তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
নদী পারাপারে ভোগান্তি কমাতে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত শেরপুরে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন মোহাম্মদপুর অভিযানে হামলার শিকার পুলিশ ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনায় মোশারফ হোসেন খোকন জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসব বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফিরেই গোলের দেখা পেলো নেইমার এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করছে সরকার গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট খামারিদের সুরক্ষা জন্য বিজিবিকে কঠোর নির্দেশনা: প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জাগৃকের ২০ একর জমি পাঁচ কোম্পানির দখলে নলডাঙ্গায় রেল স্টেশনের ওভার ব্রিজের পিলারে ধাক্কা ১ শিশু মৃত্যু নাটোর সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন মাননীয় সংসদের হুইপ ৩৬ টি কোম্পানীর প্লট ফ্ল্যাট না কেনার আহ্বান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নাটোরের পার্কে দুই বিদেশি নাগরিক হেনস্তার ঘটনায় দুইজনকে আটক নলডাঙ্গার খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্টের খাঁটি চাল উত্তরবঙ্গে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে‎‎ পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে দীঘিনালায় মানববন্ধন স্নেহের প্রতিদান দখলবাজি বাবার জমি নিজের কব্জায় নিলেন মেয়ে! কেশবপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-এ সাফল্য জুয়ার আসরের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি রূপপুর, টানেল ও পদ্মা সেতুতে অপ্রয়োজনীয় খরচ না হলে ভালো কিছু করা যেত রাজারবাগে পুনাক মেলা উদ্বোধন: কেএমপি স্টলে প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি নেপালে অবতরণের সময় হঠাৎ বিমানে আগুন আম কুড়ানোর তুচ্ছ ঘটনায় পাথরঘাটায় শিশুকে মারধরের অভিযোগ ভুয়া ওয়ারিশ সনদে নামজারি করতে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন কারাদণ্ড সোনাইমুড়ীতে তুচ্ছ ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলা: নারী ও শিশুসহ আহত ৪ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভা: পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ জামিন পেলেন সাংবাদিক শাকিল ও ফারজানা রুপা শেনজেন দেশে প্রবেশ করতে ভ্রমণকারীদের সব ধরনের কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ এক মামলায় আপিল বিভাগে ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল সুন্দরবনে মুক্তিপন দিয়ে ফিরলেন কয়রার ১৩ মৌয়াল ডিইউজের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সভা, সমবায় পুনর্গঠনের দাবি সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত মৌয়াল পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে বসছে ৩৬০০ পশুর হাট গাজীপুরে পৈত্রিক জমি ফিরে পেতে জেলা রেজিস্ট্রারের দ্বারস্থ সাংবাদিক সূর্য আহমেদ মিঠুন ভাণ্ডারিয়া থানার ওসির কাজে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ ​প্রকৌশলী মকবুলের লালসার বলি: ভিটেমাটি হারাল এক সাংবাদিক পরিবার দুটি হত্যা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি ঘোষণা নিয়ে সরগরম শত কোটি টাকার সম্পদ লাবলুর : নেপথ্যে অবৈধ অর্থ ও অদৃশ্য শক্তি ভুয়া কোস্টগার্ড না অন্য কিছু? যুবকের সন্ধানে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি: সোনাইমুড়ীতে রাজপথে প্রতিবাদ দুর্নীতির ছায়া? উদ্বোধনের আগেই বাসাইলের সড়কে ফাটল চা-রাজ্যে ভয়ংকর পরিস্থিতি, জলাধার থেকে মিলল ৩ লাশ আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: তারেক রহমান পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী কাজিপুরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন সংসদ সদস্য সেলিম রেজা উপকূলীয় জীবন বদলে দিচ্ছে এনজিএফ মোংলায় চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর মালিকের উপর হামলার অভিযোগ

তারেক রহমান: দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিক

পাঠক সংখ্যা
638

কাদের গনি চৌধুরী:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ সময়ের সবচেয়ে যোগ্য, মেধাবী ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিক তারেক রহমান। দেশের কোটি তরুণ ও যুবসমাজের কাছে তিনি আইডল। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের চিন্তায় তিনি আগামীর রাষ্ট্রনায়ক।

স্বাধীনতার ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর পরে বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতিতে তারেক রহমানের নামটিই এখন উচ্চারিত হচ্ছে সগৌরবে। শুধু তাই নয়, সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্যারিশম্যাটিক ভবিষ্যৎ নেতাদের সাথে বাংলাদেশের তারেক রহমানের নামও আলোচিত হচ্ছে। তাঁর তৃণমূলের রাজনীতি নিয়ে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষণা হচ্ছে।

ক্যামব্রিজের রিজেন্ট স্ট্রিটে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি আর্মস-এর চার্চিল অডিটোরিয়ামে তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিন্তা ও ভাবনা নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় বছর কয়েক আগে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা হয় তারেক রহমানের রাজনীতি নিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসময়ে বহুল আলোচিত ও সসমাদৃত তারেক রহমানকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন তারা। এতে বলা হয়েছে, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন। তিনি পরনির্ভরশীলতার জাল ছিন্ন করে দেশের মানুষকে উন্নত জাতির মর্যাদায় উন্নীত করতে চান।’

তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে সেমিনারে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের সাবেক ডিরেক্টর ফ্রান্সিস ডেভিস, ইয়ং ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ডেভিড এগলার ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য জন ক্লেটন। ফ্রান্সিস ডেভিস বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন মানুষের মাঝে, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের মনে একটি স্বপ্নের বীজ বুনতে পারে। একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন তারেক। তার স্বপ্ন মানুষের উন্নয়ন ও দেশের সমৃদ্ধি নিয়ে। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন। এটা খুব সুন্দর উদ্যোগ ‘

ডেভিড এডগার বলেন, ‘তারেক রহমান ডিজিটাল বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক-প্রকৌশলী। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে তার নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

জন ক্লেটন তারেক রহমানকে একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পারেন। একটি দেশের উন্নয়নের জন্যে রাজনীতিবিদদের এই গুণ থাকা খুব বেশি প্রয়োজন।’

তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে ওই বিশিষ্টজনেরা বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা আজ অনেকের কাছে রীতিমতো ঈর্ষণীয়। তিনি মাটি ও মানুষের নেতা- স্বপ্ন দেখেন একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশের।

একজন প্রকৃত দেশপ্রেমী ও জাতিপ্রেমী ডায়নামিক লিডার হিসেবে উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের এক প্রোজ্জ্বল নেতা।’

এটা সত্য যে, তারেক রহমান তার মেধা, প্রজ্ঞা, কর্মবীরত্ব, ত্যাগ, ভিশনারি বক্তব্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগাতে পেরেছেন, যা এর আগে একমাত্র শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই পেরেছিলেন।

তারেক রহমান প্রচলিত রাজনীতি বদলাতে চেয়েছিলেন। রাজধানীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ড্রয়িংরুমের রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তৃণমূলে। তিনি ১৮ কোটি মানুষকে উন্নয়নের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিলেন। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। তাই তিনি রাজধানী ছেড়ে ছুটে গেছেন তৃণমূলে। দীর্ঘদিন দিন তিনি দেশের বাইরে, তারপরও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ কমেনি।

মাটি ও মানুষকে জাগিয়ে বাংলাদেশকে আপন সম্পদে স্বয়ম্ভর করা, আধুনিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দাঁড় করানো, প্রান্তিক মানুষকে সামনে রেখে রাজনীতিকে বিকাশিত করা, গণতন্ত্রের আত্মাকে সজীব-সচল করা— সবই তার ঘোষিত স্বপ্ন যা শহীদ জিয়ার স্বপ্নেরই এক সময়োচিত সম্প্রসারণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং এর সুঠাম-স্বনির্ভর অভিযাত্রার সঙ্গে জিয়া পরিবারের যে আত্মিক বন্ধন, তার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান আজ অজেয় উত্তরাধিকারে স্থিত হয়েছেন।

কৃষির উন্নয়ন এবং একে ভিত্তি করে শিল্পের বিকাশ, সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, কৃষকের জন্য ভালো বীজ দেওয়া, গরিবের সঙ্গে হাঁস-মুরগির প্রতিপালনসহ অসংখ্য কাজে তারেক রহমান হাত বাড়িয়েছেন আগ্রহ ভরে। গ্রামে গ্রামে জরিপ চালিয়েছেন কত মাছ, ফল, ধান হয় প্রতি গ্রামে। সাগরে ও নদীতে জেগে ওঠা পলিকে সোনা বানানোর রূপকল্পও তাঁর ভাবনার বাইরে নয়। ‘একটু উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সফলতা’— এই কর্তব্যতন্ত্রকে ছড়িয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন প্রতিটি জনপদে মানবিকতার বিকাশ হোক, সবাই হয়ে উঠুক সবার জন্য।

তলাবিহীন একটি ঝুড়িকে, দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পীড়িত একটি দেশকে প্রেসিডেন্ট জিয়া যেভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন, ভিক্ষুকের হাতকে যেভাবে কর্মীর হাতে পরিণত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের খপ্পর থেকে রাজনীতিকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন মুক্ত মাঠে; নিজে শক্ত হাতে কোদাল চালিয়ে অনাবাদি মাঠে এনেছিলেন ফসলের সমারোহ, ভরিয়ে দিয়েছিলেন ফসলের সুষমায়, তারেক রহমানও আজ একইভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর কর্মপ্রবাহের মধ্যে কৃষি ও শিক্ষা পাচ্ছে সর্বাধিক মনোযোগ। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য যে দেশপ্রেম, উন্নয়ন, অগ্রগতি, সময়ের চাইতে এগিয়ে চলা, প্রাগ্রসর পৃথিবীর পায়ের সাথে পা মিলিয়ে চলা, আত্মপরিচয়ের পতাকাকে সমুন্নত রাখা, সম্মান ও মর্যাদার শৌর্য ও আভিজাত্যের সৌরভ সর্বত্র সম্প্রসারিত করা, রাষ্ট্রের পরিচালনা কাঠামোর সঙ্গে তারুণ্যকে দেশের ভবিষ্যত নাগরিক সংযুক্ত করার বাসনা এই তারুণ্যে দীপ্ত জননেতার মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছে। আবার শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় সর্বস্তরের মানুষকে সংহতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একত্রিত করার ভিতর দিয়ে তিনি জাতীয় শক্তি মজবুত করেছেন।

ফলে এ কথা অবলীলায় বলা যায়, সান-ইয়াং সেনের পর মাও-সে-তুঙ এবং মাও-সে-তুঙের পর দেং শিয়াও পিং যেমন চীনের জন্য অনিবার্য ছিল, জওহরলাল নেহেরুর পর ইন্দিরা গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধীর পর রাজীব গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর পর সোনিয়া কিংবা রাহুল গান্ধী যেমন আজকের ভারতের জন্য অপরিহার্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতেও শহীদ জিয়ার পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান অনিবার্য।

আগেই বলা হয়েছে, শুধু রক্তসম্পর্কের কারণে নয়, যোগ্যতার বলেই দীপ্তিমান হয়ে উঠছেন জননেতা তারেক রহমান। বাংলাদেশের মানুষ এই তরুণ নেতার মধ্যে একদিকে যেমন উন্নয়ন ও অগ্রগতির রাজনীতির চলমান ধারাকে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় দেখতে পাচ্ছেন, অন্যদিকে খুঁজে পাচ্ছেন শহীদ জিয়ার প্রতিচ্ছবি।

তারেক রহমানের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই শেখ হাসিনা ও তার দল তারেক রহমানকে আগামী দিনের প্রধান প্রতিপক্ষ ভেবে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ফন্দি এঁটেছিল। তাঁকে রুখতে সরকার আইন-আদালত শুরু করে সব শক্তি ব্যবহার করেছে। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে আদালতের আদেশের মাধ্যমে মিডিয়ায় তাঁর বক্তব্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত জারি করেছিল। একের পর এক মিথ্যা সাজা দিয়ে গিয়েছিল। মিথ্যা সাজা দিতে সম্মত না হওয়ায় একজন বিচারককে দেশান্তরি হতে হয়েছিল।

তবে এটিও সত্য অব্যাহত ফ্যাসিবাদী নিপীড়ন তারেক রহমানকে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তোলে। তারেক রহমানই এখন ১৮ কোটি মানুষের ভরসাস্থল।

তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন রাজনীতি যদি কল্যাণমুখী হয়, জনগণ পাশে থাকে। আর জনগণ পাশে থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রে কাজ হয় না। হ্যাঁ, এটিই সত্যি, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দীর্ঘ ১৭ বছরের কলঙ্কময় স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির সংগ্রামে তিনি সুদূর লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন।

জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারকে হঠানোই নয়, আগামীতে কীভাবে দেশ গঠন করবেন, ভিশনারি নেতা হিসেবে সেটিও তিনি চিন্তা করে রেখেছেন।

তারেক রহমানকে আমরা শুরু থেকেই দেখেছি, তিনি একটি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে মানুষ শান্তিতে থাকবেন, কোনো নাগরিক তার অধিকার বঞ্চিত হবেন না। তিনি দেখেছেন স্বৈরশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা জনগণের প্রত্যাশাকে বারবার ব্যাহত করেছে। বিশেষত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার অভাব এবং স্বচ্ছতার সংকট গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে। দেশান্তরি হওয়ার পরও তিনি কীভাবে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়া যায়, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায় তা নিয়ে নিমগ্ন ছিলেন। বিএনপির ৩১ দফা মূলত তাঁর সেই চিন্তারই ফসল। তাঁর এই চিন্তায় কেবল সমস্যাগুলোর সমাধানই নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনারও প্রস্তাব রয়েছে।

তাঁর মস্তিস্কপ্রসূত এই ৩১ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি সুসংহত ও সময়োপযোগী নীতিমালা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখবেন- এই প্রস্তাবনায় গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলো নিয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৩১ দফা জাতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে উঠে এসেছে। গণতন্ত্র, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ভিত্তিতে প্রণীত এই দফাগুলো দেশকে নতুন এক যুগের পথে নিয়ে যাবে।

এটা সত্যি যে, গণতন্ত্রের সংকট বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিনের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নানান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালীকরণের জন্য স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তারেক রহমান প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপক্ষে, বরং জনগণের ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। তিনি সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন ৩১ দফায়।

তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাই তিনি ঘোষণা করেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব মত ও পথের মানুষের সঙ্গে আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন, যেখানে সামাজিক বৈষম্য দূর করা হবে এবং জ্ঞানবিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যৎমুখী মানবিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে।

তিনি এও প্রতিশ্রুতি দেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি সম্মিলিত, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন। এর মাধ্যমে এই রাষ্ট্র ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-গোত্র, পেশানির্বিশেষে সবাইকে স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যাবে।

তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখাকে রাজনৈতিক মহল আখ্যা দিয়েছে “Blueprint for Democratic Bangladesh” বা গণতন্ত্রের ব্লুপ্রিন্ট বলে। এটি আজ সবাই স্বীকার করবেন, তারেক রহমান দল ও দেশের জন্য অনন্য সম্পদ।

তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের মিথ্যা মামলায় সাজা, গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা জারি, মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা পুরোপুরি বিফলে গিয়েছে। শেষ বিচারে তারেক রহমানেরই জয় হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে পরিবার ও সদলবলে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। আর তারেক রহমান জনগণের হৃদয়ে আসন করে নিয়েছেন।

গোটা জাতি এখন তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। তাদের বিশ্বাস- তারেক রহমানই পারেন ফ্যাসিবাদী সরকারের দুঃশাসনে ক্ষত-বিক্ষত এ জাতিকে রক্ষা করতে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন তাঁর আগমনের প্রতীক্ষায়।

তারেক রহমান ইনশাআল্লাহ শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন গণতন্ত্রের এক বিজয়ী সেনাপতি হিসেবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

মহাসচিব- বিএফইউজে

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

খাগড়াছড়িতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

খাগড়াছড়িতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পাহাড় ডিঙিয়ে উঠবো মোরা, শিক্ষার মশাল জ্বেলে- প্রতিপাদ্য নিয়ে খাগড়াছড়ি ভাইবোন ছড়ায় ছোটবাড়ি গ্রামে এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, বই বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন
language Change