নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের নোয়াখালী ও সেনবাগ অঞ্চলে আলোচিত ঋণ অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত শেষে প্রস্তুত হওয়া চার্জশিট ফাইল নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানো হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী ও সেনবাগ এলাকার বিতর্কিত ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পর একটি চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফাইলটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের এক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (ডিএমডি) দপ্তরে অবস্থান করছে এবং তা এখনো ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, চার্জশিটের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে তদন্ত-পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী মহলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সরকারি নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঋণ অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শাখার বিরুদ্ধে অডিট পর্যায়েও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছিল। কিন্তু সে অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে তারা মনে করেন।
এদিকে ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাদের অভিযোগ, অতীতেও তথ্যপ্রযুক্তি ও কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে ছিল। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত বা বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘসূত্রতা জনআস্থা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, স্বচ্ছ তদন্ত, নথিপত্রের যথাযথ পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ মনে করে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জনসম্মুখে আসলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। ছবি ক্যাপশন: শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দার, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত