নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের একজন ফায়ার ফাইটার মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে সচিবালয়কেন্দ্রিক তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজে-কলমে ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত থাকলেও বাস্তবে তিনি সচিবালয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে একটি প্রভাবশালী চক্রের অংশ হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে বিভিন্ন সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতার মাধ্যমে বদলি, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের নামে তদবির পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও প্রভাব খাটিয়ে চাকরিতে বহাল ছিলেন। এ সময়ে তাকে সচিবালয়ে অবাধ যাতায়াত করতে দেখা গেছে, যা সাধারণ ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র আরও জানায়, তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভ্যন্তরীণভাবে অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে অনেক কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি। বরং কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
লালবাগ ফায়ার স্টেশনে সংযুক্ত থাকাকালীন সময়েও তিনি অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন না করে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বৈঠক, যোগাযোগ ও তদবির নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন বলে জানান একাধিক সহকর্মী।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি একাধিক দামী মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন, যা তার সরকারি বেতনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে। নিয়মিত বিমানযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত, রাজধানীর অভিজাত রেস্টুরেন্টে বৈঠক ও আড্ডা—এসব কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
এছাড়া বিভিন্ন নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এবং সেটিকে প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নিজের অবস্থান শক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের আরেকটি দিক হলো, বদলি ও পদোন্নতির তদবিরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা দরকার। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সৎ ও দায়িত্বশীল সদস্যদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত