ইসমাইল মাহমুদঃ
প্রেম মানে না জাতি-ধর্ম। প্রেম মানে না কোনো সীমানা, মানে না কোনো ভাষা বা সংস্কৃতির বাধা। প্রেম মানুষের ভালোবাসার সর্বজনীনতা ও অসাম্প্রদায়িক রূপকে তুলে ধরে। প্রেম কোনো নিয়ম, বর্ণ, দেশ বা ধর্মের বেড়াজালে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রেম মানুষের মন থেকে উৎসারিত একটি সহজাত অনুভূতি। প্রেম মানুষের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা কোনো পরিকল্পনা বা বাহ্যিক নিয়মের তোয়াক্কা করে না।
প্রকৃত প্রেম বা ভালোবাসায় হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃস্টান, জাতি-বর্ণ, কিংবা ধনী-গরীবের কোনো ভেদাভেদ থাকে না। আধ্যাত্মিক বা ঐশ্বরিক প্রেম জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ দূর করে সবাইকে এক সূত্রে গাঁথে। মানবপ্রেমে সুখ পেলে মানুষ সৃষ্টিকর্তার প্রেমের কাছাকাছি পৌঁছায়, যেখানে কোনো ধর্মের বাধা থাকে না। সেই চিরন্তন সত্যকে আবারও প্রমাণ করলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার নিভৃত গ্রামের সুকান্ত সেন নামের এক যুবক ও চীনের সাংহাই প্রদেশের এক তরুণী। সুদূর চীন থেকে প্রেমের টানে এবং বাঙালি রীতিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন চীনা কন্যা ক্রিস হুই। এর আগে চীনে তাদের বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হলেও আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী রাজনগরের তারাপাশাস্থ বিষ্ণুপদ ধামে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চীনের তরুণী ক্রিস হুই প্রথমে আকাশপথে ঢাকা এবং পরবর্তীতে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি রাজনগর উপজেলার ৭ নম্বর কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশাস্থ টিকাপাড়া গ্রামে সুকান্তের বাড়িতে অবতরণ করেন। হেলিকপ্টারে বিদেশি পুত্রবধূ আসার খবরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শত শত কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন সুকান্তের বাড়িতে। জানা গেছে, রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের টিকাপাড়া গ্রামের প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানী সেনের ছেলে সুকান্ত সেন বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষে ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে চীনে যান। চীনের সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। এরপর চীনে কিছুদিন চাকরি শেষে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন। চাকরীর সময় সাংহাইয়ের তরুণী ক্রিস হুইয়ের সাথে তার পরিচয়। পরে দুজনে ব্যবসা শুরু করেন।
এ ব্যাপারে সুকান্ত সেন বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমরা একসাথে একটি কোম্পানিতে চাকরী করেছি। ওই বছর (২০২৩) দুজনে মিলে চীনের সাংহাইয়ে যৌথ পরিচালনায় ব্যবসা শুরু করি। সে সময়ে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। এরপর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব করা হয়। দুই পরিবারই আমাদের বিয়ে সম্পর্কে সম্মতি দেয়। পরিবারের সম্মতি পেয়ে আমি ও ক্রিস হুই ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করেছি। ক্রিস হুই স্কটল্যান্ডের গসগো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। এরপর ক্রিস হুইয়ের আগ্রহ ও সম্মতিতে হিন্দুধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আমি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দেশে আসি এবং মাকে নিয়ে ক্রিস হুই বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এসেছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আমাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়ে উপলক্ষ্যে মাকে নিয়ে ক্রিস হুই বাংলাদেশে আসার পর তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রাজনগর নিয়ে এসেছি। আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ক্রিস হুইয়ের বাবা ও চাচা এসেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আমাদের গায়ে হলুদ, ২২ ফেব্রয়ারি বিয়ে ও ২৪ ফেব্রুয়ারি বৌভাত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আমি তিন বছরের বেশি সময় ধরে তাঁকে জানি। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব খুশি, সেও খুব খুশি।
ক্রিস হুই বলেন, আমার দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে আসা। সুকান্তের পরিবারের সবাই বন্ধুভাবাপন্ন। তারা সবাই আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়েছেন। বিমানে ঢাকা আসার পর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সুকান্তের গ্রামে আসাটা ছিল ব্যতিক্রমী। আমার জন্য খুবই উপভোগ্য হয়েছে। সুকান্ত সেনের বোন ঐশী সেন চীনের সাংহাই মেরিটাইমস ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, ক্রিস হুই খুবই আন্তরিক একজন মানুষ। অল্পতেই আমাদের সাথে মিশে গেছেন। অল্প সময়ে আমাদের খুবই আপন করে নিয়েছেন। তিনি নিজেই চাইছিলেন হিন্দুধর্মীয় রীতি মতে তাদের বিয়েটা হোক। সে হিসেবেই দেশে আসা এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি। সুকান্তের চাচাতো ভাই আশিষ কুমার সেন বলেন, সুকন্তের এই চীনা মেয়েকে বিয়েতে আমরা খুবই খুশি। আমরা সব সময় যার যার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিই। যে যার সঙ্গে ইচ্ছা সংসার করে ভালো থাকবে, সে রকমই হওয়া উচিত।’
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত