নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গত ১৭ বছরের বিগত আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ডা. মো. মোরশেদ আলমকে নিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বগুড়ায় করা তার বদলি আদেশ রহস্যজনকভাবে স্থগিত করে পুনরায় তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এই পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় ও চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ডা. মোরশেদ আলম রাজপথ ও দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত প্রতিটি কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিলে তার নিয়মিত ও প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল। এসব ঘটনার বহু ছবি ও ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পরিস্থিতি দেখে ডা. মোরশেদ আলম ১৫ থেকে ২০ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে কতিপয় প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি হাসপাতালে ফেরেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেও কৌশলগতভাবে ইনসিটু (In-situ) পদে প্রমোশন বাগিয়ে নিয়ে জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বহাল থাকেন তিনি।
সম্প্রতি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে বগুড়ায় বদলি করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই আদেশ কার্যকর না হতেই এক অদৃশ্য রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবে গত ৩০ জুলাই তার পূর্বের বদলি আদেশ স্থগিত করা হয় এবং তাকে প্রভাবশালী ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদায়ন দেওয়া হয়।
বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও সুবিধাবাদী এক চিকিৎসকের এভাবে সুবিধাজনক স্থানে পুনরাগমনে সাধারণ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল খাতে এমন 'টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য' ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়ে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন চিকিৎসক সমাজ।
ডাঃ মোরশেদ আলম জাতীয় কিডনি হাসপাতালে থাকা কালীন সময়ে চরম দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। তার বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট সংস্কারের নামে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন তিনি বাহিরে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত