মো. জুয়েল হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দেখেন আমার বাড়ির বাহিরে এবং ভিতরের অবস্থা! শুধুমাত্র আমার ঘর নয়, পুরো ধানবান্ধি মহল্লার মানুষের জীবন আজ এই নোংরা পানির নিচে বন্দি। বন্যা হয়নি, অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই আমরা নিজেদের ঘরেই জলবন্দি হয়ে পড়েছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতর জমে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত হাঁটুপানির ছবি যুক্ত করে চরম ক্ষোভ ও মানবিক আকুতি প্রকাশ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান। রাজনীতির মাঠে সরব এই নেতার ঐতিহ্যবাহী বসতভিটাও আজ ড্রেনের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এটি শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত ভোগান্তি নয়-এটি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ধানবান্ধি মহল্লার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের নরকযন্ত্রণার এক করুণ চিত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই ধানবান্ধি মহল্লার জি.এম. হিলালি রোড, জেসি রোড এবং বি.এল. স্কুল রোড এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অবর্ণনীয় জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনের কুচকুচে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য মিশে একাকার হয়ে পড়ে রাজপথ থেকে শুরু করে মানুষের শোবার ঘর পর্যন্ত। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ বাসিন্দারা। নিজের ফেসকোটে মির্জা মোস্তফা জামান জলাবদ্ধতার মূল কারিগরি ত্রুটি তুলে ধরে লেখেন, জেসি রোড এবং তার বাড়ি সংলগ্ন বিআইডাব্লিউটিএ’র সামনের পুকুরটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণের স্বাভাবিক কোনো স্থান নেই। তার ওপর মান্নান তালুকদার এমপির মোড় থেকে শুরু করে নবদ্বীপ পুল হয়ে কাটাখালী পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের প্রধান ড্রেনটিতে বছরের পর বছর মাটি ও বর্জ্য জমে পানি প্রবাহ একেবারে বন্ধ হয়ে আছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জি.এম. হিলালি রোড, জেসি রোড এবং মান্নান তালুকদারের মোড়ে ড্রেন নির্মাণের সময় সঠিকভাবে ড্রেনেজ লেভেল বা কারিগরি নকশা অনুসরণ করা হয়নি। ফলে পানি নিষ্কাশিত হয়ে বাইরে যাওয়ার বদলে উল্টো পুরো এলাকার পানি ফেরত এসে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে তৈরি করছে এই কৃত্রিম বন্যা। স্থানীয়রা জানান, ঘরের ভেতর থৈ থৈ পানি থাকায় রান্নাঘর থেকে শৌচাগার-সব ব্যবহারেই দেখা দিয়েছে চরম সংকট। বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত নোংরা পানিতে প্রতিদিন যাতায়াত করায় দেখা দিচ্ছে নানা চর্মরোগ। জমে থাকা পানির গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, আর মশার মারাত্মক উপদ্রবে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
এ বিষয়ে এলাকাটি পরিদর্শনের আশ্বাস বা পৌরসভার বক্তব্য জানতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সাহাদত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। রাজনীতি কিংবা কোনো ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে ধানবান্ধি মহল্লার বাসিন্দাদের এই তীব্র মানবিক কষ্ট লাঘবে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আশু ও কার্যকর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন মির্জা মোস্তফা জামানসহ পুরো এলাকাবাসী। কারিগরি ত্রুটি সংশোধন ও ড্রেনের ময়লা অপসারণ করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত