ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি চায়ের দোকানি থেকে হয়ে যান ঝুট ব্যবসায়ী। যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর হয়ে উঠেন বেপরোয়া। রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগরে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দখলদারিত্ব কায়েম করেন বাপ্পি। এক যুগে গড়ে তোলেন শত কোটির টাকার অবৈধ সম্পদ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।
হাদি হত্যা মামলায় প্রায় একমাস তদন্তের পর ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযাগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম আসে যুবলীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির।
স্থানীয়রা জানান, বাপ্পির বাবা মন্টু চা বিক্রি করতেন। বাপ্পিও সেই দোকানেই বসতেন। পরে তার বাবা গার্মেন্টস থেকে ঝুট বের করার কাজে নামে। ২০০৮সালে বাবা মারা গেলে ঝুট ব্যবসায় যুক্ত হন বাপ্পি। স্থানীয়রা বলেন, উনি একসময় ক্যারাম বোর্ড ঘর করে ভাড়া দিয়ে ৮/১০টা বোর্ড চালাতো। এই এলাকায় রাজত্ব করেছে। এমপি সাহেবের খাস লোক ছিলো। ২০০৫-০৬ সালের দিকে যুবলীগের মিছিল মিটিংয়ে যাওয়া শুরু করেন বাপ্পি। ২০১২ সালে গিয়ে পান পল্লবীর একটি ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ। স্থানীয়রা জানান, এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বাপ্পি।
স্থানীয় একজন বলেন, ঝুট ব্যবসায় নিয়ে ঝায়-ঝামেলা করছিলো। অনেক মানুষও মারছিলো। ওতো আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল। আরেকজন বলেন, পুরো পল্লবীতে উনার অফিস। যেখানে যাবেন সেখানেই উনার অফিস।
বাপ্পি চাঁদাবাজির পাশাপাশি দখলদারিত্বেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রাজধানীর পুরবী সুপার মার্কেট সমিতির অফিস দখল করে বনে যান স্বঘোষিত সভাপতি হয়ে বসেন। গত ৫ বছরে দোকান কেনা-বাচার নামে কমিশনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
মিরপুর সুপার মার্কেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সোয়েব খান বলেন, কারো দোকানও ছিলো না আর কেউ সমবায় কর্তৃক সভাপতি নির্বাচিতও হয়নি। একটা দোকান বিক্রি করলে উনাদের একটা বেনিফিট দিতে হতো, কিনলেও দিতে হতো। আর ফুটপাত থেকেও একটা চাঁদা উঠতো।
হাদি হত্যা মামলায় প্রায় একমাস তদন্তের পর ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযাগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম আসে যুবলীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির।
বাপ্পির বিষয়ে খোঁজ নিতে রাজধানীর পল্লবীতে যায় সময় সংবাদ। স্থানীয়রা জানান, বাপ্পির বাবা মন্টু চা বিক্রি করতেন। বাপ্পিও সেই দোকানেই বসতেন। পরে তার বাবা গার্মেন্টস থেকে ঝুট বের করার কাজে নামে। ২০০৮ সালে বাবা মারা গেলে ঝুট ব্যবসায় যুক্ত হন বাপ্পি। স্থানীয়রা বলেন, উনি একসময় ক্যারাম বোর্ড ঘর করে ভাড়া দিয়ে ৮/১০টা বোর্ড চালাতো। এই এলাকায় রাজত্ব করেছে। এমপি সাহেবের খাস লোক ছিলো।
২০০৫-০৬ সালের দিকে যুবলীগের মিছিল মিটিংয়ে যাওয়া শুরু করেন বাপ্পি। ২০১২ সালে গিয়ে পান পল্লবীর একটি ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ। স্থানীয়রা জানান, এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বাপ্পি।
স্থানীয় একজন বলেন, ঝুট ব্যবসায় নিয়ে ঝায়-ঝামেলা করছিলো। অনেক মানুষও মারছিলো। ওতো আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল। আরেকজন বলেন, পুরো পল্লবীতে উনার অফিস। যেখানে যাবেন সেখানেই উনার অফিস।
বাপ্পি চাঁদাবাজির পাশাপাশি দখলদারিত্বেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রাজধানীর পুরবী সুপার মার্কেট সমিতির অফিস দখল করে বনে যান স্বঘোষিত সভাপতি হয়ে বসেন। গত ৫ বছরে দোকান কেনা-বাচার নামে কমিশনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
মিরপুর সুপার মার্কেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, কারো দোকানও ছিলো না আর কেউ সমবায় কর্তৃক সভাপতি নির্বাচিতও হয়নি। একটা দোকান বিক্রি করলে উনাদের একটা বেনিফিট দিতে হতো, কিনলেও দিতে হতো। আর ফুটপাত থেকেও একটা চাঁদা উঠতো। মিল্ক ভিটা রোডের ৬কাঠা জমির ওপর চৌধুরী ভিলা নামের বাড়িটি বাপ্পিদের। তৃতীয় তলায় থাকেন সৎ মা। বাকিগুলো ভাড়া দেয়া। সেখানে গেলে কথা হয় মায়ের সাথে।
বাপ্পির সৎ মা মোছাম্মাৎ বেগম বলেন, সরকার যাওয়ার পর থেকে আর তাকে দেখিনি। আমাদের এখানে আগে মাঝেমধ্যে আসতো। পল্লবীর সেন পাড়ায় আছে ৩কাঠার প্লট। কামারপাড়াতেও আছে ৪কাঠার প্লট। ঢাকার বাইরেও তার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে ।
আশুলিয়ায় গিয়ে সন্ধান মেলে দুইটি প্লটের। আশুলিয়ার কুটুরিয়ার নিক্কন আবাসন প্রকল্পের মধ্যে ম্যাগপাই চৌরাস্তার পাশে এই দুটি প্লট। সাড়ে ১৬শতাংশের একটি প্লট ২০২১ সালে ক্রয় করেন বাপ্পি।
একই প্রকল্পে আরও দুটি প্লটের সন্ধান মেলে বাপ্পির। চারটি প্লটের আছে ৩৩দশমিক ৬৮শতাংশ জমি। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩কোটি টাকা। স্থানীয়রা জানালেন, মালিক সমিতির নামে কিনে পরে নিজের নামে করে নেন এসব জমি।
বাপ্পির প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাটের বাইরেও ব্যাংক হিসাবেও মেলে বিপুল লেনদেনের তথ্য। গত বছরের জুলাই থেকেই তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে সিআইডি। ৪টি ব্যাংক হিসাবে মিলেছে ৫৬কোটি ৮৬লাখ টাকার। সিআইডি বলছে, হাদি হত্যায় নাম আসার আরো দ্রুত অনুসন্ধান করছে তারা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, এখানে যে মাস্টারমাইন্ড উঠে এসেছে নিশ্চিত করেই তাদের সঙ্গে এর একটা যোগাযোগ আছে। তার বেনিফিশিয়ারি যারা, ওই লোকের একাউন্টে গেছে কিনা সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।
এদিকে, বাপ্পির কাউন্সিলরে অফিসে শুটার ফয়সালের সাথে বৈঠকের ভিডিও পাওয়া গেছে। হাদিকে হত্যার পরিকল্পনার আগে সেপ্টেম্বরে ভারত থেকে শরীয়তপুর এসে বিয়ে করে আবারো ভারত চলে যান বাপ্পি। কলকাতা পুলিশের কাছে আটকের পর ছাড়াও পান বাপ্পি।
ডিএমপির গণমাধ্যম বিভাগের উপ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, তারা অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। যারা এই কাজে সহযোগিতা করেছে তাদের বক্তব্যগুলোও আমরা গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছি। বাপ্পি ও ফয়সালকে ফেরাতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত