তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
নকলা সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ সন্ধ্যাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইউএনও আল-আমীনের প্রাণবন্ত আলাপচারিতা বিপিসির চেয়ারম্যান হতে গোপন চুক্তি লাবলুর রহমানের, বেবিচক জুড়ে তোলপাড় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিবাদী মিছিল অনুষ্ঠিত ষড়যন্ত্র কারীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ার নিউমার্কেট থানায় যুবদল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে পেজেশকিয়ানের স্ট্যাটাস অবশেষে ঢাকার রাস্তায় নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেট অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগের আহ্বান প্রজ্ঞার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখে দেওয়া হবে: রুহুল কবির রিজভী রামগড় বিজিবি কর্তৃক ভারতীয় নাগরিক আটক নাচে-গানে সমাপ্ত হলো হলো তিন দিনব্যাপী নৃ-গোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উৎসব ফুলের বৃষ্টিতে শেষ কর্মদিবস, বিদায় নিলেন শিক্ষকরা প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষায় পাস, চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক- ২ র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে চাকরির প্রলোভন, বেগমগঞ্জে প্রতারক আটক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিরাজগঞ্জে বেকারদের চাকরির লক্ষ্যে জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া, সম্পাদক আমিনুর বিস্ফোরক আইনের মামলায় বরগুনার সাবেক চেয়ারম্যান আটক রাজধানীতে নিষিদ্ধ আ.লীগের ২৬ নেতাকর্মী গ্রেফতার পিরোজপুরে মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে মানববন্ধন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আশুলিয়ায় ধর্ষককে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে মানব বন্ধন পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা শতকোটি টাকার সরকারি জমি সানভিউ টাওয়ার্সের দখলে ঝিনাইগাতীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এমসিজিএল’র অর্থায়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত ​সিরাজগঞ্জে মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ জিয়াউলের বিচার বিলম্বের চেষ্টা চলছে : চিফ প্রসিকিউটর ঝরা বকুল-এ মনিরা হয়ে হৃদয় ছুঁয়েছেন সুনেরাহ জনসেবার রাজনীতি থেকে মেয়র ভাবনায় সাইদুর রহমান বাচ্চু আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ৫ শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান গ্রেফতার কেশবপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ গণপূর্ত প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ বাকেরগঞ্জে একই রাতে ৫ বাড়িতে চুরি ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার ভোলাহাটে গুজবের ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১; আহত ১২: গ্রেফতার আতঙ্কে স্থানীয়রা গ্রামছাড়া! মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ইনুর রায় ৩০ জুন ফেসবুকে আলেমের বিরুদ্ধে বাপ-ছেলের অপপ্রচার খারিজ বাতিলের ২ দিন পরই নতুন খতিয়ান সিরাজগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে রামগড় বিজিবি পরিচালিত কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরন মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত তরুণের মৃত্যু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল মিশর মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ততার আড়ালে লক্ষ কোটি টাকা পাচার মেঘনা গ্রুপের

পাঠক সংখ্যা
638

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং তার পরিবারের সদস্যরা বড় অঙ্কের অর্থ পাচার করেছেন। পাচারের অর্থ দিয়ে তারা কোনো রাখঢাক ছাড়াই বিনিয়োগ করেছেন। খুলেছেন ব্যবসা, কিনেছেন জাহাজ, গড়ে তুলেছেন বাড়ি, ভিলা, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা।

বিদেশে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার আইনি বিধান থাকলেও তারা তার তোয়াক্কা করেননি।

মেঘনা গ্রুপের অর্থ পাচার ও বিদেশে অবৈধভাবে বিনিয়োগের বিষয়গুলো তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সিআইডি।

পাচারের অর্থ দিয়ে কোন দেশে কোন খাতে কত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার তালিকা করা হচ্ছে। বিনিয়োগের অর্থ কোন উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে মেঘনা গ্রুপের মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে একাধিক লিখিত অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ সামনে রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিযোগ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এমজিআইয়ের সিঙ্গাপুরে একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে। ২০১৮ সাল থেকে ওই সব প্রতিষ্ঠান শুরু করা হলেও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়নি। মেঘনা গ্রুপের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে, ‘মেঘনা ট্রেডার’ ও ‘মেঘনা প্রাইড’। এসব জাহাজ সিঙ্গাপুর ইউনিটের অধীনে কাজ করে। জাহাজ দুটি গড়ে প্রতিবছর ২৩৭ মিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। এমজিআই কোম্পানির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং তার তিন কন্যা এসব সম্পদের অংশীদার। মোস্তফা কামাল, তার কন্যাদের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সিঙ্গাপুরের জাতীয় নিবন্ধনপত্র আছে। তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিক বলেও অভিযোগপত্রে আছে।

তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাচারের ৮০ শতাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলে মিথ্যা তথ্যে পাচার করেছে। বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না এবং বিনা শর্তে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, এমন সব দেশ বা শহরেই মেঘনা গ্রুপের বেশির ভাগ অর্থ পাচার করা হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের গোপনীয়তা ছাড়াই মেঘনা গ্রুপ কোম্পানি খুলে পাচার করা অর্থ বৈধ (সাদা) বলে স্বীকৃতি আদায় করেছে। এরপর তা সেখানেই যে কোম্পানি খুলেছে, সেই কোম্পানির ব্যবসা থেকে মুনাফা দেখিয়ে সেখান থেকেও পাচারের অর্থ অন্য দেশে নিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে যেসব ব্যবসা খোলা হয়েছে সেগুলো হলো- জাহাজ, হোটেল, ভিলা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক স্থাপনা, দোকান ইত্যাদি। কেনা হয়েছে মোটা অঙ্কের সম্পদও। ব্যবসায় মুনাফার পরও কোনো অর্থ প্রতিষ্ঠানটি দেশে আনেনি বলে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।

ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক অনুসন্ধানকারী টিম কিছুদিন ধরেই কাজ করছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অন্যতম। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মেঘনা গ্রুপের কর্ণধার মোস্তফা কামাল ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ কোটি ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১২৬ টাকা শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। তবে এ সময়ে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) অনুযায়ী ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৪৮ হাজার ৩৬৮ কোটি ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৩১১ টাকা। সে হিসাবে আমদানির আড়ালে অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে গোপনে ৭৯ হাজার ৭৬২ কোটি ৯০ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আমদানি-রপ্তানিতে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তার মালিক এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাচার করা অর্থ এবং অনুমোদন ছাড়া বিদেশের ব্যবসা থেকে আয় করা অর্থ উদ্ধারে জোর দেওয়া হয়েছে। পাচারের অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পদ ক্রয়কারীদের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতেও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আটঘাট বেঁধে নেমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এমজিআইয়ের বিদেশে বিনিয়োগের অর্থ আইন মেনে নিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, তার স্ত্রী ও গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার এবং তাদের সন্তানদের ৩১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট ৩০ দিনের জন্য ফ্রিজ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, দেশ থেকে অনেকেই অর্থ পাচার করে সেই সব দেশে বা শহরে নিয়ে গেছে, যেখানে অর্থের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয় না। সেখানে কোম্পানি খুলে পাচার করা অর্থ হোয়াইট (সাদা) করে অন্য দেশে নিয়ে বিনিয়োগ করে ব্যবসা করছে। এ কাজে দেশের অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান জড়িত। এরা মুনাফার একটি অর্থও দেশে আনেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ পাচার করেছে। বিদেশে কোনো ধরনের গোপনীয়তা ছাড়াই বিনিয়োগ করে ব্যবসা করছে, সম্পদ করেছে।

অর্থ পাচার নিয়ে এনবিআরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মেঘনা গ্রুপ পাচারের অর্থে বিদেশে বেশি বিনিয়োগ করেছে সিঙ্গাপুর, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, দুবাই, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও হংকংয়ে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে। মেঘনা গ্রুপের বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন নেওয়ার কোনো তথ্য নেই।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদআমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ উপায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে ২৩৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে শ্বেতপত্রে। বিদেশে যারা বিনিয়োগ করেছে, সম্পদ করেছে এর প্রায় সব অর্থ দেশ থেকে পাচার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে আসছে। এসব অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ অনেকগুলো জাতীয় বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারত। অনেক বছর সরকার ব্যয় মেটাতে পারত। বিষয়গুলো তদন্ত করে শাস্তি দেওয়া জরুরি। অর্থ পাচার ও বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা নিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়েছিলেন মোস্তফা কামাল। মেঘনা নদীর জায়গা দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, অবৈধ দখলে নদী ভরাট করে নষ্ট করেছেন নদীর গতিপথ। বেসরকারি ৯টি ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। যার বেশির ভাগই ফেরত আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মেঘনা গ্রুপের নানাবিধ দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে।

মোস্তফা কামাল ও তার প্রতিষ্ঠান শিশুখাদ্য বেশি দামে আমদানি করে শুল্কায়নের সময় কম মূল্য দেখিয়ে একদিকে সরকারের শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে সেই টাকা পাচার করেছেন মর্মেও দুদকে একাধিক অভিযোগ আসে। এসব দুর্নীতি ও অপকর্মের শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে আওয়ামী লীগের কর্মীর মতো কাজ করেছেন তিনি। সে সময় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানেও বাধা সৃষ্টি করেন।

তদন্ত থেকে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে গ্রুপটির আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের প্রবণতা বেড়ে যায়। তবে করোনার প্রভাবে ২০২০ সালে আমদানি কমে যাওয়ায় সে বছর স্বাভাবিকভাবে এর পরিমাণ কমে। ২০২০ সালে এলসি ও শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের পার্থক্য ছিল ২৬৪ কোটি টাকা। অথচ এর আগের তিন বছর এর পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে গড় শুল্কহার সাড়ে ২৯ শতাংশ। হুন্ডিতে দায় শোধ করায় ৩ থেকে ৫ শতাংশে বেশি খরচ হয় আমদানিকারকের। ফলে সাড়ে ২৯ শতাংশ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে হুন্ডির পেছনে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ খরচ হলেও রাষ্ট্রকে একটি বড় অঙ্কের টাকা ফাঁকি দেওয়া হয়।

মোস্তফা কামালের এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৬০ থেকে ৭০টি নৌযান ও প্রায় ১ হাজার ২০০ মোটরযানের বিপরীতে বিমা পলিসি বাধ্যতামূলক থাকলেও পলিসির ৩০০ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। ব্যাংক কমিশনের ৬৩৮ কোটি ১০ লাখ ৩২ হাজার ৬৩০ টাকা এবং বিমা পলিসির বিপরীতে ৪ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটির ২৫ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার ৩০৫ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করে মেঘনা গ্রুপ। ভ্যাট হিসেবে ব্যাংক কমিশনের ১৫ শতাংশ টাকা পাওয়ার কথা রাষ্ট্রের। ভ্যাটের অন্তত ৯৫ কোটি ৭১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮৪ টাকা লোপাট করেছে গ্রুপটি। রাষ্ট্রের ভ্যাট ও স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ ৪০৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

ঝিনাইগাতীতে প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

ঝিনাইগাতীতে প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

মিজানুর রহমান, শেরপুরঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মডেল পাইলট স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন-মোল্লাপাড়া এলাকার ওয়াসিমের ছেলে রিয়াদ, বাদশা মিয়ার ছেলে বন্ধন এবং বালিয়াচন্ডি এলাকার আব্দুল সবুরের ছেলে ইমরান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে রিয়াদ ও বন্ধনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমসংক্রান্ত একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং

আরও পড়ুন
language Change