সোহাঈদ খান জিয়া, চাঁদপুরঃ
চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডে অবস্থিত প্রিমিয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ হাসপাতালের কর্ণধার হচ্ছেন ডা: মোবারক হোসেন। ডা. মোবারক হোসেনকে দেখাতে হলে অ্যাসিস্টেন্ট দ্বারা আগেই পরীক্ষা নিরীক্ষা লিখে নিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়। যা প্রতারণার সামিল। এভাবেই চলে আসছে তার প্রতারণা।
জানাযায়, ডা. মোবারক হোসেন বিভিন্ন রোগের রোগী দেখেন ও বিভিন্ন অপারেশন করে থাকেন। তাকে দেখানোর জন্য যে সকল রোগী হাসপাতালে গিয়ে থাকেন সে সকল রোগীরা ডাক্তার মোবারক হোসেনকে দেখানোর জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমনকি প্রতারণার শিকার হয়ে আসছে। আর লাভবান হচ্ছেন ডা. মোবারক হোসেন। একজন রোগী ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা নিতে গিয়ে যদি প্রতারণার শিকার হতে হয় তাহলে রোগীরা কার নিকট চিকিৎসা সেবা নিবেন। এমন এক প্রতারক চিকিৎসক হচ্ছেন ডা. মোবারক হোসেন। যার চেম্বারে বিকেল ৫ টার সময় ডা. মোবারক হোসেনকে দেখানোর জন্য সিরিয়াল দিলে রাত ৯ টা অথবা সাড়ে ৯ টা বাজে তাকে দেখাতে হয়। বিকেল ৫ টা থেকে রোগীরা রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নিচতলায় সিরিয়াল দিয়ে নাম লিখে কিছু সময় পর পাশের রুমে পেশার মাপানো হয়। পেশার মাপানোর সময় ডা. সহকারী রোগীর রোগের কথা শুনে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন। পরীক্ষার রিপোর্টের কাগজ নিয়ে সিরিয়াল দাতার কাছে কাগজ জমা দিলে ১ টি কাগজ রেখে ১ টি কাগজ রোগীর হাতে দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা করানোর জন্য পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা করানো শেষে রিপোর্ট নিয়ে রাত ৯ টা থেকে সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ডা. মোবারক হোসেনের জন্য অপেক্ষা করে তাকে দেখাতে হয়।তিনি এসে রিপোর্ট দেখে রোগীকে ঔষধ লিখে দিয়ে থাকেন।
এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তার নিকট আসা রোগীরা প্রতারণার শিকার হয়ে আসছে। এভাবে অনিয়ম করে দীর্ঘদিন ধরে ডা: মোবারক হোসেন রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন । তিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিস্টেন্ট দিয়ে রোগীর পরীক্ষা করানোর কাজটি করিয়ে আসলেও কেউ এসব বিষয়ে মুখ খুলছেন না। কিন্তু তার প্রভাবশালীতার ভয়ে কেউ কিছু বলেনি। সরজমিন শনিবার (২০ জুন ২৬) বিকেল সোয়া ৫ টায় প্রিমিয়ার হাসপাতালে রোগী সেজে ডা: মোবারক হোসেনকে দেখানোর জন্য যাওয়া হয়। রিসিপশনে ডা: মোবারক হোসেনকে দেখানোর কথা বললে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, স্যারকে দেখাতে রাত ৯ টা বা সাড়ে ৯ টা বাজবে। তার কথা শুনে রাজি হলে তিনি নাম জানতে চাইলে রুবেল, বাগাদী ছদ্ম নাম ব্যবহার করা হয়। নাম লিখার পর বলেন আপনার সিরিয়াল (২২) নাম্বার। সামনে বসেন আপনাকে ডাক দেওয়া হবে। ৩/৪ মিনিট পর রুবেল নামের ছদ্ম নামে ডাক দিলে রিসিপশনে গেলে পাশের রুমে পাঠান। পাশের রুমে যাওয়ার পর রোগের বর্ণনা শুনে পেশার মেপে কাগজে পরীক্ষার রিপোর্ট গুলো টিক চিহ্ন দিয়ে দুটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দেয়। কাগজ দুটি রিসিপশনে জমা দেওয়ার পর একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে রিপোর্ট গুলো করিয়ে রাখেন রাতে স্যার আসলে তাড়াতাড়ি দেখিয়ে যেতে পারবেন। তার কথা শুনে প্রতি উত্তরে তাকে বলি আসরের নামাজ পড়ে এসে রিপোর্ট গুলো করাবো। তিনি বললেন ঠিক আছে। কিছু না বলে সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসি। এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের বাইরে থাকা ডাক্তারের জন্য অপেক্ষায় থাকা এক রোগী বললেন ডা: মোবারক হোসেনের নিকট আসলে আগেই পরীক্ষা করাতে হয়। কিন্তু পরীক্ষা করানোর জন্য ডা. মোবারক স্যারের অ্যাসিস্টেন কাগজে টিক চিহ্ন দিয়ে দেন।তারপর পরীক্ষা করে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। রাতে ডা. আসলে রিপোর্ট দেখে ঔষধ লিখে দেন। ডাক্তার নিজে না দেখে অ্যাসিটেন্ট দিয়ে ঔষধ লিখে দিলে রোগীরা অপেক্ষা না করে চলে যেতে পারে। এতে সময় কম লাগবে।এমন প্রতারণা করার কি দরকার।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত