এম ইদ্রিস আলী
সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় জনগণের স্বার্থে কথা বলায় ১০ নং আগরদাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেন মিলনের উপর ক্ষেপেছেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম ও সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মুর্শিদ আলম।
গত ২৭ জুলাই (সোমবার) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোচনা চলার সময় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিলন জনস্বার্থের বিষয়ে মন্তব্য করায় তার উপর ক্ষিপ্ত হন এই দুই কর্মকর্তা।
আর এই বিষয়টিকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে এই দুই কর্মকর্তা তাদের দোষ ঢাকতে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মিলনকে নিয়ে মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজাচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, একই স্থানে দীর্ঘদিন চাকরী করার কারনে সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মুর্শিদ আলম বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। জানাযায়, তিনি নিজেকে ছাত্র দলের নেতা হিসাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলে বেড়ান বিএনপির বড়ো,বড়ো নেতা তার বন্ধু।
অনুসন্ধানে জানা যায়,তার বাড়ি আশাশুনির প্রত্যন্তঅঞ্চল প্রতাপনগরে, কিন্তু তিনি সাতক্ষীরা সদরে দীর্ঘদিন চাকরী করার সুবাদে শহরে জমি কিনে গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি।
এদিকে সম্প্রতি সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম সাতক্ষীরায় যোগদান করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ আসছে।
তার অফিসে সেবা নিতে যাওয়া অনেক ভুক্তভোগীরা জানান, তার অফিসে সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত প্রতিবন্ধী ভাতা,বিধবা ভাতা,ক্যান্সার আক্রন্ত ব্যাক্তিদের সরকারি অনুদান সহ বিভিন্ন সরকারি অনুদানের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম,স্বজনপ্রীতি,দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেন মিলনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাসিক সমন্বয় সভায় আমি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে স্বাভাবিক আলোচনা হয়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য দীর্ঘদিন ধরে আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করে আসছে একটি স্বার্থন্বেষী মহল । প্রকৃত অর্থে আমার ইউনিয়ন থেকে ২০২৩ ও ২৫ সালে পাঁচ হাজার বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অনলাইনে আবেদন করে। সেখান থেকে মাত্র ৩২ জন বয়স্ক ও ২৫ জনকে বিধবা কার্ড দিতে পেরেছি। সমাজসেবা অফিসারের মাধ্যমে আবারও পহেলা আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন করার কথা বলা হয়। তখন আমি সমাজসেবা অফিসারের কাছে প্রশ্ন করেছি এইটার জন্য বারবার অনলাইনে আবেদন করতে বললে জনগণের কাছে আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।এসব বিষয়ে আমি সমাজসেবা অফিসারের অবহিত করার চেষ্টা করেছি।
এসময় সমাজসেবা অফিসার বলেন এটা আমাদের বক্তব্য না এটা সরকারি ভাবে দিয়েছে। পরবর্তীতে আমি বলি যে আমাদের রুট লেভেলে কাজ করতে হয় জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে ইচ্ছে, এটা শুধুমাত্র আমি সমাজসেবা অফিসার কে বুঝাইতে চেয়েছি, এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার মত কোন বিষয়ে আমি মনে করিনি।
আমরা মাসিক মিটিংয়ে জনগণের স্বার্থ নিয়ে কথা বলি আর এটাই হচ্ছে আমাদের কাজ। আর এই জনগণের স্বার্থে কথা বলার সুযোগ যদি আমাদের না দেওয়া হয় তাহলে মাসিক মিটিংয়ে আমরা কেন যাব। যদি জনগণের স্বার্থে কথা বললে সেটা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অসধচরণ হয়ে যায়, তাহলে কিছু বলার নাই এটা আসলেই দুঃখজন।
একপর্যায়ে সমবায় কর্মকর্তা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে দাম্ভিকতা দেখাতে থাকে আমি তখন ঔ পরিস্থিতিতে নিজেকে সংযাত রেখে আমার বক্তব্য শেষ করি।
এবিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম ও সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মুর্শিদ আলম এর বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের বক্তব্য পেলে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত