স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলভিত্তিক সক্রিয় রাজনীতির কারণে সভাপতি পদে আলোচনায় উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক নির্বাচিত কমিশনার আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন খোকনের নাম।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বর্তমানে সংগঠন পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মোশারফ হোসেন খোকন সভাপতি পদে অন্যতম শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি লালবাগ থানা এলাকার সাবেক ৬০ নম্বর ও বর্তমান ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের টানা তিনবারের নির্বাচিত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাধারণ নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ৬০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও বৃহত্তর লালবাগ থানা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের টানা ২০ বছরের সফল নির্বাচিত কমিশনার হিসেবেও পরিচিত তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিগত দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্য মামলা, জেল-জুলুম ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হলেও মোশারফ হোসেন খোকন কখনও রাজপথ ছাড়েননি। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তিনি গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে ৬ আগস্ট ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনের পর মুক্তি লাভ করেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে তাকে সম্মুখসারিতে দেখা গেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, লালবাগ, চকবাজার ও কামরাঙ্গীরচর-এই তিন থানায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
এ বিষয়ে মোশারফ হোসেন খোকন বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে একটি সুসংগঠিত, আধুনিক ও জনবান্ধব মহানগর বিএনপি গড়ে তুলতে চাই। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করা হবে। তিনি আরও বলেন,ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে শিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর ইউনিট গড়ে তোলা হবে। তরুণ সমাজকে জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে।
সভাপতির দায়িত্ব পেলে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, তরুণদের সম্পৃক্ত করে প্রযুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিএনপিকে আরও জনসেবামূলক সংগঠনে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি বেকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
মোশারফ হোসেন খোকন মনে করেন, তৃণমূলকে শক্তিশালী না করলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও কার্যকরভাবে সফল হতে পারে না। তাই পারস্পরিক সম্মান, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতৃত্ব হিসেবে আগামী দিনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে মোশারফ হোসেন খোকনকে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত