মো: জুয়েল হোসেন, সিরাজগঞ্জঃ
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকে পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও প্রতারণার অভিযোগে তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বগুড়া জেলার শেরপুর থানার কৃষ্ণপুর নামাপাড়া এলাকার মো. সোহেল মিয়া (৩৪), ধুনট থানার চালাপাড়া এলাকার মো. বাদশা আকন্দ (৫০) এবং শেরপুর থানার খানপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. রিপন (২২)।
পুলিশ জানায়, প্রতারক চক্রটি সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে ০১৮৮৫-৩৫২৫৬৪ ও ০১৯৯৮-১০০৮৭৬ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে বিভিন্ন শাড়ি ও লুঙ্গি ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা নিজেদের পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে ঈদের সম্মানীর কথা বলে চাঁদা দাবি করত। একই কৌশলে জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের চেষ্টা চালাত। এক পর্যায়ে বিষয়টি সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)-এর নজরে আসে। পরে তিনি প্রতারকদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সার্কেল) মো. নাজরান রউফ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানে ডিবির এসআই মো. শারফুল ইসলাম, এএসআই মো. পলাশ হোসেন, এএসআই বৃন্দাবন রায়, এএসআই মো. আশরাফুল আলম এবং সিরাজগঞ্জ থানার এসআই মামুন মিয়া অংশ নেন। অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি আইটেল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং নগদ তিন হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে জেলার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তারা চাঁদা দাবি ও আদায় করত। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, সরকারি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করেন না। এ ধরনের কোনো দাবি পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় অথবা পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত