ইসমাইল মাহমুদঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ক্ষমতার মালিক জনগণ। আমরা দেশের মালিককে তাদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই। আমি মাঝে মাঝে একটি কথা বলি ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ।
সেই কথাটার অর্থ হলো যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশকে ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছিল, যেই স্বৈরাচার এদেশকে অন্য আরেকজনের হাতে তুলে দিয়েছিল। সেই স্বৈরাচার একটি দেশ থেকে এসে বলতো আমরা কথা বলে এসেছি আমাদের ক্ষমতায় রাখার জন্য। কিন্তু দেশের ক্ষমতার মালিক হলো জনগণ। কিন্তু অতীতে আমরা দেখেছি ক্ষমতাকে দখল করা হয়েছিল, অন্য দেশের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়নের আইনপুর খেলার মাঠে এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আব্দুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসমাবেশের শুরুতে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর দেশে নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে। যে দল পালিয়ে গেছে, তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো, কথা বললে গায়েব করে দিতো। তারা মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল, মানুষের অর্থ-সম্পদ, টাকা-পয়সা সব নিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এদেশের মানুষ, ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ মিলে তুমুল আন্দোলন করে সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হলো স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন ছিল। আমরা স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি। এখন স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এখন আমাদেরকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার দিতে হবে। একমাত্র এই নিশ্চয়তা দিতে পারে ধানের শীষ। যখনই ধানের শীষ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তখনই পৌরসভা নির্বাচন হোক, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক সব নির্বাচন আল্লাহর রহমতে ঠিকঠাক নির্বাচন হয়েছে। যখর ধানের শীষ ক্ষমতায় ছিল তখন প্রত্যেক মানুষ মন খুলে কথা বলতে পেরেছে, সরকারের সমালোচনা করতে পেরেছে, যদি কোন বুল হয়ে থাকে সরকারে বলতে পেরেছে। ধানের শীষ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় কোন মানুষ গুশের শিকার হয়নি, খুনের শিকার হয়নি।
দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে যদি পারি আমরা তবে ইনশাল্লাহ একই সাথে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক সারাদেশে আছে। তাদের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। আমরা আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমি প্রায় এক মাস আগে যখন ১৭ বছর পরে বিদেশ থেকে ফিরে এসেছি, তখন আমি বলেছিলাম আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের একটি অংশ হচ্ছে আমরা এই দেশের বেকার যারা যুবক আছে, শিক্ষিত, হোক, অর্ধ শিক্ষিত হোক, অশিক্ষিত হোক সবল বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যাতে এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, শক্ত ভিত্তির উপর যেন দাঁড়াতে পারে। শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাই নয়, আমরা বেকার যুবক, যুবতীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করতে চাই।
নারীদের ফ্যামেলি কার্ড প্রদানের প্রতিশ্রæতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের নারীদের জন্য ক্লাস ওয়ান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করেছিলেন। আগামী দিনে ইনশাল্লাহ, এই ১২ তারিখে যে নির্বাচন আসছে সেই নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষকে জয়যুক্ত করলে এই দেশের নারী সমাজকে ফ্যামেলি কার্ড দিব। এই এলাকায় চা বাগানগুলোর যারা নারী শ্রমিক রয়েছে তারা অত্যন্ত কষ্ট করে দিনানিপাত করতে হয়। তাদের যে আয়-রোজগার হয় তা যথেষ্ট নয়। এই সকল নারীদেরকে আমরা ফ্যামেলি কার্ড দিতে চাই। ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে আমরা হয় খাদ্য সহায়তা দেবো, অথবা তাদেরকে আমরা নগদ অর্থ সহায়তা দেবো। যাতে করে তারা তাদের সংসার সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারে, সুন্দরভাবে চালাতে পারে। চাÑশ্রমিকরা যেমন পাবে, তেমনি একজন শ্রমিক-একজন কৃষক ভাইয়ের স্ত্রীরও ফ্যামেলি কার্ড পাবে।
কৃষকদের কার্ড প্রদানের প্রতিশ্রæতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। আমরা কৃষক ভাইদের পাশেও দাঁড়াতে চাই। বেকার তরুণ ও যুবকদের যেমন করে প্রশিণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, নারীদের যেভাবে ফ্যামেলি কার্ড প্রদান তেমনি কৃষক ভাইদেরকেও আমরা কৃষি কার্ড দিতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইয়েরা ঋণ সহায়তা, সার-বীজ সহায়তাসহ বীমা সহায়তা পাবে। যাতে করে তার বিপদের সময় সরকার তার পাশে থাকতে পারে। এছাড়া বিএনপি সরকারে গেলে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য আলাদা অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করতে চায়। এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভব কেবল ধানের শীষে ভোট প্রদানের মাধ্যমে।
একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোট ডাকাতির দলের মতো আরও একটি দল বিভ্রান্তি শুরু করেছে। তারা আবারও ভোট চুরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কয়েকদিন যাবত দেখছি, তারা বিভিন্ন মিথ্যা ও গুনাহের কথা বলছে। এই দলটি মুক্তিযুদ্ধেও দেশের বিরুদ্ধে ছিলো। তারা বলছে, অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন, এবার আমাদের দেখেন। আরে ভাই, আপনাদেরতো মানুষ একাত্তরেই দেখে ফেলেছে, কী ছিলো আপনাদের ভূমিকা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত