নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের বর্তমান পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ উপায়ে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে তিনি অবরুদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন বিআইডব্লিউটিএর এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করেন তিনি। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার এমন নৈতিক স্খলনজনিত কাণ্ড এবং অর্থ দিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর উপজেলার এন্ডারসন রোড এলাকায় অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি তিনি মাত্র ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় টোকিও মিল জেভি নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন। এই বিশাল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় ক্ষতির ঘটনায় পরিচালক আরিফ হাসনাতসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও জমা পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন আরিফ হাসনাত। এই প্রভাবশালী মহলের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পদ বাগিয়ে নেন এবং হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের একটি কমিটি তার বিরুদ্ধে মূল অনুসন্ধানটি শুরু করে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক চিঠির মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর কাছে আরিফ হাসনাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক নথিপত্র তলব করা হয়। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) তার দায়িত্ব পালনকালীন সমস্ত ব্যাংক হিসাব ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের বিবরণীও তলব করা হয়েছে। পূর্বে তিনি ঢাকা সদরঘাটের যুগ্ম-পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত