নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লা সদর উপজেলার ১৬৩ নম্বর চানপুর মৌজার একটি জমি নিয়ে চলমান দেওয়ানী মামলার মধ্যেই খারিজ বাতিলের মাত্র দুই দিন পর নতুন করে নামজারি খতিয়ান সৃজনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে খতিয়ানধারী হিসেবে উল্লেখিত ব্যক্তির নামে দুটি ভিন্ন জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহারের তথ্য সামনে আসায় পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৬৩ নম্বর চানপুর মৌজার বি.এস ২৫৮, খতিয়ানের ৬৭৮ নম্বর দাগের জমি নিয়ে কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী বণ্টন মামলা নং ২২৫/২০২৪ বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে, রেকর্ড সংশোধন মামলা নং ৩৩৯/২০২৪-২৫ এর আদেশে আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২ মার্চ ২০২৫ তারিখে ২৪৩৫, ২৪০০ ও ২৪৪২ নম্বর খতিয়ান বাতিল করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা চলমান থাকায় এসব খতিয়ান বহাল রাখা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে বাতিলকৃত ভূমি পূর্ব জোত অর্থাৎ বি.এস ২৫৮ নম্বর খতিয়ানে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, উক্ত আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই মাত্র দুই দিন পর, ৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে নতুন আবেদন দেখিয়ে ততকালীন ৫ নং পাস্থবির, ইউনিয়ন এর তহসিলদার আব্দুল আলিম তরি গরি করে নতুন আবেদন দেখিয়ে নতুন পস্তাব দিয়ে পার্থীর নামের শেষে মজুমদার শব্দটি বাদ দিয়ে, একই জমিতে ২৫০৮ নম্বর জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও আবেদনকারী মো. ইউনুছ মেম্বারের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বে বাতিল হওয়া খতিয়ানের সুবিধাভোগীদের নামেই পুনরায় নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়েছে। তার দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা এবং তহসিলদার আব্দুল আলিম খতিয়ান বাতিলের বিষয়টি গোপন রাখিয়া মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে খারিজ খতিয়ান স্রিজন করতে সক্ষম হয়, এবেপারে তহসিলদার আব্দুল আলিম কে কল করিলেও তিনি বিষয় টি এরিয়ে যান, কর্তৃক খতিয়ান বাতিলের আদেশ থাকা সত্ত্বেও নতুন খতিয়ান সৃজনের বিষয়টি রহস্যজনক এবং এমনটি সম্ভব নয়। দুটি জন্মনিবন্ধন নম্বর, একজন ব্যক্তি, নথিপত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি দেখা গেছে। একটি খতিয়ানে মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম মজুমদার নামে একজন ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নম্বর উল্লেখ রয়েছে ১৯৭৯১৯৯৫০২৭২৩৮৪৭১।
অন্য একটি খতিয়ানে প্রায় একই নাম, একই পিতা-মাতা ও একই ঠিকানার ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭৫১৯৯৫০২৭১২৭৯২৭। দুই খতিয়ানে ব্যক্তির নাম, পিতা, মাতা ও ঠিকানা প্রায় অভিন্ন হলেও জন্মনিবন্ধন নম্বর সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে-এগুলো কি একই ব্যক্তির দুটি জন্মনিবন্ধন? যদি তাই হয়, তবে কোনটি বৈধ এবং কোন পরিচয়ের ভিত্তিতে নামজারি করা হয়েছে? এসিল্যান্ডের আদেশে কী বলা হয়েছিল? রেকর্ড সংশোধন মামলা নং ৩৩৯/২০২৪-২৫ এর আদেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উল্লেখ করেন যে, ২৪৩৫, ২৪০০ ও ২৪৪২ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ভূমি নিয়ে দেওয়ানী মামলা নং ২২৫/২০২৪ বিচারাধীন রয়েছে। ফলে উক্ত খতিয়ানসমূহ বাতিল করে জমি পূর্বের বি.এস ২৫৮ নম্বর খতিয়ানে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভূমি সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন অবস্থায় নতুন করে নামজারি সৃজনের ক্ষেত্রে আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকলে তা তদন্তের দাবি রাখে। ঘুষ ও যোগসাজশের অভিযোগ, আবেদনকারী তার লিখিত অভিযোগে তৎকালীন তহশিলদার আ:আলিম, নাজির :আবুল বাশার, কানুনগো, অফিসের অসাধু কর্মচারী জিয়া ও স্থানীয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে যোগসাজশে অবৈধভাবে খতিয়ান সৃজনের অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে এসব নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উক্ত বিষয় জানতে পাচথুবী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী তসীলদার আব্দুল আলিমকে মুঠো ফোনে ফোন করে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় উক্ত জমিটির মামলা আদলতে চলোমান অবস্থায় আছে বলে খারিখ বাতিল করে আবার ব্যক্তি নামের আগে পিছে পরিবর্তন করর কি ভাবে এক দিনে খারিজ বাতিল করে আবার নতুন আবেদন করে তদন্ত করে কি ভাবে খারিজ দেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি জানান উক্ত বিষয় কুমিল্লা সদরের এসিল্যান্ড তানজিলা জাহান এর কথা মতে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের দাবি, ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারাধীন জমিতে নামজারি, বাতিল খতিয়ানের পরপরই নতুন খতিয়ান সৃজন এবং একই ব্যক্তির নামে একাধিক জন্মনিবন্ধনের মতো বিষয়গুলো গুরুতর প্রশাসনিক ও আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জেলা প্রশাসন, ভূমি মন্ত্রণালয় কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব নথি, আবেদন, খতিয়ান এবং জন্মনিবন্ধন তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ভুক্তভোগীরা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত