মোঃ ইব্রাহিম হোসেন:
সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও গাঁড়াদহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও দখল বানিজ্যের একাধিক অভিযোগ থাকার পরও সাংগঠনিকভাবে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা!
জব্বারের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সূত্র ধরে সবুজ বাংলাদেশ অনুসন্ধানে মাঠে নামে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে জব্বারের চাঁদাবাজি ও দখল বানিজ্যের একাধিক তথ্য প্রমাণের সত্যতা পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলার গাড়াদাহ ইউনিয়নের বালুর টেন্ডার স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর কব্জায় ছিলো। তবে, স্বৈরাচার সরকার আওয়ামী লীগ পতনের পর অনেকেই আত্মগোপনে চলে যায়, এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কব্জায় রাখতে পারিনি বলে তাদের ২৫% শেয়ার বিক্রি করে দেন। ঐ স্থানের টেন্ডারকৃত বালুর স্থানের ২৫% শেয়ার বিক্রি করে দেন, এদিক বালুর স্থান থেকে ২৫% শেয়ার ক্রয় করে গাড়াদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে এম,এ হালিম ও কৃষকদল নেতা আবু বক্কার সিদ্দিক-সহ কয়েকজন মিলে। ২৫% শেয়ার ক্রয় করার স্ট্যাম্প এবং বিক্রিতাদের ও স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষর সংবলিত ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বালুর স্থানের ২৫% শেয়ার ক্রয় করার সত্যতা প্রমাণিত হয়।
তবে, ঐ ২৫% শেয়ার ক্রয় করায় এবং টেন্ডারকৃত বালুর গদির লালসায় পড়ে যায় জব্বার! এরপরে জব্বারের দুই ছেলে ইমন ও লিমন এম,এ হালিম খানের বালুর গদিতে গিয়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে এবং চাঁদা না দিলে বালুর গদিতে দখলে নিবে বলে জানায়।
এমতাবস্থায়, এম,এ হালিম খান চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন এবং লিমন ও ইমনকে বলেন,তোমরা চলে যাও আমি কোন চাঁদা দিতে পারবো না আর এবিষয়ে,জব্বারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবো।
জব্বারের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ার জের ধরে গত ২৭/০৮/২৪ ইং তারিখে বিকালে ক্ষিপ্ত হয়ে জব্বার ও তার দুই ছেলে-সহ পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তালগাছি বাজার এম,এ হালিম খানকে একটি চা স্টলে পেয়ে যায়, এমতাবস্থায় চাঁদা না দেওয়ার কারণে জব্বার অকাথ্য ভাষা গালাগালিজ করতে থাকে, এক পর্যায়ে এম,এ হালিম খান গালাগালিজ করতে নিষেধ করলে এবং কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জব্বারকে কেন চাঁদা দিবে, এমন কথা বলার সাথে সাথেই এম,এ হালিম খানকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে এতে করে হালিম খানের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ভাবে জখম হয় এবং ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার প্যান্টের পকেটে থাকা ৩৫ হাজার টাকা জব্বার ও তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে চলে যায়। হালিম খানের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আসেপাশের লোকজন মিলে তাকে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পোতাজিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
এবিষয়ে, জব্বার তার দুই লিমন ও ইমনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখতে অভিযোগ দায়ের করেন হালিম খান। তবে, অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি, কারণ জব্বারের খুব ঘনিষ্ঠ ছিল তৎকালীন ওসি আসলাম আলী।।।
এর আগেও দখলবাজ জব্বার গাঁড়াদহ ইউনিয়নের মহেশপুরে প্রায় তিন কোটি টাকার বালুর গদি/স্থান জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সরকারি টেন্ডারের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল খুশি মত বালু বিক্রির করে, সূত্র জানায়, দখলকৃত বালুর গতি থেকে আনুমানিক প্রায় ৪ কোটি টাকার বালু বিক্রি করে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান,
স্বৈরাচারের আওয়ামী লীগের দোসর ও গাড়াঁদহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুলের সঙ্গে মোট অংকের টাকার বিনিময়ে স্বৈরাচারের দোসর এর সঙ্গে সমঝোতার চুক্তি করে জব্বার।
এছাড়াও শাহজাদপুরের বেশ কয়েকটি ইট ভাটা মালিকদের থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেছে।
সবুজ বাংলাদেশকে গাড়াঁদহ গ্রামের এক বৃদ্ধ কৃষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, স্বৈরাচার সরকার আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকেই শুরু হয়েছে জব্বারের চাঁদাবাজি ও দখল বানিজ্য! তিনি আরো বলেন, গাঁড়াদহ ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধ ভাবে বালু কেটে বিক্রি করে ব্রিজের পিলার আগলা করে ফেলেছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। তবে, ভয়ে জব্বারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয় না। কারণ যে তার এ-সব চাঁদাবাজি ও দখল বানিজ্যের বিষয়ে কথা বলেছে তাকেই কোন না কোন ভাবে জব্বারের ভয়ংকর ফাঁদে ফেলেছে।
এদিকে, ৫ আগস্টের পর তালগাছ হাট ও নিজের দখলে নিয়ে নেয় জব্বার! এছাড়া অভিযোগ পাওয়া যায়,গাড়াঁদাহ ইউনিয়নের বকুল তলা বাসস্ট্যান্ডে তার ব্যক্তিগত যে অফিস রয়েছে সেটিও নিজের দখলে নিয়ে নেয়।
এছাড়াও শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ীতে অবস্থিত প্যারামাউন্ট বিট্রাক এনার্জি লিমিটেড (PBEL) পজেক্টে লুটপাটে কোটি টাকা বানিজ্য করার অভিযোগও রয়েছে জব্বারের বিরুদ্ধে।
স্বৈরাচার সরকার পতনের কিছুদিন আগে বিএনপির দলীয় এক অনুষ্ঠানে কান্নাসূরে বলেছিল, আমার পরিবার বড় হয়ে গেছে, আয় ইনকাম কমেছে। সাড়ে সাত বিঘা আমি জমি বিক্রি করেছি। বিক্রি করতে যায়া দেখা যায়, আওয়ামী লীগের লোকজন বলে ও জমি নিওনা আবার কেউ কেউ বলে ও জমির আমি বায়না দিয়েছি এভাবে ষড়যন্ত্রের শেষ নাই।দুঃখের কথা কি বলবো আমার একটা নাতী আছে একটা নাতনী আছে ওরা চায় মাছ ভাত খাইবো আমি নিয়ে দেই ডিম দিতে পারি না খাওয়াইতে পারি না। চাঁদাবাজি করতে পারি না, কেউ দুইটা টাকা আমাকে দেয় না। ব্যাংক আমাকে লোন দেয় না সমিতি আমাদের কে কিস্তিতে টাকা দেয় না!এভাবেই জব্বারের দুঃখ কষ্ট প্রকাশ করে।
তবে,৫ আগস্টের পর কোন এক অদৃশ্য ছোঁয়ায় জব্বার হঠাৎ কোটিপতি বনে গেছে।
৫ আগস্টের পর জব্বারের মালিকায় পাবনা চাটমোহর টু গাজীপুর মাওনা স্কয়ার মাস্টার বাড়ী বিলাশ বহল চেয়ার কোচ সার্ভিস আরজু এন্টারপ্রাইজ নামক তিনটি চেয়ার কোচ বাস কিভাবে কিনলো? এছাড়াও নিজেও কিনেছে ব্যক্তিগত গাড়ী এছাড়াও তার চলাফেরা দেখেই বুঝা যায় তিনি নব্য কোটিপতি! জব্বারের ক্ষমতার দাপটে নিজ দলেরও অনেক নেতা কর্মীও কথা বলার সাহস পায় না।
তার এমন হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার বিষয়ে,স্থানীয় কৃষক দল নেতা আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, জব্বারসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এই গাড়াঁদহ ইউনিয়নের মাটি, বালি, হাট, দখল ও বাঘাবাড়ীর পজেক্ট থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করায় শাহজাদপুর ও গাঁড়াদহ ইউনিয়ন এক আতঙ্কের নাম চাঁদাবাজ জব্বার!
এভাবেই জব্বারের নীরব চাঁদাবাজি ও দখল বানিজ্যের শিকার হয়েছে অসংখ্য ভুক্তভোগী ! তবে,দেখার যেনো কেউ নাই।
জব্বারের বিরুদ্ধে উপরোক্ত তথ্য প্রমাণ সবুজ বাংলাদেশের অফিসে সংরক্ষিত আছে।
এবিষয়ে, জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে একাধিক বার চেষ্টা করেও তার দেখা পাওয়া যায়নি, এছাড়াও তার মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাঁদাবাজ জব্বারের অপকর্মের তথ্য সংগ্রহে সবুজ বাংলাদেশের অনুসন্ধান চলমান,পরবর্তী - (দ্বিতীয় পর্ব)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত