নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চীনে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীদের বহু বছরের সাংগঠনিক লড়াই, ত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের ইতিহাসকে যেন হঠাৎ করেই গ্রাস করতে বসেছে হাইব্রিড অনুপ্রবেশ। চায়না বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তি, ক্ষোভ, সন্দেহ ও অন্তর্দ্বন্দ্বের ঘন কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মোঃ আসিফ হক রূপু এবং সাখাওয়াত হোসেন কাননকে ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগ ও গুঞ্জন পুরো সাংগঠনিক পরিমণ্ডলকে রীতিমতো উত্তপ্ত করে তুলেছে।
প্রবাসী নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বিগত সময়ে এই দুই ব্যক্তি প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় উদযাপন, দলীয় সমাবেশ ও সরকারঘনিষ্ঠ কার্যক্রমে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রেখেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একাধিক ছবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ততা এবং আওয়ামীপন্থী বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থানের নানা তথ্য ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের ভেতরে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অথচ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টাতেই তারাই এখন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দলের ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীরা। চায়না বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের বহু নেতাকর্মীর বলেন, যারা দুঃসময়ে রাজপথে ছিল না, যারা একসময় ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেছে, আজ তারাই যদি হঠাৎ করে বিএনপির আদর্শিক সৈনিক সেজে নেতৃত্বের মঞ্চে উঠে জায়গা দখল করে বসে তাহলে সেটা আমাদের জন্য হতাশার ও লজ্জার। তারা আরও বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ, রাজনৈতিক নিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে অবমূল্যায়নের দৃষ্টান্ত এই হাইব্রিড অনুপ্রবেশ।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, চায়না বিএনপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী ইউনিটকে কেন্দ্র করে এখন হাইব্রিড রাজনীতির বিস্তার লাভ করছে। রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, অবস্থান বদলের কৌশল এবং লবিং-তদবিরের সমন্বয়ে কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংগঠনিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার নেপথ্য মেতে উঠেছেন। আর এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংগঠনের ভেতরে আদর্শিক বিভাজন, আস্থাহীনতা এবং সাংগঠনিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত বছরগুলোতে যারা আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে ঘুরে বেড়িয়েছে, সুবিধা নিয়েছে, নীরব থেকেছে কিংবা রাজনৈতিকভাবে দ্বৈত অবস্থান বজায় রেখেছে তাদের হঠাৎ করে বিএনপির কাণ্ডারী বানানোর চেষ্টা অত্যন্ত রহস্যজনক। প্রবাসী বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চায়না বিএনপির কমিটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ভেতরে ভেতরে কয়েকটি প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব গ্রুপের কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে, আবার কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের সিন্ডিকেটকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ফলে প্রকৃত ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদের একটি বড় অংশ ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, চায়না বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যদি রাজনৈতিক অতীত, আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততা, দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো কঠোরভাবে বিবেচনায় না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাংগঠনিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এমনকি এর প্রভাব কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও নেতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত