স্টাফ রিপোর্টারঃ
জনতা ব্যাংকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যখন সন্তান তার বাবার পাশে একটু খেলার অপেক্ষায় থাকে, যখন ক্লান্ত শরীরটা একটু বিশ্রামের প্রহর গোনে,ঠিক তখনই ভেসে এলো এক স্বৈরাচারী ফরমান! কোনো আলোচনা নেই, নেই কোনো সার্ভিস রুলসের তোয়াক্কা। এক অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে এক নিমেষে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ব্যাংক কর্মকর্তারা । কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে,এটা কি কেবলই ব্যাংক সেবার গতি বাড়ানোর চেষ্টা, নাকি স্পষ্ট অনিয়ম আর মানসিক নির্যাতনের আরেক নাম?
অভিযোগের তীর সরাসরি,রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত জনতা ব্যাংক পিএলসি-র প্রধান কার্যালয় এবং ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের দিকে! বাংলা কিউআর মার্চেন্ট সম্প্রসারণ আর নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অজুহাতে এক ই-মেইলের বার্তাতেই ব্যাংকটির হাজারো কর্মকর্তার ওপর নেমে এসেছে ছুটির দিনেও খাটুনির খড়গ। আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই, শুক্র ও শনিবারের মতো নির্ধারিত সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে সবাইকে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং নিয়মনীতি ও প্রচলিত সার্ভিস রুলসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা নিয়ে এখন তোলপাড় পুরো ব্যাংকিং পাড়া। সার্ভিস রুলস অনুযায়ী একজন এমডি ই-মেইল বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে এভাবে ছুটির দিনকে বাধ্যতামূলক কর্মদিবস ঘোষণা করতে পারেন কিনা, সেই আইনি ভিত্তি নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। আরও বড় অনিয়ম হলো, নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের এরিয়া প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকরা এখন পুরো অফিসকেই জোর করে হাজির করার তোঘলকি কাণ্ড চালাচ্ছেন!
চাকরির প্রয়োজনে রাত-দিন অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তারা আজ দিশেহারা। অতীতে ঈদের ছুটি বাড়লে যেমন আগেভাগে অতিরিক্ত কাজ করে দেওয়া হতো, এখানে তেমন কোনো বিকল্প ছুটির বন্দোবস্ত রাখা হয়নি। দেওয়া হচ্ছে না কোনো অতিরিক্ত প্রণোদনা বা ওভারটাইম সুবিধাও। সোজা কথায়, কোনো নিয়ম না মেনে, কর্মীদের শ্রমকে নিখরচায় শুষে নেওয়ার এক চরম অপকৌশল এটি! ডিজিটাল ব্যাংকিং নিশ্চিত করার নাম করে কর্মীদের অধিকার ও বিশ্রাম হরণ করার এই মানসিক অত্যাচার কতদিন চলবে? প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের দোহাই দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা কোন ধরনের শাসন? এই অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার জবাব এখন সময় এসেছে চেয়ে নেওয়ার!
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত