নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকাসরাসরি চাকরি বরখাস্ত হওয়া ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিতর্কিত সাবেক কাস্টমস কমিশনার এম হাফিজুর রহমান এবার দেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কমিশনার পদের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, শতকোটি টাকার লবিং মিশন নিয়ে তিনি প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত একজন সাবেক কর্মকর্তার এমন উচ্চাভিলাষী পদায়নের চেষ্টার খবরে প্রশাসন ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাস্টমসের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ভাতিজা পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। রংপুরের পীরগঞ্জের আঞ্চলিকতাকে পুঁজি করে তিনি কাস্টমসে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক লবিং ও তৎকালীন কয়েকজন প্রভাবশালী হুইপ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর মাধ্যমে ঢাকা বন্ডে কাস্টমস কমিশনারের মতো লোভনীয় সেরা পোস্টিং বাগিয়ে নেন হাফিজুর রহমান। পদে বসেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক লুটপাট শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধুরীর মেয়ের সঙ্গে একটি অনৈতিক কেলেঙ্কারির ভিডিও ফাঁস এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাফিজুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে তৎকালীন এনবিআর সদস্য পারভেজ ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি হাফিজুর রহমানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের সন্ধান পায়। তদন্ত প্রতিবেদনে ‘বেস্ট লজিস্টিকস লিমিটেড’ নামের একটি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কোম্পানিতে তাঁর ৭৫ শতাংশ বেনামি মালিকানা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিভিন্ন ব্যাংকে বস্তা বস্তা টাকার বিপুল সংখ্যক অবৈধ এফডিআর থাকার প্রমাণ মেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বরখাস্ত হওয়ার পর সাবেক এই ‘মহারাজ’ চাকরি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রীর কন্যা এবং দুদকের তৎকালীন একজন কমিশনার (যিনি পরবর্তীতে সরকারের শীর্ষ পদে আসীন হয়েছিলেন) কে প্রায় বিশ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে পুনরায় চাকরিতে যোগদানের আদেশ করিয়ে নেন। তবে সরকারি বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, নতুনভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি শতকোটি টাকার একটি বিশাল তহবিল নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। সূত্র বলছে, প্রশাসনের ভেতরে থাকা একটি শক্তিশালী লবিস্ট গ্রুপ পর্দার আড়াল থেকে তাঁর পক্ষে কাজ করছে। তবে সুশীল সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দুদকের মতো একটি স্বাধীন ও সংবেদনশীল সংস্থায় ক্লিয়ারেন্সবিহীন এবং বিভাগীয় মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ সাবেক কর্মকর্তার পদায়নের কোনো আইনি সুযোগ নেই। এমনটি ঘটলে তা দেশের দুর্নীতি দমন প্রক্রিয়াকে জনগণের কাছে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত