বিশেষ প্রতিবেদকঃ
দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কিছু নামসর্বস্ব এবং অনিয়মিত পত্রিকার কারণে প্রতিনিয়ত কলঙ্কিত হচ্ছে মূলধারার সাংবাদিকতা। কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা, ন্যূনতম প্রশিক্ষণ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই টাকার বিনিময়ে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে দেদারসে বিতরণ করা হচ্ছে স্টাফ রিপোর্টার কিংবা প্রতিনিধির আইডি কার্ড। ফলে প্রকৃত ও শিক্ষিত সাংবাদিকরা যেমন পেশাগত মর্যাদার সংকটে পড়ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে এসেছে The Weekly Ajker Jonokotha (আজকের জনকথা) নামক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড)। যেখানে মোঃ আবু সাঈদ নামের এক ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানটির স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে (কার্ড নং: ০০৮৯-২৬)। স্থানীয় ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সার্টিফিকেট না থাকা সত্ত্বেও এই ব্যক্তিকে এমন একটি দায়িত্বশীল পদের কার্ড দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মফস্বল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত এমন অসংখ্য নামসর্বস্ব পত্রিকা রয়েছে, যাদের নিয়মিত কোনো প্রকাশনা বা পাঠকপ্রিয়তা নেই। অনলাইন বা প্রিন্টের নামে এরা মূলত কার্ড বাণিজ্য করে থাকে। এসব কার্ডধারী কথিত সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সচেতন সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন,
সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পেশা। এখানে বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতার প্রয়োজন। কিন্তু কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তিদের হাতে যখন প্রেস (PRESS) লেখা আইডি কার্ড তুলে দেওয়া হয়, তখন তারা সাংবাদিকতার অপব্যবহার করে। এদের কারণে সৎ এবং শিক্ষিত সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কঠোর ব্যবস্থার দাব সচেতন মহল এবং মূলধারার সাংবাদিকরা মনে করেন, এই সমস্ত নামসর্বস্ব ও নীতিহীন পত্রিকার বিরুদ্ধে তথ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং পিআইবিসহ (প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
যেকোনো গণমাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যাকগ্রাউন্ড কঠোরভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। যেসব পত্রিকা অর্থের বিনিময়ে বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে কার্ড বিতরণ করছে, তাদের ডিক্লারেশন (নিবন্ধন) বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অপসাংবাদিকতার এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে সাংবাদিকতার গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত