বাদল চৌধুরীঃ
আল্লাহ এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন মানুষ ও জিন জাতির জন্য। মানুষ ও জীন জাতির বেঁচে থাকার জন্য পাহাড় পর্বত টিলা সমতল নদী-নালা খাল বিল সমুদ্র মহাসমুদ্র গাছপালাসহ আঠার হাজার মাকলুকাত দিয়েছেন ভারসাম্য রক্ষায় পরিবেশ মানবজীবনের বেঁচে থাকার অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য গণতন্ত্র, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ু ও পানি দূষণ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা,খাল বিল নদী নালা জলাশয় ভরাট,যেখানে সেখানে ময়লা ও থুথু ফেলা, প্লাস্টিক বর্জ্যের বিস্তার এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় আজ বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি, আর সেই সচেতনতা গড়ে তুলতে গণমাধ্যম পালন করতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর ভূমিকা। বর্তমান যুগে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান উৎস। গণমাধ্যম পরিবেশ দূষণের কারণ, এর ভয়াবহ প্রভাব এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত তথ্য প্রদান করে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ফিচার, টকশো ও সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যাগুলোকে জনসমক্ষে তুলে ধরা সম্ভব হয়। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেশি। নদী দখল, পাহাড় কাটা, অবৈধ ইটভাটা, শিল্পবর্জ্যের কারণে নদী দূষণ কিংবা বনভূমি ধ্বংসের মতো বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। ফলে গণমাধ্যম একদিকে যেমন জনগণকে সচেতন করে, অন্যদিকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের ফলে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা তৈরির সুযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত দায়িত্ব হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান সংক্রান্ত বার্তা খুব দ্রুত অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি। পরিবেশসংক্রান্ত তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা ভুল তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই তথ্যভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে।
গণমাধ্যম ছাড়াও শিক্ষা ধর্মীয় ও ক্লাব এধরণের প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষকে সচেতন করতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, পরিবেশ সুরক্ষার লড়াই শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। আর জনগণকে এ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলা এবং একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণে গণমাধ্যমের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সময়ের দাবি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত