নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সরকারি কর্মকর্তাদের ডিসি (জেলা প্রশাসক) ও এসপি (পুলিশ সুপার) পদে আকর্ষণীয় বদলি ও পদায়নের লোভ দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ও নতুন কৌশল শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। প্রথমে ভুয়া চুক্তিনামা ও ব্যাংক চেক হাতিয়ে নিয়ে, পরবর্তীতে দাবি করা টাকা না দিলে সেই চেকে ছবি ও চুক্তিপত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে কর্মকর্তাদের।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি ধাপে তাদের কার্যক্রম চালায়। যেভাবে পাতা হচ্ছে ফাঁদ:
১. টার্গেট নির্ধারণ: চক্রটি প্রথমে পদোন্নতি বা ভালো জায়গায় বদলি হতে ইচ্ছুক এমন সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা ও তথ্য সংগ্রহ করে।
২. উচ্চমহলের ভুয়া পরিচয়: সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভুয়া পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়।
৩. চুক্তিনামা ও চেক গ্রহণ: ডিসি বা এসপি পদে নিশ্চিত পদায়নের আশ্বাস দিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে একটি 'অঙ্গীকারনামা' বা 'চুক্তিনামা' সই করিয়ে নেওয়া হয়। একই সাথে জামানত হিসেবে নেওয়া হয় ব্যাংকের ব্লাঙ্ক (খালি) চেক।
৪. কোটি টাকা দাবি: চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর "উচ্চমহলকে ম্যানেজ" করা বা "হাত খরচ"-এর অজুহাতে হঠাৎ কর্মকর্তাদের কাছে কোটি টাকা দাবি করা হয়।
৫. ফেসবুকে ছড়ানোর হুমকি: কর্মকর্তারা যখন এই প্রতারণা বুঝতে পেরে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখনই চক্রটি ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। সই করা চুক্তিপত্র ও চেকের ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংস এবং সামাজিকভাবে হেনস্তা করার ভয় দেখানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শ ও আইনি পদক্ষেপ:পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি মারাত্মক সাইবার অপরাধ। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও মেধার ভিত্তিতে হয়, এখানে কোনো চুক্তির সুযোগ নেই। এই ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে ভয় না পেয়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:জিডি ও মামলা দায়ের: ঘটনার সাথে সাথে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে হবে।
প্রমাণ সংরক্ষণ: প্রতারকদের ফেসবুক আইডি লিঙ্ক, মেসেজ ও অডিও রেকর্ডের স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে সাইবার পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে।
ব্যাংক চেক ব্লক করা: প্রতারকদের হাতে চলে যাওয়া চেকের পাতাটি যাতে অপব্যবহার না হতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দ্রুত 'স্টপ পেমেন্ট' (Stop Payment) নোটিশ দিতে হবে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে এবং কর্মকর্তাদের যেকোনো প্রলোভন ও অপরিচিত মধ্যস্থতাকারীদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত