নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পুনর্বাসন নিশ্চিত না করেই রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনির (জোন-সি) ৩১টি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সেখানে বসবাসরত ৪১৮টি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবারের মধ্যে। একদিকে যখন বাসিন্দারা মানববন্ধন করে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে এবং নিজের অবস্থান রক্ষায় নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের পক্ষে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াব। বিষয়টি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষার অভিযোগ
আজিমপুর সরকারি কলোনি (জোন-সি) কল্যাণ সমিতির নেতারা দাবি করেন, একনেক ও পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনা সভায় প্রকল্প এলাকার ৪১৮টি পরিবারকে পুনর্বাসনের বিস্তারিত পরিকল্পনা নিশ্চিত করার পরই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের কর্মচারীদের পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন মানবিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোন-বি ও জোন-এ এলাকার ফাঁকা ও নির্মাণাধীন ভবনে ধাপে ধাপে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি।
ভবন ভাঙার দরপত্র, কিন্তু নেই পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা
বাসিন্দাদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি বিদ্যমান ৩১টি ভবন ভাঙার জন্য পৃথক দরপত্র ডাকা হয়।তাদের দাবি, পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে শত শত সরকারি পরিবার আবাসন সংকটে পড়বে এবং শিশুদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের
বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। স্মারক নং-২৫.০০.০০০০.১৩০.০২৭.০১.১৭-৪৯৬ অনুযায়ী, আজিমপুর গভঃ কোয়ার্টার্স (দঃ) কল্যাণ সমিতির সভাপতি কোহিনুর আক্তার শ্যামলীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাসিন্দারা বলছেন, যখন মন্ত্রণালয় নিজেই অভিযোগগুলো তদন্তের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে, তখন অভিযোগগুলোকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা চাই।
ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বাসা খালি করার জন্য একাধিক নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং বহিরাগত ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আইনসম্মত পুনর্বাসন চাই, ভয়ভীতি নয়।
‘দৌড়ঝাঁপে’ তাওহীদ কামিয়াব, উঠছে নতুন প্রশ্ন
বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ জারির পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং প্রশাসনিক চাপ মোকাবিলায় বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন একই দপ্তরের ঘুষ দুর্নীতির ক্যশিয়ারখ্যাত উপ বিভাগী প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াব নামে এক ব্যক্তি। তাদের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার আগেই যদি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠবে। আমরা চাই তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হোক। তবে এ বিষয়ে তাওহীদ কামিয়াব বা ফয়সাল হালিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য করেননি।
চার দফা দাবিতে অনড় বাসিন্দারা
মানববন্ধন থেকে বাসিন্দারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন *পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোন-বি এলাকায় পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
* জোন-এ এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করে অস্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
* জোন-সি প্রকল্প দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা।
* নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সভাপতি কোহিনুর আক্তার শ্যামলী বলেন,আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই, উন্নয়নের বিরুদ্ধেও নই। আমরা শুধু চাই রাষ্ট্র তার কর্মচারীদের প্রতি ন্যায়বিচার করুক এবং পুনর্বাসন ছাড়া কোনো পরিবারকে উচ্ছেদ না করা হোক। সাধারণ সম্পাদক মো. মনোয়ার হোছাইন কাউছার বলেন, “৪১৮টি পরিবারের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপই এখন আমাদের শেষ ভরসা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত