মো. জুয়েল হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধঃ
যমুনা নদীর পানির তীব্র ঘূর্ণাবর্তন ও তীরবর্তী এলাকায় গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বাহুকা পয়েন্টে নদী তীর রক্ষা বাঁধে ধস নেমেছে। আকস্মিক এই ধসে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সাথে যমুনার পানি উঠানামার কারণে চৌহালী ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের পলকে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী অববাহিকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে হঠাৎ করেই সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে যমুনা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস নামতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার এলাকা ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বাঁধ ভেঙে নদী লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, জেলার চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এবং শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে প্রতিদিন মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও আয়ের একমাত্র উৎস ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, যমুনার পানি ক্রমাগত উঠানামা করায় নদী তীরের মাটির স্থায়িত্ব কমে গেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ’কে জানান, "বর্তমানে যমুনা নদীর পানি কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। পানি উঠানামার এই প্রভাবেই অরক্ষিত অঞ্চলের কিছু কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান ভাঙনের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, বাহুকা এলাকায় নদী তীর থেকে সামান্য দূরে একটি নতুন চর জেগে উঠেছে। এর ফলে মূল স্রোতটি তীরের দিকে চেপে আসায় সেখানে পানির গভীরতা অনেক বেড়ে গেছে। এই গভীরতা এবং পানির তীব্র ঘূর্ণাবর্তনের কারণেই মূলত বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা ধসে গেছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বাহুকার ভাঙন কবলিত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ (বালুভর্তি বস্তা) ফেলে ধস ও ভাঙন আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এছাড়া চৌহালী এলাকার ভাঙন রোধেও জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। তবে শাহজাদপুরের সোনাতনী চর এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিলেও সেখানে এই মুহূর্তে স্থায়ী বা তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের কারিগরি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাঁধ ধসে পড়া এবং নতুন করে নদী ভাঙন শুরু হওয়ায় ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষজন এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। তীরবর্তী বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে নয়, বরং যমুনার এই ভয়াবহ ভাঙন থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত