আবদুল মোতালেব
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর চাটখিলে একজন সাংবাদিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি সচেতনতামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর নাম ও ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো, মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কামরুল ইসলাম কানন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নোয়াখালী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া তিনি নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের ট্রেজারার এবং নোয়াখালী টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পোস্টটি প্রকাশের পর উপজেলার নয়নপুর এলাকার মো. সুমন, মোহন (প্রকাশ ঠোঁট কাটা মোহন) ও মহিন তাঁদের নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক কাননের নাম ও ছবি বিকৃত করে বিভিন্ন মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ করেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সুমন ও মোহন এলাকায় নিজেদের যুবদলের পরিচয় দিয়ে এবং নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার এবং এতিমের জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মহিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় 'ভাগিনা বাহিনীর' অন্যতম সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, হাফিজুর রহমান শাওন অভিযুক্তদের করা মানহানিকর ও উসকানিমূলক ফেসবুক পোস্টগুলো বিভিন্ন গ্রুপ ও নিজের ওয়ালে শেয়ার করে অপপ্রচার ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যে সুনাম অর্জন করেছি, একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মাধ্যমে তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মুন্নাফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না এবং কারও বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার বা ভয়ভীতি সৃষ্টির সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত