সোহাঈদ খান জিয়াঃ
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী গ্রামে বিদ্যালয় চলাকালীন পানিতে ডুবে এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানাযায়, পশ্চিম সকদী গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠিত মেধা বিকাশ কিন্ডারগার্টেনের ৫ ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী নোমেরা পানিতে ডুবে মারা যায়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২৬) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নোমেরা প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে ক্লাস করার জন্য আসে ।এদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে পাশে থাকা ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে সে চলে যায়। নদীর তীরে খেলা করতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে গিয়ে ডুবে যায়। কিন্তু মৃত্যুর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয় কতৃপক্ষের কোন খোঁজ খবর নেই।
পরে এলাকার মুনসুর নামে এক ব্যক্তি শিক্ষার্থীর মরদেহ ডাকাতিয়া নদীর শাখা নদীতে ভেসে উঠতে দেখে ডাক চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর আড়াই শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সূত্র জানায়, সামান্য একটু জায়গার উপরে মেধাবিকাশ কিন্ডারগার্টেন পরিত্যক্ত একটি ইটভাটার পাশে নির্মাণ করা হয়।সামান্য বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পানিতে ডুবে যায়। বিদ্যালয়ের নেই কোন শৃঙ্খলা ও পরিবেশ। মনগড়া করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির চারপাশ ঝোপঝাড়ে বরে আছে। এখানে শিক্ষার পরিবেশ নেই। প্রতিদিন বিদ্যালয় চলাকালীন ও হাপেনার সময়ে ছাত্র ছাত্রীরা নদীর তীরে খেলা ধূলা করতে চলে যায়।কিন্তু শিক্ষকরা সেদিকে খেয়াল রাখেননি।
যদি খেয়াল রাখতেন তা হলে নোমেরার মতো একটি নিষ্পাপ প্রাণ অকালে ঝরে যেতো না।অপর এক সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি সচেতন হতো তাহলে শিশু শিক্ষার্থীরা নদীর তীরে গিয়ে খেলা ধূলা করতো না।এমনকি পাশে সিআইপি সড়ক,শিশুরা সিআইপি সড়কে চলে যায়।কিন্তু এ কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে একটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। সেই কিন্ডারগার্টেন ও সুন্দর পরিবেশে চলে আসছে।
এব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল বলেন, বিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতা, দায়িত্ব অবহেলা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সচেতন না হওয়ার কারণে নোমেরা পানিতে ডুবে মারা যায়। তার মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতাই দায়ি।বিদ্যালয় কতৃপক্ষের এমন উদাসীনতা থাকলে তাহলে ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে এই বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো ভালো। বিদ্যালয়ে নেই কোন পরিবেশ। শিশু নোমেরার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য মুনসুর খান বলেন , খবর পেয়ে স্কুলের কাছে এসে দেখি লাশ ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে শুয়ে রেখেছে।পরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসি।ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু দুঃখ জনক।
এব্যাপারে, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম বলেন, পানিতে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে কোন কিছু জানান না। আপনার নিকট থেকে এখন জেনেছি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা আমার জানা নেই। কেজি স্কুল আমাদের দেখার দায়িত্ব না।ওটা তারা নিজেরাই দেখেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন বলেন,
উল্লেখ্য, নোমেরা তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। তার বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাশিয়ালি গ্রামে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত