তারিখ লোড হচ্ছে...

পূবাইলে সাংবাদিকের পৈত্রিক জমি আওয়ামীলীগ নেতার দখলে নেয়ার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় পপুলার লাইফের গ্রাহকরা দাবির টাকা পাচ্ছে না ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের ফের সংঘর্ষ, পুলিশ মোতায়েন ‎ঢাকা জেলা সিএনজি মেট্রো করার মিথ‍্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা দুর্নীতি সিলেট রেঞ্জের মধ্যে শ্রেষ্ট অফিসার হিসেবে সম্মাননাপত্র গ্রহন করেন দিরাই থানার ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম বাড়ির পাশেই পৌরসভার ময়লার স্তূপ, মানবেতর জীবন ব্র্যাক আবাসনের বাসিন্দাদের আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারিতে উল্টো গণক্ষোভ মুন্সিগঞ্জে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ রাজউকের মোবাইল কোর্ট নিয়ে প্রশ্ন: অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়সারা অভিযান ও অনিয়মের ... কেশবপুরে প্রধান শিক্ষকের বদলির দাবিতে মানববন্ধন রামগড়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক দুপুরে প্রথম বৈঠকে বসছে সংবিধান সংশোধন কমিটি গলাচিপায় র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপন নদী খননের নামে ১৩৪ কোটি আত্মসাৎ, তবুও বহাল তবিয়তে বিআইডব্লিউটিএ’র সাইদুর রহমান রাশিয়া-ইউক্রেনে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা, প্রাণ গেল ২২ জনের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে কী হয়? বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম সেপ্টেম্বরে ১০ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী লাইফ সাপোর্টে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প কদমতলী থানা অধীনস্থ রায়েরবাগে ১২ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু ‎ নোয়াখালীতে পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন ও সার্জিসের কটুক্তির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের বিক্ষ... এমপি মিলনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: দীর্ঘদিন পর চালু হলো কালীগঞ্জ-গুলিস্তান KTL বাস সার্ভিস রামুতে নূর ডেন্টাল পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন,বিএসসি (ডেন্টাল) ডিগ্রি দিয়ে রুট ক্যানাল-সার্জারির অভিযোগ ব্রেন টিউমার সারেনি ইলিয়াস কাঞ্চনের, তবুও কেন দেশে ফেরা হাইকোর্টে জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ: আলোচনায় সহকারী পরিচালক ডা. শফিউল আজম রাজউকের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণে আল-আকসা-৩ ভবন কর্তৃপক্ষ নলডাঙ্গায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা সদর এসিল্যান্ড অফিসে সেবার মান বৃদ্ধি-খুশি সেবা প্রত্যাশিরা বৃষ্টির পানি আর চোখের জল-একই ঘরে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির জীবনযুদ্ধ মোংলায় প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষর জাল করে তদবির বাণিজ্য, গ্রেফতার ১ পানছড়িতে বিজিবির উদ্যোগে জনকল্যাণমূলক সামগ্রী বিতরণ সুন্দরবন রক্ষায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে জাতিসংঘ নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন জোরদারে আইওএমের আরও সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ আবারও আলোচনায় চট্টগ্রামের এস এম মিজানুল্লাহ সমরকন্দী ওরফে চশমা মিজান দুদক কমিশনার হতে শতকোটি টাকার লবিং: সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুর্ব সুন্দরবনে বন বিভাগের অভিযানে শুটকি তৈরির আস্তানা ধংস আটক হয়নি কেউ নিরাপত্তাহীনতায় সিরাজগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০২৬ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সাংবাদিক নিবন্ধনের আগে সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত হোক ১৩ মাসের ডেলিভারি: প্রতিশ্রুতি নয়, প্রমাণ চান সংশ্লিষ্টরা পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন ডিএজি-এএজিদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস, ৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও চ্যাম্পিয়ন প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগদানের তারিখ জানাল মন্ত্রণালয় পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩ ডিএমপির বিশেষ অভিযানে, গুলশান ও যাত্রাবাড়ীতে গ্রেফতার ৩৭

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড়

পাঠক সংখ্যা
638

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

সরকারী চাকুরি মানে কোটি কোটি টাকা আর গাড়ী বাড়ী আসলেই তা সত্যি এমন প্রশ্ন জনমনে কিন্তু এই কর্মকর্তার সম্পদের হিসেব দেখলে তাই মনে হবে আর তিনি হলেন-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চাকরি করে স্ত্রী ও নিজের নামে ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে গড়ে তুলেছেন একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়িসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। চারটি ব্যাংকে মিলেছে কোটি কোটি টাকা লেনদেন। তিনি মনিরুজ্জামান সরকার, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার অষ্টম গ্রেডের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।

২০১১ সালের ৭ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বোদাগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে অ্যাডহক ভিত্তিতে যোগদান করেন মনিরুজ্জামান সরকার। যোগদানের ছয় মাস পর স্থায়ীভাবে পিআইও পদে নিয়োগ পেয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বদলি হন। কাহারোলে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ১৫ বছরের চাকরি জীবনে তার বৈধ আয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা হলেও, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মনিরুজ্জামান সরকারের যত সম্পদ:
২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স করপোরেশন লিমিটেডের কাছ থেকে মিরপুর রুপনগর মিল্কভিটা রোডে ২৮ (এবিসি হোমস ) ৬ষ্ঠ তলার উত্তর পূর্ব দিকের ১৪৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট ও নিচতলার ১২০ বর্গফুটের একটি কারপার্কিংসহ ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার দলিল নম্বর- ১১৬১২ ও বাজারমূল্য ২ কোটি টাকা।
রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় ৭ নাম্বার রোডে ‘জান্নাত’ নামে ৫২ নম্বর তিনতলা আলিশান বাড়ি করেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা।
রংপুর সদরের কলেজ রোডে মুনিবা ছাত্রাবাস নামে ৩তলা একটি আবাসিক হোস্টেল রয়েছে । যার বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা।
রংপুর মহানগর সার্কেল বিনোদপুর মৌজায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর ৯০১, দলিল নং ৩৭১১, বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকা।
রংপুর মহানগর সার্কেল আলমনগর মৌজায় ৬ শতাংশ একটি প্লট রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর- ১৬১০০, দলিল নং ৩৭১২/২০১৮। এ সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাচাবান্দ মৌজায় ১৮ ও ৪৬ সর্বমোট ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর-২২৪৩ দলিল নং-৫৩০,৫৪৫,১১৮২ । এ জমির বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা।
কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলায় উলিপুর মৌজায় ৩ শতাংশ জমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর-১২৩৮ দলিল নং-১৬০১,২৬৫৩, বাজার মূল্য ১০ লাখ টাকা।
স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলায় সিদ্ধান্ত মালতী বাড়ির মৌজায় ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। খতিয়ান নাম্বার-২০২৬-১০০০০৭ দলিল নং-৪০৮১/২৫। যার বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা।
স্ত্রী আরফাতুন নাহার এর নামে রংপুর বিনোদপুর মৌজায় ৭ শতাংশ একটি প্লট রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর- ১০৭১ । যার বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকা।
নিজ এলাকায় আদর্শ গ্রাম ৩ নং থানাহাট ইউনিয়ন,মাচাবান্দা, চিলমারী কুড়িগ্রামে দোতলা বাড়ি করেছেন।
এছাড়াও কুড়িগ্রাম শাপলা চত্বরে বাবর টাওয়ারের নিচ তলায় মনিরুজ্জামান কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশাল ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর বাইরেও কিনেছেন ৬টি মাইক্রোবাস যেগুলো বিভিন্ন রেন্ট-এ-কারের মাধ্যমে ভাড়ায় চলে। নিজে ব্যবহার করেন অর্ধকোটি টাকার গাড়ি।

সূত্র মতে, সম্প্রতি তেলের পাম্প ব্যবসায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন মনিরুজ্জামান। এছাড়াও স্ত্রী আরফাতুন নাহারের বড় ভাই রায়হানের নামে বাড়ি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরেও নামে, বেনামে ঢাকা,রংপুর ও কুড়িগ্রামে আরো বেশ কিছু সম্পদের রয়েছে তারা। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মনিরুজ্জামান সরকার কাহারোল উপজেলায় যোগদানের পর বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পরেন। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিগত সরকারের এমপি মনোরঞ্জনশীল গোপালের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ওই এমপি নিজের সুপারিশের মাধ্যমে তাকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বদলি করেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২০১৪-১৬ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ কোটি টাকার টিআর ও কাবিখার বিশেষ প্রকল্প নিয়ে আসেন। যার অধিকাংশ অর্থই তিনি আত্মসাৎ করেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রকল্পের কিছু কাজ তিনি সম্পন্ন করেন। সেই সময়ে এসব দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়ার দুদকের এক কর্মকর্তাকে। দুদকের সেই কর্মকর্তাকেও ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেন মনিরুজ্জামান।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি মায়ার সুপারিশে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন মনিরুজ্জামান। এরপর তৎকালীন ডিজির সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে তার। ডিজির মাধ্যমে পিআইওদের বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং সারা দেশের পিআইওদের বদলি বাণিজ্য করে ওই সময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন মনিরুজ্জামান সরকার।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুকুরেরহাট ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল টিআরের ৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন সহকারী অধ্যাপক শওকত হোসেন। তাকে দুই দফায় ৩ লাখ টাকার কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলেন শওকত হোসেন।

শুকুরেরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায়ও উন্নয়নের জন্য টিআরের ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পেও দুই দফায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সেটিও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান সহকারী শিক্ষক আবদুল কাইয়ূম।

ঠাকুরবাড়ি বাজার হতে পূর্ব জামে মসজিদের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা, দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়নের জন্য কাবিখা ও কাবিটার তিন দফায় ২০ টন ১৭৪ কেজি গম এবং ২ লাখ টাকা, বড়বালা ইউনিয়নের তাজুলের বাড়ি হতে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার, রানীপুকুরের বুজরুক নূরপুর বাড়ি হতে মনজুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ভরাটের জন্য ৩ লাখ, ইমাদপুর ইউনিয়নে মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, উপজেলা পরিষদ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১৩ টন গম বরাদ্দসহ অন্তত আরও ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ হরিলুট করেছিলেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মনিরুজ্জামান তৎকালীন নিজ অফিস খরচের কথা বলে সাবেক এমপির কাছ থেকে টিআর ও কাবিটার ১৪ লাখ টাকা এবং কাবিখার ১৩ টন গম বরাদ্দ নেন। যার কাজ দেখানো হয়েছে উপজেলা পরিষদের সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণ ৪ লাখ টাকা, ইমাদপুর ইউনিয়নের মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাট ১৩ টন গম।

এসব প্রকল্পের চেয়ারম্যান করা হয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের। তবে এসব কাজ না করে চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছিলেন পিআইও। যদিও জনপ্রতিনিধিদের দাবি ছিল, তারা প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

২০২২-২৩ অর্থবছরে পিআইওর কার্যালয়ে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ২২ হাজার এবং গেল অর্থবছরে একই কাজের জন্য তিন দফায় বরাদ্দ বাড়িয়ে হয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তৎকালীন সময়ে অফিসের একজন স্টাফ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছিলেন, অফিসে পিআইও তিন দফায় প্রায় ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েও কোনো কাজেই করেননি। ওই স্টাফ আরও জানিয়েছিল, পিআইও টিআর প্রকল্প থেকে দুই দফায় কমপিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৭ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন মনিরুজ্জামান। তবে এর এক মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে কমপিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছিলেন, তবে সেটাও ছিল অদৃশ্য।

এছাড়াও অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণ, টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ দেখিয়ে বিল পাস করে ট্রেজারি অফিসের মাধ্যমে পিআইও মনিরুজ্জামান সরকার নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এন আরবিসি ব্যাংকের মিঠাপুকুর শাখায় প্রায় ৩ কোটি টাকা রেখেছিলেন। সেই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে রংপুরসহ সারা দেশের তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তুমুল বিতর্কের পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে চেয়ারম্যানদের দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্পের ১০ থেকে ২০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন না করে টাকা ছাড় দিয়েছিলেন কোন এক অজানা কারণে।

বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও জেলার ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেনের সঙ্গে মিলেমিশে ভাগবাঁটোয়ারা করে খেতেন প্রকল্পের বিভিন্ন অর্থ, মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে অধিকাংশ অভিযোগ সামাল দিতেন মোতাহার হোসেন।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, পিআইও মনিরুজ্জামান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের এপিডি’র দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন।

আর এই সব অবৈধ সম্পদ বৈধ করার জন্য নামমাত্র লোন নিয়েছে ব্যাংক থেকে, মনিরুজ্জামান সরকার ও স্ত্রীর আরফাতুন নাহার নামে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – এনআরবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক।

এছাড়াও মনিরুজ্জামান এসব বিপুল অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ক্লাবের মেম্বার হয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে ফোনকল করা হলে মনিরুজ্জামান বলেন, আমার সম্পদসহ সকল বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমি অবগত করেছি, এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

অনিয়মের অভিযোগ এনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জন

অনিয়মের অভিযোগ এনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জন

ডেস্ক রিপোর্টঃ শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের চলমান নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান। দলটির অভিযোগ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং জালভোট ও প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ৩টার সংবাদ সম্মেলনে করে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। এর আগে, দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ আনেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। উল্লেখ্য, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এখানে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন

আরও পড়ুন
language Change