নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টেন্ডার বাণিজ্য, অতিরিক্ত বিল, বদলি-পোস্টিং সিন্ডিকেট, প্রকল্পে লুটপাট,সব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমান!সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ),যেখানে রাস্তা হওয়ার কথা জনগণের জন্য, সেখানে নাকি বছরের পর বছর রাস্তা তৈরি হয়েছে কমিশন আর সিন্ডিকেটের জন্য! আর এই অদৃশ্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরপাক খাচ্ছে এক নাম,অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, সওজের ভেতরে তিনি এমন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে টেন্ডার থেকে বদলি, বিল ছাড় থেকে প্রকল্প অনুমোদন,সবকিছুতেই ছিল তার অদৃশ্য রিমোট কন্ট্রোল। সওজে নাকি তখন অলিখিত নিয়ম ছিল,আজাদের সবুজ সংকেত ছাড়া বড় ফাইলের পাতাও নড়ে না!অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে বাস্তব অগ্রগতি কম হলেও ঠিকাদারদের নামে পাশ হয়েছে কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল। কাজের মান কেমন, রাস্তা টিকবে কি না,এসব যেন ছিল গৌণ বিষয়। মূল লক্ষ্য ছিল কার ভাগে কত যাবে সেই হিসাব মিলানো! সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র প্রক্রিয়াকেই বানানো হয়েছিল প্রহসন।প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানকে ভয়ভীতি, ফাইল আটকে দেওয়া, কমিশন ছাড়া বিল না ছাড়ার অভিযোগও ঘুরছে সওজের করিডোরে। যেন সরকারি অফিস না, এক অদৃশ্য কমিশন মার্কেট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন,সওজে এমন এক ভয়ঙ্কর প্রভাববলয় তৈরি হয়েছিল যেখানে বদলি-পদায়নও ছিল সোনার ডিম পাড়া হাঁস। কে কোন জেলায় যাবে, কে লাভজনক প্রকল্প পাবে, আর কে কোন চেয়ারে বসবে,সবকিছুর নেপথ্যে নাকি ছিল সিন্ডিকেটের হিসাব-নিকাশ।
শুধু প্রশাসনিক ক্ষমতা নয়,অভিযোগ উঠেছে সম্পদের পাহাড় গড়ারও।রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট,জমি, গ্রামের বাড়িতে অস্বাভাবিক সম্পদ,সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি চাকরির বেতনে এত বিপুল সম্পদের উৎস কোথায়,সেই প্রশ্নের জবাব অবশ্য আজও কুয়াশার আড়ালেই। পুরনোদের ভাষ্য, ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময়ও এই নামটি আলোচনায় এসেছিল। সাময়িক ঝড় গেলেও পরে আবারও ক্ষমতার করিডোরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। যেন প্রশাসনের ফিনিক্স পাখি অভিযোগ যত আসে, প্রভাব তত বাড়ে! সূত্র বলছে, নিম্নমানের কাজকে সন্তোষজনক দেখিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া,অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্পের বাজেট ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।উন্নয়নের নামে যেন চলেছে উন্নতমানের লুটপাট! আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত সাংবাদিক-ঠিকাদার সিন্ডিকেট নিয়েও।
অভিযোগ রয়েছে, আজাদের বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলেই কিছু সুবিধাভোগী সাংবাদিক নড়েচড়ে বসতেন। কেউ ফোন করে চা খাওয়ার দাওয়াত কেউ ভাই একটু বসেন বলে তদবির, আবার কেউ সরাসরি প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার মিশনে নামতেন। যেন সংবাদপত্র নয়, টেন্ডার অফিসেরই আরেকটি শাখা! রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের ভেতরে পুরনো দুর্নীতির নেটওয়ার্ক আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই সিন্ডিকেট এখন সওজের ভেতরেই আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, শুধু বদলি বা সাময়িক শাস্তি দিয়ে এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত, সম্পদের হিসাব যাচাই, প্রকল্পভিত্তিক অডিট এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা। নইলে উন্নয়নের নামে লুটপাটের এই সংস্কৃতি একসময় পুরো ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করবে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত