ফারজানা আক্তার শ্রাবণীঃ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোন-৬/১ এর ইমারত পরিদর্শক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পিয়ালের বিরুদ্ধে দুই নারী সংবাদকর্মীর সঙ্গে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই নারী সাংবাদিক রাজউক সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নেওয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পেশাগত শালীনতার পরিপন্থী আচরণ করেন এবং অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগতভাবে অপমানজনক নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের কাজের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের আচরণ রাজউকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে-সেই জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশিত।
এদিকে, ইমারত পরিদর্শক পিয়ালের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে। নকশা অনুমোদন, নির্মাণ তদারকি এবং নিয়মিত পরিদর্শনের সময় নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে ভবন মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং ‘ম্যানেজ’ না করলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া বা জটিলতায় ফেলার হুমকি দেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ভবন মালিক নির্ধারিত নিয়ম বা বৈধতা ছাড়াই মোটা অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, রাজউকের পক্ষ থেকে হয়রানির আশঙ্কায় তারা এসব অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন, যদিও তারা নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অনিয়মের ফলে এলাকায় অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে রাজউকের নজরদারি ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে রাজউকের লিখিত অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ইমারত পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম পিয়ালের অফিসে গেলে সে সরাসরি জানায় এ বিষয়ে তিনি কোন বক্তব্য দিবেন না সাংবাদিকদের কাছে তিনি যা করেন অথরাইজ কে জানিয়ে করেন এবং তার পারমিশনেই এই সবকিছু হয় তাই এ ব্যাপারে কোন কিছু জানতে হলে যেন তার অথোরাইজডএর কাছে যাওয়া হয় । এ বিষয়ে তার অথরাইজড আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, পরবর্তীতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিবেন না বলে ফোন কেটে দেয়। এদিকে নগর বিশেষজ্ঞ ও সুশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা দ্রুত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার ও সৌজন্যমূলক আচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত