মিজানুর রহমান, শেরপুরঃ
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ এলাকার গজনী বিট-এ উদ্বেগজনক হারে ছোট ছোট শাল গাছ কেটে কয়লা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু কয়লা ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই বনভূমির গাছ কেটে নির্বিঘ্নে কয়লা উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাত থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময় পর্যন্ত বনাঞ্চলের ভেতরে ছোট ছোট শাল গাছ কেটে সেগুলো দিয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। পরে সেই কয়লা বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্র, যারা নিয়মিত মাসিক ‘মানতি’ বা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখছে।
এলাকাবাসীর মতে, বন বিভাগের নির্ধারিত সংরক্ষিত বনভূমি হওয়া সত্ত্বেও এভাবে অবাধে গাছ কাটা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শাল গাছ এই অঞ্চলের বনজ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছোট আকারের শাল গাছগুলোকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে নিধন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, এভাবে বন উজাড় চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গারো পাহাড় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গারো পাহাড় শুধু শেরপুর নয়, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানকার বনভূমি ধ্বংস হলে বন্যপ্রাণী, পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়রা আরও জানান, মাঝে মধ্যে বন বিভাগের টহল থাকলেও তা খুবই সীমিত। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে বনভূমির ভেতরে গাছ কেটে তাৎক্ষণিকভাবে কয়লা তৈরির চুল্লিতে পোড়াচ্ছে। পরে এসব কয়লা ট্রলি, মাহেন্দ্র বা ছোট যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবিলম্বে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এই অবৈধ গাছ কাটা ও কয়লা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বনাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি জোরদার না করা হলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের বনভূমি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যথায় অব্যাহত বন উজাড়ের ফলে অচিরেই এই ঐতিহ্যবাহী বনাঞ্চল বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত