মিজানুর রহমান, শেরপুরঃ
অল্প পরিশ্রম, খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতায় প্রতি বছরই বাড়ছিল ভুট্টা চাষ। ফাল্গুনের শেষে গতকাল এক দিনের শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক চাষি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টার সব গাছ ভেঙে এখন চাষিদের মাথায় হাত ওঠার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৩৩০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। দিন দিন ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কমতে থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কম পানিতে রবিশষ্য চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হতো। এছাড়া কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হতো। ধানের চেয়ে ভুট্টার চাষ লাভজনক। ফলে বন্যা পরবর্তী সময়ে অল্প পরিশ্রম ও খরচে লাভ বেশি হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে ভুট্টা চাষ করে আসছিলেন চাষিরা।
গতকাল ১৪ মার্চ রাতে উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুট্টার গাছ ভেঙে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অপরিপক্ক ভুট্টা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিলাবৃষ্টির কারণে প্রতি বিঘা জমিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকার ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক ভুট্টা চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা কামনা করছেন। ঝিনাইগাতী সদর উপজেলার প্রতাবনগর গ্রামের কৃষক রাজিবুল ইসলাম রাজিব বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৫ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে ক্ষেতের অধিকাংশ ভুট্টা গাছ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে।
এভাবে যদি আরও বাতাস বইতে থাকে তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবো কিভাবে? নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে পড়বে বর্গাচাষিরা। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা না করলে পথে বসতে হবে। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, উপজেলার প্রায় ১০ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত