স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজধানীর আজিমপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন লেনদেন, ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং সরকারি পুরাতন সম্পত্তি কম মূল্যে বিক্রির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম এবং তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামিয়াব হায়দার চৌধুরীর পুত্র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিল প্রক্রিয়াকরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াব বিশেষ প্রভাব বিস্তার করছেন। অনেক ঠিকাদারের অভিযোগ, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে বিভিন্ন কাজ পেতে কিংবা বিল ছাড় করাতে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন: অভিযোগ রয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায়। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক ক্ষেত্রে কাজের বরাদ্দ পাওয়ার আগে এবং পরে কমিশন প্রদানের অলিখিত সংস্কৃতি চালু রয়েছে। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা অজুহাতে বিল আটকে রাখা বা কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।
সরকারি সম্পত্তি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ: গণপূর্ত বিভাগের পুরাতন মালামাল ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে সরকারি সম্পদ বিক্রি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী। অভিযোগকারীদের মতে, নিলাম প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করে পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিদের কাছে সম্পদ হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে সরকারি সম্পদের প্রকৃত মূল্য আদায় হয়নি।
অঘোষিত ক্যাশিয়ার অভিযোগ: বিভাগের ভেতরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াবকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো তিনি বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং বিভিন্ন আর্থিক বিষয় তদারকি করেন। এ কারণে বিভাগের অনেকেই তাকে ‘অঘোষিত ক্যাশিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে এই অভিযোগের স্বপক্ষে এখনো কোনো আদালত-স্বীকৃত বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশাসন বিশ্লেষকরা।
স্বচ্ছ তদন্তের দাবি: জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতির শামিল। তাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে ওঠা টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন লেনদেন, ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগ এখন জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তদন্ত। তদন্তে
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত