সাভার প্রতিনিধিঃ
সাভারের আনন্দপুর এলাকায় মাদ্রাসার নামে নির্মাণাধীন একটি ভবনকে ঘিরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি, পৌর আইন, নির্মাণ বিধিমালা এবং জনস্বার্থকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করে রাস্তা দখল ও প্রতিবেশীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ সবকিছু যেন ঘটছে প্রশাসনের চোখের সামনেই।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বি.আর.এস. রেকর্ডভুক্ত ৮ ফুট প্রশস্ত রাস্তার অংশ দখল করে এবং তিনটি বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ভবনের কলাম নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য একটি চলাচলের রাস্তার অংশও ভবনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির কোনো বৈধ নকশা অনুমোদন নেই। পৌরসভা কিংবা রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইউসুফ আলী চুন্নু। তার সঙ্গে রয়েছেন কমিটির সেক্রেটারি মো. সাহানুর আলম শিপলু ও সদস্য মো. মাসুম উদ্দিন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই তিনজনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ চলছে এবং আপত্তি জানাতে গেলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক বলেন, আমার বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে কলাম নির্মাণের প্রতিবাদ করতেই আমাকে বলা হয়েছে-তোমার বাউন্ডারি ভেঙে সরিয়ে নাও। এরপর থেকে আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আরও দুই ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিযোগ করলেও সম্ভাব্য হয়রানি ও নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউসুফ আলী চুন্নু সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। তার বিরুদ্ধে অতীতেও জমি দখল, প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দায়ের হওয়া একটি ছাত্র হত্যা মামলায়ও তার নাম রয়েছে। এছাড়া তার ছেলে আবির মাহমুদ (২৫) গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ৫ আগস্টের একটি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গেন্ডা সীমা জেনারেল হাসপাতালের উত্তর পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কের মাথায় নির্মাণাধীন ভবনের জন্য শর্ট কলাম নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন কলাম রাস্তার কিনারা ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চলাচল, নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ভবনটির সব কাগজপত্র বৈধ হয়, তাহলে কেন প্রতিবেশীদের মতামত উপেক্ষা করা হলো? কেন রাস্তার সীমানা ঘেঁষে কলাম নির্মাণ করা হলো? আর যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে কার ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্যে এই নির্মাণকাজ চলছে?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল। সেই মানসিকতার ধারাবাহিকতায় এখনো কিছু ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তিকে আইনের চেয়ে বড় মনে করছেন। আনন্দপুরের এই ঘটনাও তারই একটি উদাহরণ কি না, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। জনগণের চলাচলের রাস্তা দখল, অনুমোদনহীন নির্মাণকাজ, প্রতিবেশীদের অধিকার লঙ্ঘন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এক
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত