ফিরোজ আহম্মেদ, স্টাফ রিপোর্টাঃ
টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় গত সাত দিনে পৃথক পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ শনিবার রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজারে মাসুদ মিয়া নামে এক মুদি দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রবিবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত মাসুদ মিয়া ওই গ্রামের লাল মাহমুদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে স্থানীয়রা ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীকে বিষয়টি জানালে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরজুড়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে ১ জুলাই সখিপুর উপজেলা হাসপাতাল গেটের দক্ষিণ পাশে একটি ডোবা থেকে পারভীন আক্তার নামে এক বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত হুমায়ুন খানের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তার ছেলে ফাহাত ঢাকায় চাকরি করায় পারভীন আক্তার সখিপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় একাই বসবাস করতেন। অন্যদিকে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকা থেকে নাজমা আলম নাজু নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঋণের চাপে সোনা লুটের উদ্দেশ্যে ওই নারীকে হত্যা করার কথা তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
এদিকে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শওকত মোল্লা নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। এ ছাড়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়ায় কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ছানোয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, বর্তমান সমাজে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত মোবাইল ডিভাইসের প্রতি আসক্তিও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি কারণ হিসেবে কাজ করছে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম বলেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত