ডেস্ক রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) যখন চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে নানা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক সেই সময় হাসপাতালটির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার ও চাকরি বাণিজ্য এবং জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকারি তহবিল লোপাটের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগকারিরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক মো. জালাল আহমেদ, এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লার্ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
রাহিমা আক্তার মুক্তা নামে এক নারী দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি অর্থবছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ‘৩২৩১৩০১’ অর্থনৈতিক কোডের আওতায় যে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা প্রকৃত প্রশিক্ষণ আয়োজন ছাড়াই আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. আশরাফুল আলম ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম ব্যবহার করে দৈনিক ভাতার অর্থ উত্তোলন করেছেন।
এছাড়া প্রধান সহকারী ও ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে রেজিস্টারে জাল স্বাক্ষর, প্রশিক্ষণ ভাতার মূল রেজিস্টার এবং বিল-ভাউচারে মাত্র চারজন মিলে সবার স্বাক্ষর নকল করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।টেন্ডার, চাকরি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নতুন নিয়োগে অর্থ আদায় এবং নিয়মবহির্ভূত বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, এই অবৈধ অর্থ দিয়ে ডা. আশরাফুল আলম ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকা জমা রেখেছেন। অভিযোগে লক্ষ্মীবাজারের রসের গলি এলাকায় একটি বাড়ি কেনার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
একই অভিযোগে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক মো. জালাল আহমেদ ও তার স্ত্রী শাহিন সুলতানার নামেও ঢাকার শান্তিনগর এলাকায় বহুতল ভবন ও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে, যা অবৈধ অর্থে অর্জিত বলে অভিযোগকারীর দাবি। পাশাপাশি তার নিজ এলাকা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার কে.ডি. হাট গ্রামেও বিপুল পরিমাণ বেনামী সম্পদের তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডা. আশরাফুল আলম নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং আওয়ামীপন্থী চিকিৎসক সংগঠনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক নেতা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে পূর্বের অভিযোগগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডা. আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, দুঃখিত, এসবঅযথা বানানো বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনি পরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলুন।
অন্যদিকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লার্ক মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।
অভিযুক্ত অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক মো. জালাল আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বেও দুদক একজন উপসহকারী পরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ফলাফল প্রকাশ পায়নি। অভিযোগকারীর দাবি, এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট চক্র আবারও লোক দেখানো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
উল্লেখ্য, উপরের তথ্যগুলো অভিযোগপত্রে উত্থাপিত দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত