মো. জুয়েল হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং এনটিভি ও দৈনিক আমার দেশ এর জেলা প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম ইন্না ও তাঁর পরিবারকে ফেসবুকে গালিগালাজসহ তুলে নিয়ে হত্যা এবং পা কেটে ফেলার সরাসরি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। একই সঙ্গে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত গত ২৯ মে এনটিভি অনলাইনে প্রকাশিত শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নেতার মাংস বিতরণ শীর্ষক একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করার পর থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সেরাজুল ইসলাম সেরাজ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছানোয়ার হোসেন সানু সাংবাদিক ইন্নার ওপর ক্ষুব্ধ হন। তারা সাংবাদিককে লেখালেখি বন্ধের চাপ দেন এবং তা না শুনলে মারাত্মক পরিণতির হুমকি দেন। পরবর্তীতে সাত্তার নামে এক নেতার ঘনিষ্ঠ সহকারী মোবাইল ফোনে সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারকে ‘মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেয়।
সর্বশেষ ঘটনা ঘটে গত ২৬ জুলাই রাতে। সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম ইন্নার ছেলে শাফিন আহমেদ জিসান বক্তব্য রাখেন। উক্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে পোস্ট করা হলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ছানোয়ার হোসেন সানু সেই পোস্টে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
এরপর ঐ দিন গভীর রাতে (রাত ২টা ১৪ মিনিটে) ছানোয়ার হোসেন সানু সাংবাদিকের ছেলেকে ফোন করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার আল্টিমেটাম দেন এবং সাংবাদিক ইন্না ও তাঁর স্ত্রীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। পরদিন ২৭ জুলাই সকালে ছানোয়ার হোসেন সানু ফেসবুক মেসেঞ্জারে সাংবাদিক ইন্নার ‘পা কেটে নেওয়া হবে’ মর্মে হুমকিবার্তা পাঠান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম ইন্না বলেন, আমি ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পেশাদারিত্বের সাথে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা করে আসছি। একটি নিউজের জের ধরে এবং পরবর্তীতে আমার ছেলের বক্তব্যের কারণে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারা আমাকে ও আমার পরিবারকে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের মেসেজ ও কল রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ জানান, অভিযোগটি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর করেছে এবং আমি দপ্তর সম্পাদক হিসেবে অভিযোগটি রিসিভ করেছি। সেই সাথে আমি আমার দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠিয়েছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত