জসিম উদ্দিনঃ
সাংবাদিকতা হলো সমাজের বিভিন্ন ঘটনা, তথ্য, পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি সংগ্রহ করে তা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে জনসাধারণের সামনে প্রচার বা প্রকাশ করার পেশা ও মাধ্যম। এক কথায় বলা যায় সাংবাদিকতা হলো সত্য প্রকাশ, সমাজের দর্পণ ও জাতির জাগ্রত বিবেক। আর অপসাংবাদিকতা হলো সংবাদ পরিবেশনের নামে নীতিহীন, অসত্য ও পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকাণ্ড, যা সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ ও বস্তুনিষ্ঠতাকে বিসর্জন দেয়।
সংবাদ মাধ্যম সরকারের চারটি স্তম্ভের মধ্যে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত। অত্যান্ত দুঃখের সহিত বলতে হচ্ছে, বর্তমানে অনেকের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জ্বা হয়,কারন যে সকল সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করেন এবং অপরাধ, অনিয়ম, দুর্নীতি,ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, প্রতিবাদ করেন। তখন কিছু অপ-সাংবাদিকের কারনে প্রকৃত সাংবাদিকেরা ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যে মামলা সহ হামলার স্বীকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
শুধু তাই নয়,দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক কে অকালে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে। বর্তমানে সমগ্র দেশব্যাপী কিছু অপ-সাংবাদিক আছে, যাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধি লাভের আশায় প্রতিহিংসা বসত ও ষড়যন্ত্র মুলক প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিকল্পিত ভাবে বিপদের মুখে, মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। যা খুবই দুঃখজনক।
আমাদের মনে রাখা উচিত সাংবাদিকতা হলো এমন কিছু ছাপানো যা কেউ ছাপাতে চায় না; বাকি সব তো বিজ্ঞাপন। অপ-সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে অপরাধীর বিরুদ্ধে কাজ না করে, অপরাধীর পক্ষে কাজ করা, অপরাধীকে শেল্টার দেয়া, দালালি করা,অপরাধকে লালন পালন করা ইত্যাদি। বর্তমানে কিছু নামধারী অপ-সাংবাদিক আছেন,চাঁদাবাজি না করলে যাদের নেশার টাকা আসেনা,সংসার চলেনা। শুধু তাই নয় নেশার টাকা যোগাতে কিছু অপ-সাংবাদিক চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি,গুম,খুন, অপহরন, মাদক ও নারী ব্যবসা সহ জগন্যতম অপরাধের সাথে লিপ্ত থাকেন। যাহা সাংবাদিকতার ইতিবাচকের মধ্যে পড়েনা। অপর দিকে সাংবাদিকতা পেশাকে পুজি করে, সাংবাদিকতার পরিচয় লাগিয়ে কিছু অপ-সাংবাদিকতা দলবদ্ধ হয়ে মানুষের সাথে প্রতারনা সহ দাপিয়ে নানা ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। এদের বিরুদ্ধে কোন সাংবাদিক প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।
যদি কোনো সাংবাদিক প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে,তারা ঐ সাংবাদিক কে পরিকল্পিত ভাবে কৌশলে চিরতরে মুখ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে এই চক্রটি। তাকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়। এরা সাংবাদিক নামে হিংস্র ভয়ংকর, গোটা সাংবাদিক সমাজটাকে তারা কুলশিত করতেছে। এরা সাংবাদিক নামে আতংক। এদের কাছ থেকে দুরত্ব বজায় থাকা উচিত। প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনদের প্রতি আমার আহ্ববান অপ-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সবাই প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সচেতন সাংবাদিক মহল।
সুতরাং সত্যতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের নিয়মিত নৈতিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং): সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে আলাদা দল বা ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভুল তথ্য প্রচার হলে দ্রুত তার দায় স্বীকার করে সংশোধনী প্রকাশ করতে হবে। প্রেস কাউন্সিল ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষতিকর ও চটকদার সংবাদ বর্জন করে মানসম্মত সংবাদ গ্রহণে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত