইসব অভিযোগ/ কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত নয় সবকিছুই ভিত্তিহীন এবং “অথোরাইজড সাইদা ইসলাম সবকিছুই জানে তার কথাতেই সবকিছু হয়।” তবে এ বিষয়ে সাইদা ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হয় কিন্তু তিনি কোন ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি।
অভিযোগ রয়েছে, মেহরাব হোসেন ও সাইদা ইসলাম সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় গাফিলতি করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ভবন বা স্থাপনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না, ফলে অবৈধ নির্মাণ নির্বিঘ্নে চলতে থাকে। আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণে নীরব সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোন-৫/১ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বেড়েই চলেছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনিয়মিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বারবার অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অবৈধ নির্মাণ থামানোর বদলে এগুলো আরও বাড়ছে।”
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজউকের মোবাইল কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গাফিলতি থেকে গেলে তা পুরো নগর ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ভবিষ্যতে নগর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ রোধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ নতুন নয়। জোন-৫/১ এলাকায় সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত