মো: জুয়েল হোসেনঃ
দেশের রাজনীতিতে সাধারণত সংসদ সদস্যদের দেখা যায় লাল গালিচায়, মঞ্চের ওপরে অথবা নীতি নির্ধারণী টেবিলে। কিন্তু সেই দৃশ্যপটে যখন আমূল পরিবর্তন আসে এবং একজন জনপ্রতিনিধিকে নিজ হাতে ঝাড়ু নিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা যায়, তখন তা কেবল একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান থাকে না, তা হয়ে ওঠে এক বিশাল সামাজিক বিপ্লবের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে ‘জনসেবক’ শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হলেও এর বাস্তব প্রতিফলন সবসময় দেখা যায় না। প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছেন যে, জনপ্রতিনিধিদের কেবল নির্দেশদাতা হলে চলবে না, বরং তাদের কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করতে হবে। যখন একজন সংসদ সদস্য বা স্থানীয় প্রতিনিধি শনিবার সকালে সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নর্দমা পরিষ্কার করবেন বা রাস্তার ময়লা অপসারণ করবেন, তখন সাধারণ জনগণের মধ্যে এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছাবেএই দেশটা আমাদের সবার, একে পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও সবার।
সপ্তাহের প্রতিটি শনিবারকে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য নির্ধারিত করার পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এটি কেবল একদিনের ফটোসেশন নয়, বরং একটি অভ্যাসে পরিণত করার প্রচেষ্টা। বর্ষা বা মৌসুমি রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে এই নিয়মিত অভিযান ঢাল হিসেবে কাজ করবে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আরও তৎপর হবেন। নেতাকে কাজ করতে দেখলে সাধারণ মানুষের মাঝে ময়লা না ফেলার বা যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার মানসিকতা তৈরি হবে।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হলো ‘জনসম্পৃক্ততা’। সংসদ সদস্যরা যখন তাদের এলাকায় এই অভিযানে নামবেন, তখন তারা সরাসরি জনগণের সুবিধা-অসুবিধা শোনার সুযোগ পাবেন। ড্রেনের অব্যবস্থাপনা বা মশার উপদ্রব নিয়ে মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো সরাসরি দেখার এটি একটি মোক্ষম সুযোগ। এর ফলে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের দেয়াল ভেঙে জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। পরিচ্ছন্নতা কেবল একটি কাজ নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। আর এই সংস্কৃতির চর্চা যখন ঘর থেকে শুরু হয়ে সংসদে পৌঁছায়, তখন সেই দেশ বদলে যেতে বাধ্য-একজন সমাজতাত্ত্বিক।
অবশ্যই এই পথচলা খুব সহজ হবে না। নিয়মিত এই ধারা বজায় রাখা এবং লোকদেখানো কার্যক্রমের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। তবে তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যম যদি এর সাথে যুক্ত হয়, তবে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন দেশের তালিকায় নাম লেখাতে পারবে।পরিচ্ছন্নতার ঝাড়ু হাতে যখন সংসদ সদস্য-এই দৃশ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সত্যিকারের দেশপ্রেম লুকিয়ে আছে ছোট ছোট কাজের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান যদি সফলভাবে পালিত হয়, তবে আমরা কেবল একটি পরিষ্কার দেশই পাব না, আমরা পাব একদল দায়িত্বশীল নেতা এবং সচেতন নাগরিক। আগামী শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অগ্রযাত্রা দীর্ঘজীবী হোক।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত