ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধি একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের: মাসিক সম্মানী ভাতা মোট ৮,০০০ টাকা (সরকারি অংশ ৩,৬০০ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ অংশ ৪,৪০০ টাকা)। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা সর্বমোট ১০,০০০ টাকা।বছরে ১০,০০০×১২ = ১,২০,০০০ টাকা। যেহতু একজন চেয়ারম্যানের মেয়াদ স্বাভাবিক ভাবে ৫ বছররের হয়ে থাকে, সেহেতু একজন চেয়ারম্যানের ৫বছরে মোট সম্মানী ভাতা ৫×১,২০,০০০= ৬,০০,০০০ টাকা। ধরে নেই অন্যান্য সকল সুবিধা আরো ১০,০০,০০০ টাকা সর্বমোট ১৬,০০,০০০( ১৬ লক্ষ) টাকা। এখন আসি মূল কেন্দ্রে চেয়ারম্যান হতে খরচ, মনোনয়ন বাবদ ২০/৩০ লক্ষ টাকা, নির্বাচন খরচ আরো ২০/৩০ লক্ষ টাকা সর্বমোট ৫০/৬০ লক্ষ টাকা। যেহেতু আয় ১৬লক্ষ, খরচ ধরে নেই ৫০ লক্ষ টাকা তাহলে ঘাটতি ৩৪ লক্ষ টাকা! তাহলে এই ৩৪ লক্ষ টাকা চুরি নাকি দুর্নীতি? মেয়াদ শেষে দেখি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছের মতো, অবস্থার পরিবর্তন প্লাস আবার ও নির্বাচন করতে আগ্রহী।
চেয়ারম্যান বা জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি হলো ব্যক্তিগত বা দলীয় লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার। এর মধ্যে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার। একজন চেয়ারম্যানের সাধারণ দুর্নীতি গুলো, দুস্থদের ভিজিএফ (VGF), ভিজিডি (VGD), রিলিফের চাল, গম ও আর্থিক অনুদান প্রকৃত হকদারদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বা স্বজনদের মাঝে বিতরণ করেন। রাস্তাঘাট নির্মাণ, সংস্কার বা কালভার্ট তৈরির সরকারি বরাদ্দের কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন।জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সনদ বা ট্রেড লাইসেন্স প্রদানে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। সালিশ বা গ্রামের বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করা এবং এক পক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুবিধা, কাজের সুযোগ বা অনুদান নিজের পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক ইউনিটের প্রধান নির্বাহী। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, রাজস্ব আদায়, বাজেট প্রণয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিসহ ইত্যাদি ইত্যাদি । জনগণের অধিকার হলো রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত কিছু মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতা, যা ছাড়া একজন মানুষের স্বাভাবিক বিকাশ ও সম্মানজনক জীবনযাপন অসম্ভব যা একজন স্থানীয় সরকার বা চেয়ারম্যান প্রদত্ত।
পরিশেষে বলতে চাই আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই যিনি হবেন সৎ, যোগ্য, স্বচ্ছ, এবং জনকল্যাণে নিবেদিত। তিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়ন করবেন, সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করবেন এবং যেকোনো সমস্যা সমাধানে সর্বদা জনগণের পাশে থাকবেন। দুর্নীতিমুক্ত থেকে সরকারি সম্পদ ও তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকবে।যেকোনো প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ যেন তাকে খুব সহজেই কাছে পায়। কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে সব মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করবেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। উন্নয়নমূলক কাজ যেমন রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করবেন। সরকারি সুবিধা যেমন: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, এবং ত্রাণের মতো সরকারি সাহায্য প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেবেন। বিরোধ নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান করবেন ইত্যাদি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত