বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কুষ্টিয়া জেলার বটতৈল ঈদগাঁও পাড়ার সিকিউরিটি গার্ড আনোয়ার হোসেনের ২য় সন্তান। হালিমরা ৩ ভাই ১ বোন, পিতা-আনোয়ার হোসেন ।আনোয়ার হোসেনের পৈত্রিক গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। পিডিবির সিকিউরিটি গার্ড এর চাকরির সূত্রে কুষ্টিয়ায় যান। পরবর্তীতে সদর উপজেলার বটতৈল এলাকায় বিবাহ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সিকিউরিটি গার্ড চাকরি জীবনে কষ্টে জীবন যাপন করেন। অর্থ ও সম্পদের মালিক হওয়া দুরের কথা ৩ বেলা ঠিকমত খাবারও খেতে পারেননি বলে অত্র গ্রামবাসি জানান। আনোয়ার হোসেন সম্পত্তির বা অর্থের মালিক হতে না পারলেও ছেলে আব্দুল হালিম অবৈধভাবে অবৈধ সরকারের দোসর হয়ে দুহাতে অবৈধ পথে আয় করেছেন ঐ ফ্যাসিস্ট সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীরমত শত শত কোটি টাকা।আর গ্রামে শহরে ও রাজধানীতে ক্রয় করেছেন জমি, বাড়ী , গাড়ী ও একাধীক ফ্ল্যাট। হালিম সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পর পরই তার বাবার অভাব অনটনকে আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর গতিতে পরিবর্তন করে ফেলে। তাই না সুধু সাথে সাথে জমি বাড়ী ক্রয় শুরু করেন। গ্রামের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার ভয়ে কোন কথা বলতে সাহস পেতেন না। কারন হালিম ছিলেন আর এক সন্ত্রাসী কুষ্টিয়ার মাফিয়া ডন আওয়ামীলীগের হানিফের ( এমপির ) বেডের সুখ পাখির যোগানদার। হানিফের এই আনন্দ উল্লাসের পাখির জন্য হালিমের ছিল সাত খুন মাফ। যা ইচ্ছা তা করে পূর্তের প্রকল্পের কাজ সমাধান করে দিতেন ।বরাদ্ধের টাকা হানিফের পিছনে ও তার পারিবারিক কাজে বেশি ব্যবহার করতেন । এমন সম্পত্তি গ্রামে ও শহরে করেছেন আর সংসারে খরচ করছেন তা দেখে গ্রামের সাধারন মানুষ তার বাবা আনোয়রকে ভূমিমন্ত্রী উপাদী দিয়ে ডাকেন।
সরকারে যেসব প্রকল্পের কাজ করেছেন তাহা সঠিকভাবে তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেড় হয়ে আসবে।হালিমের দায়িত্বে যে সব প্রকল্পের দায়িত্ব ছিল তার বরাদ্ধের টাকা মানি-অর্থাৎ নিজের টাকা মনে করতেন । কারন হালিমের হিসাব ছিল এই অবৈধ সরকারের কোন দিন পরিবর্তন হবে না, তারও কোন হিসাব দেওয়া লাগবে না। সকল বরাদ্ধেরই টাকা নয়-ছয় করে ভুয়া বিল ভাউচার , ঠিকাদারদের সাথে ভাগ যোগ করে, উপরের তত্ত্বাবধায়ক ও অতিরিক্ত প্রকৌশলীদের উৎকোচ , উপহার দিয়ে খুশি করে বরাদ্ধের টাকার, নামে মাত্র কাজ সমাধান করে বিল তুলে নিজ ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেছে। হালিম যে যায়গায় যে কাজ করেছেন সেখানেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ।
আবদুল হালিম গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন লিফট সংযোজন করেন। কিন্তু বেশি দিন যেতে না যেতেই নানান ধরনের সমস্যা দেখা দেয়্। কারন নিন্মমানের লিফট সংযোজন করায় লোট নিত পারে না। গত ২০২৪ সালের মে’ মাসে লিফটে রোগী আটকে পরে মৃত্যু হয় । এ ব্যপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে তদন্ত করেন ও তাতে দোষি করে চিঠি ইস্যু করেন । উক্ত হত্যার কৈফিয়ত মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ধামাচাপা দেয়্ । কিন্তু তাকে কেহ কোন কাজের জন্যই দোষী হলেও তাকে বরখাস্ত করতে সাহস পান নাই। কারন হালিম আওয়ামীলীগের প্রভাব শালী হানিফসহ অন্যনেতাদের সহচর ও আস্তাভাজন ছিলেন । নেতাদের টাকা মদ, নীশি রাতের শান্তির পাখিদের দিয়ে আসতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর হানিফেরতো একেবারে বেডরুমের লোক ছিল হালিম । সেই স্বৈরাচারের লোক হয়েও হালিম স্ব- পদে আজও বহাল আছেন । গণপূর্ত বিভাগের একাধীক প্রকৌশলী নাম না প্রকাশ শর্তে জানান যে হালিম ২টি খুনের হত্যার ও আসামি । তাকে আওয়ামীর লোকজন তদন্তের নামে সময় পার করে হত্যা মামলা থেকে আড়াল করে দিয়েছে । কিন্তু ২৪ এর জুলাইর গনহত্যার মামলার আসামি থাকা সত্যেও প্রকাশ্যে ঘুরছে। আওয়ামীলীগ প্রকৌশলীদের যে ভাবে এখনও সাধারন প্রকৌশলীগন গোপনে সাহায্য করছে ,তাতে এই আওয়ামীলীগই একদিন আবার পুর্নবাসন হবে আবার সাপেরমত সোপল দিবে । সাধারন প্রকৌশলীরা জানে না যে, বিষধর সাপ ও আওয়ামীলীগ এর মধ্যে কোন পার্থাক্য নাই।
দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি কি পরবে ? আব্দুল হালিমের এই সম্পত্তির তালিকার দিকে:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের- ই/এম ডিভিশন–১০ ঢাকা এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিমের নিজ নামে ঢাকার দুটি জমি সহ বাড়ি রয়েছে যার একটি মোহাম্মদপুরে আ/এ– ০৩ নং মৌজায়। এই মৌজায় নির্মাণকৃত বাড়িটির হোল্ডিং নং নাম্বার ১৭৫/৩০ খতিয়ান নম্বর ১২৪১৪ দাগ নং ২১।উল্লেখিত মৌজায় আব্দুল হালিমের জমির পরিমাণ ৪১/৯১ কাঠা। গণপূর্ত বিভাগ- ই/এম, ডিভিশন –১০ ঢাকা এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হালিমের আরেকটি জমিসহ বাড়ি রয়েছে যার হোল্ডিং নং ১৭৯/২৪০ খতিয়ান নম্বর ৭৩ ৯ ৩ ২ দাগ নং ২/২৩ উল্লেখিত মৌজায় তার নিজ নামীয় জমির পরিমাণ ২৭.৭২ কাঠা । বাড়ি বাদে দুটি জমি একত্রে ৭৫.৩৬ কাঠা। জমি দুটি আনুমানিক বাজার মূল্য ১০০ কোটির উপরে। সরকারি চাকরিতে যোগদানেরপর-পরই ঢাকায় জমি সহ বাড়ী এবং দেশের বেশ কয়টি জেলায় জমি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন হালিম।
কুষ্টিয়ার বটতৈল এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। আজ সেই আনোয়ারকে এলাকার মানুষ টিট করে আনোয়ার মন্ত্রী বলে ডাকেন। অর্থাৎ তার ছেলে হালিম বটতৈল এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি কিনেছেন তার নামে বলেই তাকে মন্ত্রী বলে এলাকার মানুষ ডাকেন। কারন অসহায় গরীব মানুষ যে তিনবেলা পেট ভরে খাবার খেতে পারতো না”” সে আজ শত শত বিঘা জমির মালিক। এইসব দেখেই গ্রামের মানুষজন হতবাগ। তাই হালিমের বাবা আনোয়ার হোসেনকে ভুমি মন্ত্রী বলে ডাকেন। হালিম তার চাকরিরঅল্প সময়ের মধ্যেই আলাউদ্দিনের চেরাগ এরমত শত শত কোটি টাকার ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।
ঢাকার বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫, ধারা ঃ ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ দণ্ডবিধিতে মামলা রয়েছে। হালিমের নামে দুদকেও একাধিক মামলা থাকার পরও তার প্রভাব ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেরমতই রয়ে গেছে অধিদপ্তরে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে কিছু প্রকৌশলী এমন প্রভাবশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রজেক্ট, টেন্ডার, এমনকি কর্মী নিয়োগ-সবকিছুতেই তাদের হাত থাকে।গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান এখনো স্বৈরাচারের দোসরদের প্রভাব বিস্তৃত।প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পথ বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। (চলবে )
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত