তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
বিড়াল হত্যায় একজনের জেল মিয়া নুরুদ্দিন অপু মাননীয় হুইপের একান্ত সচিব নির্বাচিত হলেন জয়নাল আবেদীন হাসনাত আবদুল্লাহর লাইভে উন্নয়ন পরিকল্পনা রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন দেওয়াল চাপা পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ আটক ১ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্ৰুপের সদস্যদের কারিগরি ও কৌশলগত প্রশিক্ষণ যশোর অভিযান চালিয়ে ককটেলসহ আটক ১ খুলনায় ৫ হাজার ২৭৫ উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শহীদ নগরে পথচারীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে রামগড়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীর আর্তনাদে জেগে উঠছে কঠিন প্রশ্ন ইরানের ২ নারী ফুটবলারকে আশ্রয় দিলো অস্ট্রেলিয়া নকলায় রমজান উপলক্ষে ফুড প্যাকেট বিতরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কোটি টাকা ঘুষ দাবি প্রসিকিউটরের, অডিও ফাঁস জুলাই আন্দোলনে ডিসি মাসুদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ঈদের দিনে টিভিতে শাকিব খানেরই সাত সিনেমা আইন মানতে গিয়েই মামলার আসামি ব্যাংক ম্যানেজার প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল গৃহবধুকে মুখ বেঁধে খালে ফেলে হত্যা চেষ্টা ফুটপাত দখলে নিয়ে চলছে চাঁদাবাজি খুলনা নগরীতে ধুলোর রাজত্ব: যত্রতত্র বালু-মাটিতে বিপন্ন জনজীবন আগামী মাসের মধ্যে কৃষক কার্ড দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ: প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন নতুন স্পিকার জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস রামগড়ে পালিত ২৬ সে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত জ্বালানি সংকটের চাপ পণ্য সরবরাহে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ১৫ বছর খেতে পারেনি বিএনপি, এখন খাবে’ চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাব-৫ অভিযানে মাদকসহ আটক ৩ সাংবাদিক তরিক শিবলীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট: ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও বহাল তবিয়তে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি দৈনিক সময় বার্তার ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদের ছুটি বাতিল করল এনবিআর, নতুন নির্দেশনা কালীগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত ঝিনাইগাতীতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ৪৭টি মাথার খু'লি ও ক'ঙ্কাল সহ ৪ জনকে আ'ট'ক করেছে পুলিশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ অনুদান ঘোষণা ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে বললেন পুতিন আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম সাইবার বুলিং ও হত্যার হুমকিতে থানায় তিথির জিডি সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য : প্রধানমন্ত্রী নতুন নেতা নির্বাচন নি‌য়ে যে বার্তা দিল ইরা‌নের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেশবপুরে ভেজাল বিরোধী অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা আমরা আমাদের কথা রেখেছি-এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল খুলনায় এসেছে ৪ হাজার ১৫৮টি ফ্যামিলি কার্ড নতুন বাংলাদেশ এগিয়ে নিয়ে যাব:- নাহিদ ইসলাম

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার তালিকায় জুলাই শহীদ শিহাব হত্যা মামলা

পাঠক সংখ্যা
638

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ওয়াকিল আহমেদ শিহাব। জুলাই আন্দোলনে গুলিতে শহীদ হন তিনি। সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের উপর্যুপরি গুলি লাগে তার পিঠে। পরে তাকে ধরে কপালে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। গতবছর চার আগস্ট ফেনীর মহিপালে সমাবেশ হচ্ছিল। সেই সমাবেশে হামলা চালানো হয়। এই সমাবেশ স্থলে শিহাবসহ শহীদ হন ৭ জন। এ ব্যাপারে আলাদা আলাদা মামলা হয়। কিন্তু জুলাই শহীদ শিহাব হত্যা মামলা নিয়ে ঘটে অকল্পনীয়, অসম্ভব এক প্রতারণা।
দেশে এ পর্যন্ত এমন ঘটনা কোথায় ঘটেনি। ঘটবেও না। কিন্তু ফেনীতে যা ঘটেছে তা শুনলে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ার মতো অবস্থা। বাদী জানেন না। বাদীপক্ষের আইনজীবীও জানেন না। বিগত সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে জেলা পর্যায়ে কমিটি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারযোগ্য মামলাগুলো কমিটির সদস্য সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটরের স্বাক্ষরে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা বলা হয়। ফেনী থেকে এমন ৫৮০টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে রহস্যজনকভাবে তালিকায় দেয়া হয় জুলাই শহীদ শিহাবের মামলাটিও। এজন্য করা হয় নানা কৌশল।
শিহাব হত্যার ঘটনায় গত বছর ২০শে আগস্ট ফেনী সদর মডেল থানায় মামলা করেন তার মা মাহফুজা আক্তার। মামলা নম্বর- ১৪, জিআর-৩৭২/২০২৪। এতে প্রধান আসামি করা হয় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহম্মেদ নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। এরইমধ্যে শিহাব হত্যা মামলায় ১৫১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলাটিতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আটক আসামিরা। এ মামলা কীভাবে কেন বিগত সরকারের হয়রানিমূলক মামলার অন্তর্ভুক্ত হলো? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন সর্বত্র। জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কমিটির যাচাই-বাছাইক্রমে জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মেছবাহ উদ্দীন খানের সুপারিশটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চলতি বছরের ২৩শে র্মাচ। এতে নির্দিষ্ট ফরমে উল্লেখ করা হয়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ফেনী সদর-এ মামলাটি তদন্তাধীন। ঘটনার স্থান হিসেবে ফেনী থানাধীন তথ্য দিয়ে এফআইআর অনুযায়ী মামলার নিচের দিকের দুই আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। নামের ক্রমিক নং উল্লেখ করা হয় আবদুল্লাহ আল মহসিন ও আবুল কালাম ওরফে ছালাম উল্যাহর নাম। সুপারিশপত্রে ফেনী থানার মামলা নম্বর দেখানো হয়েছে ২৫, তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১১/২৪, আর জিআর ৩৭২/২৪। প্রকৃত পক্ষে শিহাব হত্যায় ফেনী থানায় মামলা নম্বর-১৪, জিআর-৩৭২/২০২৪। এখানে প্রধান আসামিসহ তিন সাবেক এমপি’র কারও নাম দেখানো হয়নি কৌশলে। তাদের নাম দিলে বিষয়টি খোলাসা হয়ে যাবে। আর সমস্যায় পড়বে জেলা কমিটি। এভাবেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শিহাবের মামলাটি তালিকায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। অথচ মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা চাওয়া হয় ৫ই আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের রাজনৈতিক হয়রানি মামলার তালিকা। সে তালিকা তৈরির জন্য জেলা পর্যায় ও মন্ত্রণালয়ে দু’টি কমিঠি গঠন করা হয়। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে রয়েছেন- জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজের একজন করে প্রতিনিধি এবং পিপি এ কমিটির সদস্য। এ কমিটি জনগণের কাছে হয়রানিমূলক মামলার নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্রসহ আবেদন চায়। বিভিন্ন মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাছাই করে এ কমিটি ৫৮০টি মামলা প্রত্যাহারের জন্য গত বছর ১৬ই ডিসেম্বর সুপারিশ পাঠায় মন্ত্রণালয়ে। প্রতিটি মামলায় পিপি নিজে স্বাক্ষর করে তা পাঠানো হয়। এ সব মামলা থেকে ইতিমধ্যে ২৩১টি মামলা প্রত্যাহার করতে চলতি বছর ৩০শে জুন জেলা পিপি’র কাছে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। বাকিগুলো পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শিহাবের মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশে পিপি স্বাক্ষর ও মামলাটি প্রত্যাহারযোগ্য সিল দেয়া হয়। তারিখ দেন ২৩/৩/২০২৫ ইং। প্রশ্ন ওঠে কত কৌশল খাটানো হয়েছে এ মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টায়। মামলাটির থানার নম্বর ও তারিখ সুকৌশলে গোপন করে প্রকৃত মামলাটি প্রত্যাহারের অপচেষ্টা বলে মনে করছেন এক আইনজীবী।
গত বছর ২২শে সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সময় ও নানা কারণে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুইটি কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের স্বাক্ষরে পরিপত্র জারি করা হয়। জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকার জন্য পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার) ও পাবলিক প্রসিকিউটরকে (মহানগর এলাকার মামলাসমূহের জন্য মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর) সদস্য এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য সচিব করা হয়।
জেলা পর্যায়ের কমিটির কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে- রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে এজাহার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিযোগপত্রের সার্টিফাইড কপি দাখিল করতে হবে। আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দরখাস্তটি পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে মতামতের জন্য পাঠাবেন। আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে পাবলিক প্রসিকিউটর তার মতামত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন। পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনটি ৭ দিনের মধ্যে জেলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করবেন।
জেলা কমিটির কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি রাজনৈতিক বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে হয়রানির জন্য করা হয়েছে, তাহলে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য কমিটি সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সুপারিশ, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্রসহ আবেদন প্রাপ্তির ৪৫ দিনের মধ্যে সংযুক্ত ছক অনুযায়ী তথ্যাদিসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এতে থাকতে হবে পিপির সুপারিশসহ স্বাক্ষর।
মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটির কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়- জেলা কমিটির কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটি সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। প্রত্যাহারযোগ্য মামলা চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করবে এবং মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর আওতাধীন মামলাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন-১৯৫৮ এর ১০(৪) বিধানমতে কমিশনের লিখিত আদেশ ব্যতীত প্রত্যাহার করা যায় না।
এ কারণে এ ধরনের মামলা চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করতে হবে। মামলার বিষয়ে করণীয় পরে নির্ধারণ করা হবে। এই কমিটিতে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সভাপতি করে জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখার উপ-সচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব বা সহকারী সচিবকে সদস্য সচিব করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো প্রকারেই শহীদ শিহাবের মামলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। এছাড়া এ মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদী আবেদনও করেনি। কিংবা বাদীর আইনজীবীও বিষয়টি জানেন না।
শহীদ শিহাবের মামলার আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি শুনে অবাক হন। তিনি বলেন, বাদী শত প্রতিকূলতার মাঝেও পুত্র হত্যার বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আমার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এছাড়া প্রশাসন ও আদালত সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন জুলাই অভ্যুত্থানের মামলার বিচার নিশ্চিতে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।
মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, শিহাব যেদিন মারা যায় সেদিন শেষ বক্তা ছিলাম আমি। আমার বক্তব্য দেয়ার মাঝেই ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। সেখানে ৭ জন নিহত হয়। এই ৭টি মামলার দায়িত্বই আমি নিয়েছি। বিনা-পয়সায় এ মামলাগুলো আমি চালাবো প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যেখানে মামলার বিচারের জন্য শহীদ পরিবারগুলো গুমরে কাঁদছে সেখানে শিহাবের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন খুবই রহস্যজনক।
তিনি বলেন, এছাড়াও পরদিন ৫ই আগস্ট শহরের বড় মসজিদের সামনে গুলিতে নিহত হন একজন। এ মামলাটিও আমি আইনজীবী হিসাবে লড়ছি।
এ ব্যাপারে শিহাবের পরিবারও কিছু জানেন না। তারা নিশ্চিত আইন-প্রশাসন আর আইনজীবী মিলে সবাই মামলা নিয়ে একাট্টা।
ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর গ্রামে শহীদ শিহাবের বাড়ি। শিহাবের বাবা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ থাকেন সৌদি আরব। পুত্রের মুত্যু সংবাদ শুনে তিনি দেশে আসেন। মা মাহফুজা আক্তার। তিনিই শিহাব হত্যা মামলার বাদী। শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার তুলে ধরেন তার ছেলে হত্যার ঘটনা, মামলা ও মামলা পরবর্তী অবস্থা।
জানান শত চেষ্টা করেও ছেলেকে হাসিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়া থেকে বিরত রাখা যায়নি। ৪ঠা আগস্ট চার থেকে পাঁচবার বাড়ি থেকে মহিপাল আন্দোলনে অংশ নেন শিহাব। সবশেষ মাকে বলে আসেন হাসিনার পতন ঘটিয়েই বাড়ি ফিরবেন। আর বন্ধুদের আগের রাতে বলেছিলো এ আন্দোলনে যদি শহীদ হওয়া যেতো! মাহফুজা বলেন, তার এই চাওয়া যে আল্লাহ্‌ কবুল করে নেবেন কে জানতো? মাহফুজা বেগম বলেন, সন্তান শহীদের মর্যাদা পেয়েছে। এখন আমার দাবি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি- মৃত্যুদণ্ড।
শিহাবের মা ও বাবা জানান- কয়েকদিনে অন্তত ৫ জনের মাধ্যমে মামলা থেকে আসামির নাম বাদ দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকার অফার এসেছে। সবশেষ ২৬শে সেপ্টেম্বর তিনজনকে মামলা থেকে বাদ দিলে তিন লাখ টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়। মাহফুজা বলেন, ছেলে হারিয়েছি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশায় আদালত থেকে থানা, পুলিশ ও আইনজীবী পর্যন্ত তীক্ষ্ণ নজর রাখছি।
তিনি বলেন- কোটি টাকা পেলেও ছেলে আর ফিরবে না, তাই বিচারে কোনো আপস করা হবে না। মামলাটি আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বিনা খরচে পরিচালনা করছেন বলেও জানান- মাহফুজা।
এ ব্যাপারে জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিটউর (পিপি) মেছবাহ উদ্দীন খান বলেন, এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি আমার নলেজে নেই।
শহীদ শিহাবের মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় যাওয়ার কোনো কারণ নেই। শিহাবের মামলা তো চার্জশিট হয়েছে। সেটা তো প্রত্যাহার হওয়ার কারণ নেই। এমনও হতে পারে কম্পিউটার মিসটেক হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত যেসব মামলা প্রত্যাহার করার জন্য সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি এরমধ্যে ২৩১টি এ পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়েছে।
শিহাবের মামলার বিষয়টি অফিস খুললে নথি দেখে বলতে পারবো। সাত শহীদের মামলা প্রত্যাহার করে রেখেছি। মামলা না ৮ টি? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে ৮ জন নয়, সাতজন শহীদ হন। একটি মামলা হয়েছিল গুলি করে ছাত্রলীগের ছেলেরা যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়। সেটি শহীদ হিসাবে মামলা হয়েছিল। সেটি বাদ দেয়া হয়েছে। আসলে মামলা ৭টি। মামলা প্রত্যাহারে কৌশল করা হয়েছে।
যেমন এক নম্বর আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তারপর রয়েছেন আলাউদ্দিন নাসিম, নিজাম হাজারী প্রত্যাহারের তালিকায় তাদের নাম না দিয়ে নিচের দিকের দুইজনের নাম দেয়া হয়েছে। যার জিআর নং ৩৭২/২৪। পিপি বলেন, আসলে আমি এ মুহূর্তে আপনাকে কোনোটাই শিউর করে বলতে পারছি না। কাগজপত্র দেখে বলতে হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

শীতার্ত মানুষের পাশে ইউএনও আশরাফুল আলম

শীতার্ত মানুষের পাশে ইউএনও আশরাফুল আলম

মিজানুর রহমানঃ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড় এলাকায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে পাহাড়ি জনপদ। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের অসহায় হতদরিদ্র, এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এসব অসহায় ও রাস্তার ছিন্নমূল শীতার্তদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল। ৩রা জানুয়ারি পানবর, উপজেলা পরিষদ,তাওয়াকোচা, বাফার গোডাউনে শ্রমিকদের মাঝে ও গরুচরণ দুধনই এলাকায় প্রায় ১০০ টি কম্বল অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতিমখানা ও মাদরাসা এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে তিনি। জানা গেছে, শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে শীতার্ত মানুষের

আরও পড়ুন
language Change