মিজানুর রহমানঃ
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে বাজার করতে আসা পাইকুড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, বাজারের ভেতরতো ঢোকাই যায় না। সবজির জন্য বাজার সেড থাকা সত্বেও সবজির বাজার বসে মসজিদ রোডের ওপর। যাতায়াত করবো কিভাবে? কষ্টে সবজি কিনতে হলো। শোনা যায়-এই বাজার থেকে সরকারের বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেন সরকার। সেই অনুপাতে উন্নয়ন কৈ? হাটুরেদের সুবিদার্থে বাজার সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা দরকার। শালচুড়া গ্রাম থেকে আসা আলহাজ সরোয়ার্দী (দুদু হাজী) বলেন, মাছ বাজারে ঢোকাই যায় না। ছোট্ট ঘরে যায়গা না হওয়ায় পাশের চিপা গলিতে ও মাছ নিয়ে বসে মাছ ব্যবসায়ীরা।
মাছের গায়ে ছিটানো পানিতে কাঁদায় দাঁড়ানোই যায় না। কোন রকমে অনেক কষ্টে মাছ কিনে চলে আসলাম। বন্দভাটপাড়া গ্রামের রুস্তম আলী বলেন, বাজারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রধান সড়কের ফুটপাতে বসছে খাঁচা চাটাই, ডোল, চালুন কুলা, চাঁই ও চারা গাছের বাজার। রাস্তায় ছোট-বড় গাড়ি, ফুটপাতে এসব দোকান। যাতায়াত করি কোন পথে? অনেক কষ্টে চাঁই ও খাঁচা কিনে নিয়ে এলাম। প্রধান সড়কের ওপর বসা ধান হাটির আর্টিস্ট আব্দুস সালাম বলেন, বাজারে ধান বেচাকেনার নির্দিষ্ট বাজার না থাকায় দোকানের সম্মূখস্ত রাস্তায় বসে ধানের হাট। ফলে দোকানে লোক জনই আসতে পারে না। রড সিমেন্ট ঢেউটিন ব্যরসায়ী রাহাত এন্টারপ্রইজের মালিক মোরাদ হোসেন বলেন, দোকানের সামনে বসে ধানের হাট। রাস্তা থেকে উঁচু ড্রেন নির্মাণে পানি ও নিস্কাশিত হয় না। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে কাঁদায় যাতায়াত করতে হয়।
সড়কে ধানের বাজারে কাঁদায় গ্রাহকেরা দোকানে আসতে না পারায় বেচাবিক্রি ও হয়না। ফলে ফি-বছর বছর লোকসান গুণতে হচ্ছে। ঝিনাইগাতী এস. কে. সাত্তার মার্কেটের মোবাইল ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, মার্কেটের সামনের ড্রেনের ময়লা পানিতে মশা-মাছির বংশ বিস্তারে দিনেও দোকানে কয়েল জ্বলিয়ে বসে থাকতে হয়। একই মার্কেটের ব্যবসায়ী এবাদুল্লাহ বলেন, ড্রেন না থাকায় ছোট্ট চিপা ড্রেনের নোংরা পানিতে দোকানের সামনেই পানি জমে থাকে। পচা পানি মাড়িয়ে দোকানে লোক আসতে পারে না। এছাড়া ড্রেনের পচাঁ পানিতে অবাধে বংশ বিস্তার করছে মশা-মাছি। রাতে তো দূরের কথা, দিনেও কয়েল জ্বালিয়ে দোকানে বসে থাকতে হয়। মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুলের সম্মূখস্ত প্রধান সড়কের ছোট-বড় গাড়ি ও ফুটপাতে সিএনজি চালিত ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকসার ভীরে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সব সময় চিন্তায় থাকতে হয়। না জানি কখন কোন ছাত্র ছাত্রি দুর্ঘটনায় হতাহত হয়।
তারপর পারাপারের প্রধান সড়কেই অলিখিত যানবাহন স্ট্যান্ড। আর ফুটপাতে বাজার। যানজট-বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই হয় জলজট আর কাঁদা। এ অবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিজি রাস্তায় পারাপার নিয়ে সর্বক্ষণ চিন্তায় থাকতে হয়। ক’জন হাটুরের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ভাই বলে কি হবে? এতো বড় বাজারে কোন গণ-সৌচাগার পর্যন্ত নেই। নেই একটা টিউবওয়েল, নেই একটা বাথরুম,এর চেয়ে বড় দুঃখের আর কি আছে? মধ্যবাজারের ক’জন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দোকানের ভাঙা ঝাপ-শার্টারের পর্দা মেরামতে ও গুণতে হয় টাকা। না দিলেই ইউএনও এবং থানায় ফোন করে কথিত নামধারী সাংবাদিকরা।
এখনও ঘরে পানি উঠে ভিটি উচুঁ করার জন্য ও দিতে হচ্ছে মোটা টাকা। কে নিচ্ছে প্রশ্ন করলে নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিছু পাতি নেতা, হুমরা-চুমরা এবং কয়েকজন নামধারী সাংবাদিকের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট। তাদেরকে টাকা দেয়া ছাড়া কোন ঘর মেরামততো দূরের কথা একটা শার্টারের ইসপিরিং পাল্টানোর ও সুযোগ পাইনা। কজন হাটুরে জানান, বাজারের রাস্তায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁদা জমে যায়। সুষ্ঠ ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আল-আমীন বলেন, খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাস্তার চেয়ে উঁচু ড্রেনের ব্যাপারে সওজকে বলা হবে। তারা ব্যবস্থা নেবেন। বাজারের সমস্যাগুলোর সরেজমিনে দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, বাজারে চাঁদাবজিসহ যে কোন অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিএনপির কোনো লোক জড়িত নেই। কেউ বিএনপির পরিচয়ে চাদাঁ দাবি করলে তাকে বেঁধে আমাকে খবর দিন। আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা দিয়ে তাকে পুলিশে দেবো।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত