ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজারঃ
স্বামীর সম্পত্তির অধিকার পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক শারিরীক প্রতিবন্ধী বিধবা স্ত্রী। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রহিমা বেগম তার গর্ভজাত ২ ছেলে, ১ মেয়ে নিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ দাবি করে প্রশাসনের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সুরভী আবাসিক এলাকার বাসিন্তা রহিমা বেগম অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, ২০০৫ সালে শহরের সুইনগড় এলাকার হাজি ইয়াকুব আলী খাঁনের সাথে ইসলামী রীতিতে বিবাহ হয়। বিয়ের সময় আমার স্বামীর আরো ২ স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ৩ ছেলে ২ মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ২ মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর আমার স্বামী শহরের সুরভীপাড়া এলাকায় ৪ শতক জমির উপর ক্রয় করা একটি বাসায় আমার সাথে ঘর সংসার করে আসছিলেন। ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। বর্তমানে আমার ২ ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আমাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা দেয়ার জন্য স্বামীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলী খাঁনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০২৩ সালে সেই টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। এরই মধ্যে গত রমজান মাসে আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীর মেজো ছেলে মনজুর আলী খাঁন মারা যায়। সম্প্রতি জানতে পারি স্বামীর প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন আমার সন্তানদের তার পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এফিডেভিট করে একটি ওয়ারিশনামা তৈরী করেছে।
এনিয়ে গত ৩১ মে সকালে আমার বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন তার সৎ ভাইদের বাসায় যায়। এ সময় জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন আমার ছেলেদের ভাই হিসেবে অস্বীকার করে। এ নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি এবং আমার ছেলেকে মারতে উদ্বত্ব হয়। এসময় তারা আমরা সম্পদ কেমনে নেই তা দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাবার পথে জুনাব আলী খাঁন, সাহাদত আলী খাঁন, তাদের ভাইয়ের ছেলে ইমন ও জীবন আমাদের মারধর ও হুমকি প্রদান করে।
এ ঘটনা আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। এছাড়া আমাদের সম্পত্তির বৈধ দাবী নিয়ে আরো দুইটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর প্রথম স্ত্রীর ছেলেরা আমাকে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। হাজী ইয়াকুব আলী খাঁন আমার স্বামী ছিলেন এর স্বপক্ষে অনেক প্রমান রয়েছে। শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, টীকা কার্ড, পৌরসভার নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্রে স্বামীর নাম রয়েছে। উল্লেখ যে, ২০০৫ সালে স্বামীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে আমার প্রথম পক্ষের ছেলেরা ৮০ লক্ষ টাকা আত্বসাত করে। এ ঘটনায় আমার স্বামী ২০০৫ সালে তিন ছেলেকে ত্যাজ্য করেন। অথচ তারাই আজ আমার এতিম সন্তানদের হক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে জীবন নির্বাহ করছি। স্বামীর সম্পত্তির উপর আমার কোন লোভ নেই। কিন্তু পিতার সম্পত্তির উপর এতিম ছেলে-মেয়েদের হক রয়েছে। অথচ প্রথম পক্ষের ছেলেরা সেই হক থেকে আমার সন্তানদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াকুব আলী খাঁনের প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁনকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি প্রথমে রহিমা বেগমকে তার বাবার স্ত্রী বলে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি বলেন, রহিমা বেগম সত্যি যদি আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের কাছে আসুক, আমরা পারিবারিক ভাবে বিষয়টা দেখে দেবো।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত