স্টাফ রিপোর্টার॥
ঢাকার রূপনগর রাজনীতির অভ্যন্তরীণ বলয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে নামটি সংগঠন, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সমার্থক হয়ে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি স ম জাহাঙ্গীর কবির (জন)। নব্বইয়ের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতির সময় থেকে আদর্শিক অবস্থান সুস্পষ্ট রেখে যিনি রাজপথে সক্রিয়, সাংগঠনিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তার রাজনৈতিক যাত্রাপথ এক অর্থে নগর রাজনীতির বিবর্তনের দলিল।
১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি যে পথচলা শুরু করেন, তা কেবল পদ-পদবীর সীমারেখায় আবদ্ধ ছিল না; বরং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার এক অব্যাহত প্রয়াস। সাবেক রূপনগর ইউনিট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি তৃণমূলকে সুসংগঠিত করেছেন; বৃহত্তর ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাঠপর্যায়ে কর্মীবান্ধব কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন। মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ধর্ম ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে থেকে শিক্ষাঙ্গনে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নকে সামনে এনেছেন।
পরে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে যুবসমাজকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রূপনগর থানা, ঢাকা মহানগর উত্তরে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় কাঠামো পুনর্গঠন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার ও সমন্বয়ভিত্তিক রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দলীয় পরিচয়ের বাইরেও রূপনগর টিনসেড বাড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্থানীয় নাগরিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ‘হিউম্যানিটি বাংলাদেশ’-এর উপদেষ্টা হিসেবে মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে তিনি নাগরিক দায়বদ্ধতার এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।
স ম জাহাঙ্গীর কবিরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেনা বৃত্তে আবদ্ধ নয়, এমনটাই দাবি তার ঘনিষ্ঠদের। তিনি প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দাপ্তরিক ধীরগতিকে পাশ কাটিয়ে মৌলিক চাহিদাভিত্তিক, এলাকাকেন্দ্রিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না গেলে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন কেবল স্লোগানেই আটকে থাকবে। তাই সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
ছিন্নমূল শিশুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাস এসব প্রশ্নকে তিনি নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের উদ্যোগ।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগের কথা তিনি জোরালোভাবে উচ্চারণ করেন। তার মতে, অপরাধ দমনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা একসাথে না থাকলে সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজীকরণের জন্য জলাবদ্ধতা নিরসনে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, মশক নিধনে অগ্রাধিকার প্রদান এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো জনস্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও তার কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত।
সমালোচকেরা বলছেন, উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো। সমর্থকেরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলভিত্তিক সম্পৃক্ততাই তাকে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
রাজনীতির ময়দানে অনেকেই আসেন, পদধারী হন, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও যান। কিন্তু স ম জাহাঙ্গীর কবির (জন) নিজেকে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে প্রতিষ্ঠা করতে চান সংগঠননির্ভর রাজনীতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয়ে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত