তাছলিমা তমাঃ
জেলার আশুলিয়ার বহুল আলোচিত পুকুরে ভাসমান যুবক হাসিবুল ইসলাম জনি হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর মামলার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে আশুলিয়া থানার মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) নামে এক যুবককে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ স্থানীয় নাজমুল হোসেনের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার চার দিন পর পুকুরে জনির অর্ধগলিত মরদেহ ভেসে উঠলে পুলিশ তা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই ঢাকা জেলা অধিগ্রহণ করে এবং তদন্ত শুরু করে। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম-সেবা’র তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. শাহ জালাল সরকার (২৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শাহ জালাল সরকারকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বের ক্ষোভের জের ধরে জনিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন জনি তার দুই বন্ধু সোহাগ ও রানাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আসামিরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলে সোহাগ ও রানা পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে আসামিরা জনিকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যা করে এবং মরদেহ পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ বলেন, ঘটনার পর থেকেই পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অবশেষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, মামলার অন্যান্য জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত