তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
ফাইল আটকে কমিশন বাণিজ্য গণপূর্তের প্রকৌশলী শরিফুলের যমুনা রেলওয়ে সেতু প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে দুদক পানি নিষ্কাশনের জন্য কাটা বাঁধই এখন দুর্ভোগের কারণ জয়মনি গ্রামে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্ভোগে বাসিন্দারা সংবাদ প্রকাশের জেরে সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা চাকরিতে প্রক্সি সিন্ডিকেটের নেপথ্যে জনস্বাস্থ্যের আনোয়ার ও কাস্টমসের সিপাহী আজিজ! অভিযোগের পাহাড়, তবুও নীরব রাজউক: ‘অপ্রতিরোধ্য’ দুর্নীতির জালে আবুল কালাম আজাদ উত্তরা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাকসুদুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কমিটির উদ্যোগে মিছিল ‎ সিরাজগঞ্জে সেতুর নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার নলডাঙ্গার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন-মনিরুল ইসলাম ডাবলু বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সিন্ডিকেটের প্রভাবে সচিব সাইফুল ইসলাম বহাল তবিয়তে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের মানহানী মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ইরান ও লেবাননের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ১৬ বার জনগণের টাকা পাচার হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের শিশু ধর্ষণের আসামি মুনিরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মামলা ও সিন্ডিকেটের ফাঁদে ঢাকার ১২৩ পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি, বেহাত হাজার কোটি টাকা জিয়া শিশু কিশোর মেলা, গাজীপুর মহানগর কমিটি ঘোষণা ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ বিদ্যুৎতের তার চুরি করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু ​চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ২ কামারখন্দে সাড়ে ৩ হাজার ফুট পতাকা টাঙিয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চমক বিশ্বম্ভরপুরের ফতেপুরে মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় মানববন্ধন ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত বুড়িচংয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য আটক মাদক সেবন ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িত ৪ জনের কারাদণ্ড ভাগনেকে বিয়ে করলেন মামী, দেশে ফিরে আত্মহত্যা প্রবাসী স্বামী চট্টগ্রাম-জামালপুরের শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ওপিসিডব্লিউ পরিদর্শক দল বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের পথে প্রধানমন্ত্রী সাব রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ২০ বছরেও পাকা হয়নি ইটের রাস্তা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ বটিয়াঘাটায় সুধী সমাবেশ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ, পুলিশের কঠোর আশ্বাস শ্রীমঙ্গলে ৮ বছর বয়সী শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আজাদের অভিনব টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ রেল যোগাযোগের আওতায় যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ জেলা ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ময়লা অপসারণে ব্যাপক উদ্যোগ-সফিউদ্দিন আহম্মেদ সেন্টু বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বৃক্ষ রোপন অনুষ্ঠিত গণমাধ্যম স্বাধীন থাকলে ক্ষমতা জবাবদিহিতার মুখোমুখি থাকবে: তথ্যমন্ত্রী পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব সহকারী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ৭ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়: আপিল শুনানি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি বাংলা টিভির সামাদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

জ্বালানি সিন্ডিকেটের প্রভাবে সচিব সাইফুল ইসলাম বহাল তবিয়তে

জ্বালানি সিন্ডিকেটের প্রভাবে সচিব সাইফুল ইসলাম বহাল তবিয়তে
পাঠক সংখ্যা
638

ডেস্ক রিপোর্টারঃ

যেভাবে চলছে বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল সম্প্রতি । এরপরে দলকানা জামায়াত হিসেবে চিহ্নিত ফারজানা মমতাজকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারচেয়েও অদক্ষ, অযোগ্য এবং দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত জ্বালানি ও সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছেন।

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম যদিও নিজেকে তাবলিগ সদস্য বলে দাবি করে থাকেন, আদতে তিনি ‘গুপ্ত জামায়াত’ এবং জামায়াতের রুকন বলেও চিহ্নিত হয়েছেন ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে। তার অতিরিক্ত যোগ্যতা হচ্ছে, জ্বালানি খাতকেন্দ্রীক বিভিন্ন শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় নেতৃত্বদান। এ কাজে সচিব সাইফুল ইসলাম ইতিমধ্যে অত্যন্ত পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, যদিও মন্ত্রণালয়ের সরকারি দায়িত্ব পালনের কাজে রয়েছে তার চরম ব্যর্থতা, অদক্ষতা, অযোগ্যতা। এমনকি সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্রেও সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পান ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর। এর আগের দিন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফারজানা মমতাজ। অন্তর্বর্তী সরকারের দলকানা উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিশেষ সুপারিশে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির সচিব হিসেবে এই দুই কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছিলেন। ফাওজুল কবির অন্তর্বর্তী সরকারে জামায়াতের আমীর এবং বহুল আলোচিত কিচেন কেবিনেটরও মূল ব্যক্তি ছিলেন। কিচেন কেবিনেট’র মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতকে ক্ষমতাসীন করাটাই ছিল ফাওজুল কবির খানের মূল এজেন্ডা। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত ফাওজুল কবির পুরোপুরি এ কাজেই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। জামায়াতকে ক্ষমতায়নের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ফারজানা মমতাজ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-রা ছিলেন ফাওজুল কবিরের একেকটি হাত।

ফারজানা মমতাজ বিদ্যুৎ সচিব পদে থেকে স্বামী, পুত্র-পুত্রবধুকে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিতে যুক্ত করেছেন। শীর্ষকাগজ-শীর্ষনিউজের ওই প্রতিবেদনে এর কিছুটা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে সচিব সাইফুল ইসলামের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকারও কিছু তথ্য ছিল ওই প্রতিবেদনে। তবে পরবর্তীতে সচিব সাইফুল ইসলাম সম্পর্কে আরও যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা অত্যন্ত ‘গুরুতর’ এবং ‘ভয়াবহ’ রকমের। ইসলামী লেবাস ও সততা দাবির আড়ালে সাইফুল ইসলাম আদতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের সকল অপকর্মের ‘নাটের গুরু’ হয়ে উঠেছে গত দেড় বছরে- বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ৫ আগস্ট, ২০২৪’র পরে পালিয়ে যাওয়া হাসিনা-বিপু সংশ্লিষ্ট জ্বালানি খাতের দুর্নীতির সিন্ডিকেটগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সচিব সাইফুল ইসলামই পুনর্বাসিত করেছেন। এখন এই বিএনপি আমলেও তারা নতুন আঙ্গিকে বহাল তবিয়তে রয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব পদে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো গত শীতে কৃত্তিম এলপিজি সংকট তৈরি। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেও মানুষের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় এলপিজি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের এলপিজির বাজার প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতে। এবং ৯-১০ জন ব্যবসায়ী এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। বেসরকারি ব্যবসায়ীরা যাতে অনৈতিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে, এটা দেখা হলো সরকারের কাজ। অতীতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলেও কখনো এলপিজি সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে এভাবে জিম্মি করতে পারেনি, যা সচিব সাইফুল ইসলামের আমলে করেছে।

অভিজ্ঞমহলের মতে, ব্যবসায়ীরা কখনো সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে না, যদি সরকারের ভেতর থেকে দায়িত্বে অবহেলা অথবা ইচ্ছেকৃত ‘ছাড়’ দেওয়ার প্রবণতা না থাকে। বেসরকারি ব্যবসায়ীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ তথা এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমন্বয় ও মনিটরিংয়ের বিষয়ে সচিবের নেতৃত্বে যেসব সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল তা মোটেই দেখা যায়নি ওই সময়। এমনকি সংকট তৈরি হওয়ার পরও, সারাদেশে যখন এলপিজি গ্রাহকদের হাহাকার চলছিল সেই সময়েও গা ছাড়া ভাব এবং কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিতেও দেখা গেছে মন্ত্রণালয়কে। যেমন- এক পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নিজেরাই এলপিজি আমদানি করবে। কিন্তু আদতে এই ঘোষণাটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য প্রতারণামূলক। কারণ, আমদানি করা হয়ে থাকে কাঁচামাল প্রোপেন, বিউটন- এলপিজি নয়। বিপিসি সরাসরি এসব কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যেতে হবে এলপিজি-তে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য। বিপিসির মালিকানাধীন এলপি গ্যাস লিমিটেড নামে এলপিজি উৎপাদনকারী যে প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে এর সক্ষমতা খুবই সামান্য। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না আসতেই ইরান যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শুরুতেই জ্বালানি তেলের কৃত্তিম সংকট তৈরি করা হলো। তখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুত ছিল। সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গোপনে রাতারাতি অনেক তেল সরবরাহ করা হলো। মজুত কমে অর্ধেকে নেমে এলো। ধরা পড়ার পর বিপিসির দু’জন পরিচালককে ক্লোজ করা হলো। তবে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা অর্থাৎ চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বহাল তবিয়তেই থেকে গেলেন। অদক্ষতা, দায়িত্বে অবহেলা অথবা দুর্নীতির সিন্ডিকেটে জড়িত থাকা- এই তিনটির যে কোনোটি তার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রযোজ্য। তাতে তার এই পদে থাকার কোনোই সুযোগ নেই। কিন্তু তিনি কীভাবে বহাল তবিয়তে রয়ে গেলেন এখন পর্যন্ত প্রশ্ন রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের। উত্তর একটাই- তিনি সচিবের লোক। শুধু তাই নয়, দুই পরিচালককে ‘ক্লোজ’র পর নতুন যে দুই কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে তারাও সচিবেরই লোক। তিনিই পছন্দ করে এই দুই কর্মকর্তাকে পদায়নের ব্যবস্থা করেছেন। অর্থাৎ সচিব সাইফুল ইসলামের ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে এতে। পরবর্তীতে অতি দ্রুত এই সংকট চরম আকার ধারণ করাও এর নেপথ্য কারণ, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ দেড় মাস ধরে চলা জ্বালানি তেলের চরম সংকট কীভাবে ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ রহস্যজনকভাবে ‘নাই’ হয়ে গেলো, সাধারণ মানুষের এমন প্রশ্নের জবাব এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

শুধু বিপিসি-ই নয়, পুরো জ্বালানি খাতই সচিব সাইফুল ইসলাম নিজের পছন্দের এবং একই রাজনৈতিক আদর্শের লোকজনকে দিয়ে সাজিয়েছেন। এদের কেউ কেউ ফ্যাসিস্ট এবং চরমভাবে দুর্নীতিবাজ বলেও চিহ্নিত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাইফুল ইসলাম এদেরকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের ব্যবস্থা করেছেন। ফ্যাসিস্ট ও শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যুগ্মসচিব হায়াত মো. ফিরোজকে সচিব সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উন্নয়ন-২ অধিশাখাও দেওয়া হয়েছে এই শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার হাতে। গণপূর্ত ক্যাডারের এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ আমলে ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে। অর্থসচিব এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে ব্যাংক লুটে নেতৃত্ব দেওয়া কুখ্যাত আব্দুর রউফ তালুকদারের অন্যতম শীর্ষ ছিলেন সাবেক গণপূর্ত ক্যাডারের এই কর্মকর্তা, যুগ্মসচিব হায়াত মো. ফিরোজ। অর্থ মন্ত্রণালয়ে থাকতে আব্দুর রউফ তালুকদারের দাপটে চলতেন তিনি। রউফ তালুকদারের উত্তরার বাড়িটি তাঁর হাতেই তৈরি করা। বাথরুমের ফিটিংসও তিনি পছন্দ করে কিনে দিয়েছেন, একথা তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহকর্মীদের কাছে গর্ব করে বলতেন। অবাক ব্যাপার হলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এই ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা পদোন্নতি আদায় করে নিয়েছেন। যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির পর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক কর্মকর্তা পদে আকর্ষণীয় পদায়ন পান অত্যন্ত দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা। এসবের জন্য হায়াত মো. ফিরোজকে অবশ্য বড় অংকের ঘুষ দিতে হয়েছে। এখন তাকে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুবিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলপিজি সংক্রান্ত কাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ শাখাও তার হাতে। উল্লেখ্য, সচিব সাইফুল ইসলাম নিজেও ইতিপূর্বে দীর্ঘকাল অর্থমন্ত্রণালয়ে পদায়নে ছিলেন। রউফ তালুকদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তাঁরও। কুখ্যাত আব্দুর রউফ তালুকদারের শীর্ষ হিসেবে তাকেও ধরা হয়ে থাকে।

ভোলায় গ্যাস প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে ২০১৮ সালে। এ পর্যন্ত সেখানে পর পর তিনটি গ্যাস কূপ আবিষ্কৃত হয়েছে। গ্যাস সংকটে ভুগছে দেশ, অথচ এসব কূপে পর্যাপ্ত গ্যাস থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। উত্তোলিত গ্যাস পাইপলাইনে করে বরিশাল হয়ে অথবা খুলনা হয়ে আনা যেতে পারে, অথবা সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ আনা যেতে পারে। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, তা নিলেই হয়। কিন্তু এ ব্যাপার ক্রমাগত গড়িমসি চলছেই। নিজস্ব আবিষ্কৃত গ্যাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি বাবদ লুটপাটের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে, তাই আওয়ামী লীগ আমলে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবাক ব্যাপার হলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একই ধারায় ছিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং এখনো তাই। ভোলার এই গ্যাস ক্ষেত্র নিয়ে কিছুদিন পর পর প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করছেন সচিব সাইফুল ইসলাম। কিন্তু কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। অর্থ সংকটের এই সময়ে গ্যাস ক্ষেত্রটি ব্যবহার করা গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অনেক সাশ্রয় হতো। আদতে তিনিও একই সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করেছেন এবং এখনো করছেন। আওয়ামী লীগ আমলে জ্বালানি তেল আমদানিতে সবচেয়ে বড় মাফিয়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ডা. এজাজুর রহমান। ইতিপূর্বে বায়িং হাউজ এবং শিপিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আমলের শুরুতে জড়িত হন জ¦ালানি তেলের ব্যবসায়। সেই থেকে ক্রমান্বয়ে তিনি শেখ হাসিনা এবং নসরুল হামিদ বিপুর লুটপাটের যোগ্য প্রতিনিধি হয়ে উঠেন। এই খাত থেকে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেন হাসিনা এবং বিপু এই এজাজের মাধ্যমে। ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি ও কারসাজির মাধ্যমে এসব অর্থ লুটে নেয়া হয়। ডা. এজাজই লুটপাটের পথ বাতলে দেন। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা-বিপু পালিয়ে গেলে দৃশ্যপট থেকে ডা. এজাজেরও তাৎক্ষণিক প্রস্থান ঘটে। কিন্তু পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির এবং সচিব সাইফুল ইসলামের হাত ধরে ডা. এজাজ সিন্ডিকেট ক্রমান্বয়ে নতুনভাবে আবির্ভূত হয়। এই বিএনপি সরকারের আমলে হঠাৎ শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি ডা. এজাজ সিন্ডিকেটের জন্য নতুন দরজা খুলে দেয়। সচিব সাইফুল ইসলামও নানা কৌশলে এই সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছেন। সাইফুল ইসলামকে জ্বালানি সচিব এবং রেজানুর রহমানকে বিপিসির চেয়ারম্যান পদে বহাল রাখার ক্ষেত্রে মাফিয়া সিন্ডিকেট ডা. এজাজের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

শুধু তেল আমদানি সিন্ডিকেটই নয়- এলপিজি ব্যবসা, তেলের পাইপলাইন নির্মাণসহ জ্বালানি খাতের সবক’টি সিন্ডিকেটের সঙ্গে রয়েছে সচিব সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। জ্বালানি খাতে এখন সবচেয়ে ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা পাইপলাইনের অপারেট নিয়োগকে কেন্দ্র করে। এসপিএম বা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং হলো গভীর সমুদ্রে স্থাপিত এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বড় ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল বা জ্বালানি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তীরে বা রিফাইনারিতে স্থানান্তর করা হয়। এটি সরাসরি তীরের জেটির সঙ্গে সংযুক্ত না থেকে সমুদ্রে ভাসমান বয়া হিসেবে কাজ করে। চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে জাহাজ থেকে সরাসরি ক্রুড অয়েল স্থানান্তরের জন্য এমনই একটি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী সরকার। শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৯শ’ ৩৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৮ হাজার ২শ’ ২২ কোটি টাকা করা হয়। শেখ হাসিনা, নসরুল হামিদ বিপু ছাড়াও অন্য একটি দুর্নীতিবাজচক্র এর সঙ্গে জড়িত ছিল। হাসিনা-বিপু না থাকলেও মধ্যসত্ত্বভোগী দুর্নীতিবাজ চক্রটি এসপিএম’র অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে এখনো সক্রিয় রয়েছে। এমন এক বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় অপরেটর নিয়োগের পাঁয়তারা চলছে বর্তমানে, যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ছিল জাতীয় নির্বাচনের তারিখ। এই তারিখটিকে টার্গেট করেই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এসপিএম’র অপারেশন এবং মেনটেইনেন্স কাজের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয় নির্বাচনের পাঁচ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি, মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের দিন। এটা সবারই জানা কথা, বাংলাদেশে এই নির্বাচনটা ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় অন এরাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত ছিল। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাচলে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। নানা অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বের নামকরা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের প্রযুক্তি দল পাঠাতে পারেনি। এ কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিযোগতিমূলক প্রস্তাব তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। অথচ এই সময়টিকেই বেছে নেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিপিসি রেজানুর রহমান। অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ১১টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল। কিন্তু নির্বাচন পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনটি কোম্পানি দরপত্র জমা দিয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ের কথা বিবেচনা করে কোম্পানিগুলো নতুন সরকার গঠনের পরে কোনো একদিন দরপত্র গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করতে অনুরোধ করে। তাতে কর্ণপাত করেননি জ্বালানি সচিব ও বিপিসির চেয়ারম্যান। মূলতঃ হাসিনা-বিপু সংশ্লিষ্ট মধ্যসত্ত্বভোগী দুর্নীতিবাজ চক্রটির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এই দুই কর্মকর্তা। বর্তমান বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকেও চক্রটি ইতিমধ্যে ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাছাড়া এই চক্রগুলো ‘গুপ্ত’ এজেন্ট হিসেবে আগামীতে যে কোনো সময় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারকে বিপর্যয়ের মধ্যেও ঠেলে দিতে পারে। জ্বালানি খাতে গড়ে উঠা এই ‘গুপ্ত জামায়াত’ সিন্ডিকেট বিএনপি সরকারের জন্য অশনিসংকেত।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে প্রচারণায় নামবেন তারেক রহমান

শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে প্রচারণায় নামবেন তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্টঃ আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। এ আসনের আওতায় গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে শনিবার। আপিলের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। আপিল নম্বর অনুযায়ী, শুনানির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জানুয়ারি ১-৭০, ১১

আরও পড়ুন
language Change